নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৮ ভাদ্র ১৪২৬, ১২ মহররম ১৪৪১
চ্যালেঞ্জের মুখে মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ
রামপাল (বাগেরহাট) থেকে মোল্যা হাফিজুর রহমান
মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-প্রটোকল চ্যানেলটি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। পুনরায় দেখা দিতে পারে নাব্যতা সংকট। বিআইডবিস্নউটিএ-এর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার অভাবে নানা মুখি চ্যালেঞ্জ ও সংকটে পড়তে পারে ওই নৌ-চ্যানেলটি। এমনটি দাবি করেছেন বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রত নিরসন করা না গেলে হুমকির মুখে পড়বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটটি। এতে সুন্দরবন, মোংলা বন্দর, নদী-খালের পানি প্রবাহ ব্যাহত ও পরিবেশ-প্রতিবেশের উপর মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

চ্যানেলটি খনন সংশ্লিষ্ট বিআইডবিস্নউটিএ ও স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ০৯-০১-২০১৪ সালে সুন্দরবনের শেলা নদীতে ফার্নেস অয়েলবাহী ট্যাংকার ডুবির পর তেল ছড়িয়ে পড়ে সুন্দরবনে।

এরপর দেশি-বিদেশি পরিবেশবাদীরা ওই নৌপথ বন্ধের জন্য আন্দোলন শুরু করেন। সরকার সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও এ এলাকার পরিবেশ-প্রতিবেশের গুরুত্ব বিবেচনা করে মোংলা-ঘষিয়ালী নৌপথটি দ্রুত খনন শুরু করে। গত ইং ০১/০৭/২০১৪ তারিখ থেকে কাজটি বাস্তবায়ন শুরু করে বিআইডবিস্নউটিএ। এ পর্যন্ত ঐ সংস্থা নদী ড্রেজিং করে প্রায় ৩ কোটি ঘন মিটার (২ কোটিস ৮১ লাখ) মাটি খনন করে উত্তোলন করে।

নাব্যতা সংকট রোধে বিআইডবিস্নউটিএ ও বাংলাদেশ নেভীর মোট ৫টি ড্রেজার সার্বক্ষণিক মাটি খনন কাজে নিয়োজিত রয়েছে। গত ইং ০৬/০৫/২০১৫ তারিখ থেকে চ্যানেলটিতে নৌ-যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। পূর্ণ জোয়ারের সুবিধা নিয়ে ৮ ফুট থেকে ১২ ফুট ড্রাফটের কার্গো ও ভেসেল চলাচল করে। বিআইডবিস্নউটিএ-এর কর্মকর্তারা জানান, চ্যানেলটি খুলে দেয়ার পর এ পর্যন্ত ছোট বড় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার নৌ-যান চলাচল করেছে। বর্তমানে ভাটার সময় ১২ থেকে ১৪ ফুট ও জোয়ারের সময় ২০ থেকে ২৪ ফুট গভীরতায় পানি থাকে।

চ্যানেলের দুই পাড়ে বারবার মাটি প্রতিস্থাপনের ফলে বেশ কয়েকটি স্থানে টিলার মতো উঁচু হয়ে গেছে। এতে ড্রেজিংকৃত মাটি প্রতিস্থাপন প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পশুর নদীর মুখ হতে জয়খা পয়েণ্ট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকায় দুই পাড়ে মাটি ফেলার জায়গার অভাব চরম আকারে ধারণ করেছে। ওই স্থানের নদীর তলদেশে পলি পড়ে দ্রুত ভরাট হচ্ছে। যে কারণে অবিরাম ড্রেজিং করে নাব্যতা রক্ষা করা হচ্ছে। অপরদিকে চ্যানেলের অন্যপাশে ঘষিয়াখালী পয়েন্টে সাড়ে ৩ কিলোমিটার নদীর দুই পাড়ে বিআইডবিস্নউটিএ-এর বা সরকারি জায়গা না থাকায় মাটি ফেলা সম্ভব হচ্ছে না। এতে খনন কাজ মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। ভরাটকৃত ডাইকের মাটি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে না পারলে ড্রেজিং কার্যক্রম যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড টাইডাল বেসিন নির্মান, চ্যালেন সংলগ্ন শাখা নদী ও শাখা খাল দ্রুত খনন করে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি করতে না পারলে আবারও পলি পড়ার হার বেড়ে যেতে পারে।

পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, মাটি ফেলার জায়গা তৈরি, টাইডাল বেসিন নির্মাণ, শাখা নদী ও শাখা খাল দ্রুত খনন, চ্যানেল পাড়ের স্তূপকৃত মাটি দ্রুত সরিয়ে নেয়া, বিশেষ করে মোংলা বন্দরে পশুর নদীর থেকে জয়গা পর্যন্ত স্তূপকৃত মাটি সরিয়ে ফেলা খুবই জরুরি। এটা না করা হলে ড্রেজিং কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। এক তথ্যে দেখা গেছে প্রতি বছর সংরক্ষণ ড্রেজিং ও প্রশস্তকরণের জন্য যে ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে তা ব্যাপক কাটছাট করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এমন অগ্রাধিকার প্রকল্পে ব্যয় কাটছাট করা হলেও গত প্রায় ৫ বছর ধরে দ্বিমুখী নৌ-যান চলাচলের জন্য চ্যানেল প্রশস্তকরণের কার্যক্রম সন্তোষজনকভাবে এগোয়নি। এটি বিআইডবিস্নউটিএ-এর ব্যর্থতা কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে মতো দিয়েছেন অনেকে।

এ ব্যাপারে পরিবেশ সুরক্ষায় উপকূলীয় জোটের আহ্বায়ক এডভোকেট শাহনেওয়াজ বাবুল এ প্রতিবেদককে জানান, সুন্দরবন সুরক্ষা, মোংলা বন্দর, জীব বৈচিত্র্য ও এ এলাকার পরিবেশ-প্রতিবেশ সুরক্ষা এবং মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার্থে চ্যানেলটির নাব্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। এ জন্য টাইডাল বেসিন ও নেবিগেশন লকসহ যা যা করণীয় সেটি করতে হবে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে নদী গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএস-এর সিনিয়র স্পেশালিস্ট কামাল উদ্দিনের দৃষ্টি আর্কষণ করা হলে তিনি জানান, বর্তমান অবস্থায় চ্যানেলটির নাব্যতা ধরে রাখতে হলে চ্যানেল পাড়ের স্তূপকৃত মাটি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। তিনি আরও জানান, চ্যানেল সংলগ্ন নদী-খাল দ্রুত খনন সম্পন্ন, একাধিক টাইডাল বেসিন নির্মাণ, মোংলা থেকে জয়গা এলাকার বড় বড় খালে নির্মিত সস্নুইসগেট অপসারণ করতে হবে। জলাভূমিগুলো উন্মুক্ত করতে হবে।

সমস্যার বিষয়ে বিআইডবিস্নউটিএ-এর উপ-প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো. সাইদুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি সমস্যা সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ৭
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫০
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪১৬৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.