নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ১৩ আগস্ট ২০১৭, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৩৮
জনতার মত
মাদার তেরেসা ঃ আর্তমানবতার সেবার পথনির্দেশক
মানিক লাল ঘোষ
১৯৯২ সালে ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ফেডরিকো পুরস্কারপ্রাপ্ত যে মহীয়সী নারীকে 'বিশ্বের সকল মায়ের প্রতীক' হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন, এই পৃথিবীতে যিনি ছিলেন অসহায়, অসুস্থ, পরিত্যক্ত শিশুদের মাতা, যার হৃদয় ছিল ভালোবাসায় পরিপূর্ণ, অফুরন্ত ভালোবাসার কারণে যাকে বিশ্বমাতার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছিল সেই মহীয়সী নারী মাদার তেরেসা। ১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় মমতার অফুরন্ত ভান্ডার উজার করে কোন কোন নারী তাদের মাতৃত্বের ভালোবাসা ছড়িয়ে দেন বিশ্বব্যাপী। তাদের এ ভালোবাসায় থাকে না ধনী-গরিব, সাদা-কালো, অঞ্চল বা ভৌগোলিকতার সীমারেখা, সেই নিখাদ ভালোবাসায় থাকে না কোন ধর্মভিত্তিক বৈষম্যের ছোঁয়া। মাদার তেরেসা ছিলেন তেমনি একজন মহীয়সী নারী। তিনি সব সময়ই বিশ্বাস করতেন- ঞযব ভৎঁরঃ ড়ভ ংরষবহপব রং ঢ়ৎধুবৎ, ঃযব ভৎঁরঃ ড়ভ ঢ়ৎধুবৎ রং ভধরঃয, ঃযব ভৎঁরঃ ড়ভ ভধরঃয রং ষড়াব, ঃযব ভৎঁরঃ ড়ভ ষড়াব রং ংবৎারপব, ঃযব ভৎঁরঃ ড়ভ ংবৎারপব রং ঢ়বধপব। আর তাই 'আর্তজনে সেবা কর, দুঃখী জনে সেবা কর' এ বাণীকে সামনে রেখে ৫০ বছরের অধিক সময় তিনি ব্যয় করেছেন আর্তমানবতার সেবায়। ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গরিব দুঃখী, অসহায়, অনাথদের সেবা দিয়ে গেছেন নিরলসভাবে। শান্তি আর কল্যাণের পথে পরিচালিত সেই দৃষ্টান্ত আজ আমাদের মানব সেবার পাথেয়। মহীয়সী মাদার তেরেসা মানব সেবায় আজ তাই আমাদের সকলের আদর্শ, আর্তের ভালোবাসার চিরন্তন প্রতীক।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির সোঁদা মাটির গন্ধেও আজ মিশে আছে এই মহীয়সী নারীর নাম। ভালোবাসা আর মমতার অফুরন্ত ভান্ডার উজার করা তার কোমল হাতের পরশ লেগেছে এ দেশেও। ১৯৫০ সালে দ্বাদশ পোপ পাইয়াসের কাছ থেকে অনুমোদন লাভ করে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিশ্ববিখ্যাত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান 'মিশনারিজ অব চ্যারিটি'। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এ সংস্থাটি বিশ্বের ১২৯টি দেশে সেবা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বাংলাদেশেও স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় 'মিশনারিজ অব চ্যারিটি'। বর্তমানে বাংলাদেশের আওতাধীন ১০টি আশ্রম বা সেবাকেন্দ্র আছে। এর মধ্যে তেজগাঁওয়ের 'নির্মল হৃদয় আশ্রয়', ঢাকার অদূরে টঙ্গীর নিকটবর্তী 'স্নেহ ভবন', খুলনার খালিশপুরে এমসি ব্রাদার্সের আশ্রম ও ইসলামপুর শিশু ভবন উল্লেখযোগ্য। আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আহতদের সেবা প্রদানে মাদার তেরেসার অবদান অপরিসীম। ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর মাদার তেরেসা একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে বাংলাদেশে আসেন যুদ্ধাহত, অসহায়দের সেবা প্রদানের মহান ব্রত নিয়ে। তিনি যুদ্ধপরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এলাকায় পাকবাহিনীর হাতে নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শিশুদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। মাদার তেরেসা আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁর ভালোবাসা ও কর্মকা- সম্পর্কে বিশ্ববাসী অবগত। মাদার তেরেসা আলোর দিশারী, আলোর পথিক। আলোর বিপরীতে অন্ধকার। আর এই অন্ধকার জগতে আছে লোভ লালসা, হত্যা, ধর্ষণ, আছে মানবাধিকারের চরম বিপর্যয়। একই ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ। মানুষ মানুষকে যদি ভালোবাসতে না পারে তাহলে ঈশ্বরকে কি করে ভালোবাসবে? বিশ্ব শান্তি আজ বিস্মিত, ভাল নয় এই প্রিয় মাতৃভূমি মাদার তেরেসার স্মৃতিধন্য বাংলাদেশের সার্বিক চিত্রও।

বিশ্বজুড়ে জাতিতে জাতিতে আজ হানাহানি, সামপ্রদায়িকতার বিষ বাষ্পে দূষিত বায়ু, প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে লোভ লালসা, ছিনতাই-হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি প্রভৃতি সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। মাঝে মধ্যে মনে হয় আমরা যেন ডুবে যাচ্ছি প্রাগৈতিহাসিক অন্ধকারে। বিশ্বজুড়ে নৈতিকতার এ অবক্ষয় দূর করতে হবে। পিছনে নয়, এগুতে হবে সামনের দিকে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে অকল্যাণকর ও ধ্বংসাত্মক সকল কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে। এর জন্য প্রয়োজন আলোর দিশারী। প্রয়োজন আদর্শের। যাকে অনুকরণ করা যায়, যায় অনুসরণ করা।

মহীয়সী মাদার তেরেসার আর্তমানবসেবার দৃষ্টান্তই এ ক্ষেত্রে আমাদের হতে পারে একমাত্র পাথেয়। বাংলাদেশে রয়েছে মাদার তেরেসার অসংখ্য ভক্ত। মাদার তেরেসার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে কাজ করছে অনেক সামাজিক সংগঠন।

মাদার তেরেসার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আরও অনেক সংগঠন এগিয়ে আসবে মানবসেবায় এটাই আমাদের কামনা। মাদার তেরেসার আশীর্বাদ আমাদের সকলের উপর বর্ষিত হোক। অকল্যাণকর ও ধ্বংসাত্মক অন্ধকার দূর হোক। আলো হোক প্রজ্বলিত। সকলের হৃদয়ের অন্ধকার দূর হোক। আলোয় আলোয় আলোকিত হোক বিশ্ববাসী। মাদার তেরেসার জীবন দর্শন আমাদের অনুপ্রাণিত করুক। তার আশীর্বাদে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জাগ্রত হোক মানবতা।

মানিক লাল ঘোষ : সাংবাদিক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ২২
ফজর৪:১৮
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৩০
এশা৭:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৫
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২০৮০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.