নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩০ ভাদ্র ১৪২৫, ৩ মহররম ১৪৪০
জনতার মত
সাধ এবং সাধ্যের সামঞ্জস্য থাকা উচিত
তুফান মাজহার খান
আমরা সবাই স্বপ্ন দেখি। কেউ বাড়ির স্বপ্ন, কেউ গাড়ির স্বপ্ন। আবার কেউবা দেখি ক্ষমতা আর প্রভাব-প্রতিপত্তির স্বপ্ন। আমরা স্বপ্ন দেখি বলেই সফলতার পথে হাঁটতে পারি। সফলতার মূলমন্ত্রই হলো স্বপ্ন। যে স্বপ্ন দেখতে জানে না সে সফলতার দেখাও পায় না। স্বপ্নই মানুষকে সফল হবার প্রেরণা দান করে। কেউ কেউ এমনও বলে থাকে যে, স্বপ্নই নাকি মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।

তবে আমরা প্রায়ই যে ভুলটি করি সেটা হলো স্বপ্ন আর বাস্তবতার আকাশ-পাতাল ব্যবধান করে ফেলি। আমার দ্বারা যে স্বপ্নটি সফল হবে না বা করা সম্ভব নয় জেনেও যখন আমরা সেসব স্বপ্নকে লালন করতে থাকি তখন তা আমাদের জন্য তা হয়ে যায় নেতিবাচক। যা সুফলের পরিবর্তে কুফলই বয়ে নিয়ে আসে আমাদের জীবনে। সেসব স্বপ্নকে আমরা বলি অলীক স্বপ্ন। অর্থাৎ যে স্বপ্ন কখনোই সফল করা সম্ভব নয় জেনেও আমরা তা দেখতে থাকি। অলীক স্বপ্ন মানুষকে সুখি করে না বরং দুঃখ আর না পাওয়ার হাহাকারে জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে।

মনে করুন, আপনার পকেটে দশ টাকা আছে। কিন্তু আপনি স্বপ্ন দেখছেন ফাইভ স্টার হোটেলে খাওয়ার। সেটা কি আদৌ সম্ভব? অবশ্যই না। সেটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই হবে না। আপনাকে বেলা শেষে তখন মুড়ি খেতে খেতেই বাড়ি ফিরতে হবে। অথচ আপনি যদি সেই দশ টাকাকে কাজে লাগিয়ে বিশ টাকা বানাতে পারতেন তাহলে অন্তত কিছুটা লাভবান হতেন। ফাইভ স্টার হোটেলের দিকে তাকিয়ে থেকে সময়ও নষ্ট হতো না আর আফসোসের ঝোলা কাঁধে নিয়ে ঘরেও ফিরতে হতো না।

এমন কিছু মানুষ আছে যারা মাস শেষে অল্প টাকা বেতন পাওয়া সত্ত্বেও তাদের চাহিদা থাকে অনেক। হাতে টাকা থাকাকালীন ধুমধাম খাওয়া-দাওয়া আর চলাফেরা করে মাসের অর্ধেক পার হতে না হতেই বেতনের টাকা সাবাড় করে ফেলে। তখন আবার করতে হয় ঋণ। অবশ্য প্রতি মাসে ঋণ করারও ব্যবস্থা থাকে না। তখন নুন আর পানতা খেয়ে দিনাতিপাত করতে হয়। অথচ সেই টাকা ধুমধাম খরচ না করে প্রথম থেকেই যদি সাধ্য অনুযায়ী পরিমিতি খরচ করা হতো তবে পুরো মাস কিন্তু মোটামুটি ভালোই চলে যেতো। ভাগ্য ভালো থাকলে কিছু টাকা বেঁচেও যেতে পারতো।

সবসময় আমাদের সাধ আর সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় থাকা উচিত। সাধ্যের চেয়ে বেশি সাধ থাকলে শেষে কষ্টকেই বরণ করতে হয়। শুধু এটাই নয়। বিশেষ করে যারা ব্যাচেলর থাকেন তাদের মুখে প্রায়ই এমন অভিযোগ শোনা যায় যে মাসের শেষের দিকে নাকি তাদের মানিব্যাগ পুরো ফাঁকা হয়ে যায়। তখন তাদের অবস্থা থাকে খুবই শোচনীয়। মূল বিষয় হলো মাসের প্রথম দিকে পকেট গরম থাকে বলে বিবেচনাহীনভাবে খরচ করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। যদি পরিমিত খরচ করে মাসের প্রথম থেকেই চলা যায় তাহলে কিন্তু অনায়াসে কোনো প্রকার কষ্ট-ক্লেশ ছাড়াই মাস কাটিয়ে দেয়া যায়। পকেটে টাকা না থাকলে যেমন মনও ভালো থাকে না তেমনি দুটো টাকা পাওয়ার ধান্ধায় অনেকে অনেক অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়তেও দ্বিধাবোধ করে না। যা একজন মানুষের কাছে সমাজ বা রাষ্ট্র কখনোই প্রত্যাশা করে না। আবার শুধু পকেট খালি থাকার দরুনই অনৈতিক কাজে কেউ জড়ায় তা নয়। বিশেষ কোনো চাহিদা থাকলে অথবা সাধ যদি সাধ্যের চেয়ে বেশি থাকে তাহলেও কিন্তু একজন মানুষ অনৈতিক কর্মকা-ে জড়াতে পারে।

তাই প্রতিটি মানুষের তার সাধ অবশ্যই সাধ্য অনুযায়ী হওয়া বাঞ্ছনীয়। এতে করে যেমন সবাই সুখে থাকবে তেমনি দেশ থাকবে নিরাপদ। ঘটবে না কোনো আইনবিরোধী কর্মকা-।

তুফান মাজহার খান : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৬
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৪সূর্যাস্ত - ০৫:১১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩১৬৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.