নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩০ ভাদ্র ১৪২৫, ৩ মহররম ১৪৪০
লেগুনা-নৈরাজ্যময় আমাদের রাস্তাঘাট : উত্তরণে প্রথমপাঠ
মোমিন মেহেদী
কিশোর আন্দোলন অথবা শিক্ষার্থী আন্দোলনের সূত্রতায় অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে বাংলাদেশের পুলিশ-প্রশাসন। কিন্তু ঝাপিয়ে নেমে এসেছে স্বেচ্ছাচারিতা, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি। বিশেষ করে বিশেষ অভিযান চালানোর নামে ট্রাফিক পুলিশ এ ধরনের গাড়ি ধরপাকড়ের উদ্যোগ নেয়ার নামে প্রশাসনে ক্রমশ বাড়ছে দুর্নীতির মাত্রা। চলছে অভিযান নামক আইওয়াশ। একদিকে অভিযান, অন্যদিকে সামান্য গতিতে গাড়ি চালালেই ইঞ্জিন থেকে চারদিকে ছড়াচ্ছে নিকষ কালো ধোঁয়া, দিকনির্দেশনা বাতির (ইন্ডিকেটর লাইট) কোনো অস্তিত্ব নেই, বেশ কয়েকটি জানালার কাচ ভাঙা, নেই লুকিং মিরর ভিউ। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে উত্তরার আজমপুর রুটে চলাচলকারী রাইদা পরিবহণের এমন একটি বাস কদিন আগে বিআরটিএ থেকে ফিটনেস সনদ পেয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা একটি মাইক্রোবাস কোনোভাবেই রাস্তায় চলাচলের উপযোগী না হলেও এটির আনকোরা ফিটনেস সনদ পাচ্ছে। ব্যক্তিগত যান হিসেবে নিবন্ধন পাওয়া এ মাইক্রোবাসটি দীর্ঘদিন ধরে হাতিরঝিলে ভাড়ায় যাত্রী পরিবহণ করছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে। যদিও নানামুখী ফোনাফোনির পর পুলিশ ওই মাইক্রোবাসটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। শুধু এমন দুএকটি বাস-মাইক্রোবাসই নয়, রাস্তায় চলাচলের অনুপযোগী এ ধরনের বিপুলসংখ্যক লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহনের ফিটনেস সনদ রয়েছে। চলমান ট্রাফিক অভিযানে যার হাতেনাতে প্রমাণ মিলেছে। বিআরটিএর একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তারা ফিটনেস সনদ জোগাড় করার কথাও গাড়ির মালিক-চালকরা ট্রাফিক পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। এর সঙ্গে পুলিশেরও গোপন যোগসাজশের তথ্যও পাওয়া গেছে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে।

লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহনের ফিটনেস সনদ পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এ ব্যাপারে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। তবে তারা বিভিন্ন সময় এ বিষয়টিতে কড়া নজরদারির অঙ্গীকার করলেও তা কখনো বাস্তবায়িত হয়নি। যার ফলশ্রুতিতে এ অনিয়ম পযার্য়ক্রমে বেড়েছে। চলমান বিশেষ ট্রাফিক অভিযান শুরুর পর তাতে নতুন মাত্রা পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ফিটনেস সনদ পাওয়া যানবাহনও রাস্তায় চলাচলের অনুপযোগী হলে তা তাৎক্ষণিক আটক করা হবে এবং তা ২০ বছরের অধিক পুরনো হলে কিংবা মেরামত অযোগ্য হলে তা ডাম্পিংয়ে পাঠাবে পুলিশ। এক্ষেত্রে ফিটনেস সনদের কোনো মূল্যায়ন করা হবে না। অবশ্য আমার কাছে কেন জানি মনে হচ্ছে যে, এমন উদ্যোগ নেয়া হলে 'ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়' হওয়ার দশা হবে। কেননা, নগরীতে চলাচলকারী গণপরিবহণের একটি বড় অংশেরই ফিটনেস সনদ নেই। সামান্য যে সংখ্যক যানবাহনের সনদ আছে তারও অনেকটাই বিআরটিএর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের উৎকোচ দিয়ে জোগাড় করা। এ অবস্থায় একযোগে ধরপাকড় শুরু হলে নগরীর পরিবহণ সঙ্কট ভয়াবহ রূপ নেবে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য রোড-এর তথ্যানুযায়ী- সারা দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ যানবাহন চলাচলযোগ্যতা (ফিটনেস) সনদ ছাড়াই চলছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই ফিটনেস সনদবিহীন যানবাহনের সংখ্যা প্রায় এক লাখ বলে বিআরটিএ হিসাব দিয়েছে। সে হিসাবে শতকরা প্রায় ৩৩ ভাগ যানবাহনেরই ফিটনেস নেই। এ পরিস্থিতিতে পরিবহণ মালিকদের কোনো ধরনের সুযোগ না দিয়ে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হলে এ খাতে মারাত্মক ধস নামবে বলে আগেই ধারণা করেছিলাম। আর প্রমাণ পাচ্ছি এখন। নাগরিক জীবনের দুভর্োগ গড়ে উঠছে তথাকথিত আইনী মারপ্যাচে পড়ে। অথচ একটি সত্যিকারের সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য নিবেদিত ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি নিরন্তর দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত রাখার সূত্রতায় আজম্মকাল লোভ মোহহীন ছিলেন। ১৯৭৫-এর ঘাতকদের কারণে নিবেদিত জাতির পিতাকে আমরা হারিয়েছি। এই হারানোর বেদনার ক্ষত গত ৪৮ বছরেও কমেনি। বরং ক্রমশ সমস্যাক্রান্ত হয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে বাংলাদেশে স্বাধীনতার চেতনায় অগ্রসর মানুষের জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত পথ নিরাপদের পরিবর্তে মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে।

সুন্দর-স্বচ্ছ-নিরাপদ জীবনের জন্য নৈরাজ্য ঠেকাতে দিন দশকের সাঁড়াশি অভিযান ও সড়ক পরিবহণ আইন সংশোধনসহ বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং লেগুনা বন্ধ করার মধ্য দিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের যত চেষ্টা চলছে গত এক সপ্তাহ ধরে; সেই চেষ্টার হাত ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে-ওষ্ঠাগত হয়েছে নাগরিক জীবন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত জীবনে নেমে এসেছে নির্মম মানবেতর সময়। স্কুলে শিক্ষার্থীদেরকে আনা নেয়া, অফিসে যাওয়া আসাসহ দৈনন্দিন পরিবহণ সমস্যায় আক্রান্ত নাগরিক জীবনে নেমে এসেছে ছলচাতুরির বর্তমান। যা একটি স্বাধীন দেশে কখনোই চাওয়া হতে পারে না। বরং সকল সমস্যার পাশাপাশি স্বাধীন-সার্বভৌম মানচিত্রে তৈরি হচ্ছে নিত্য নতুন সমস্যা। শুধু এখানেই শেষ নয়; গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ফেরেনি চলছে ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা অন্ধকার চর্চা চলছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গণপরিবহণে নৈরাজ্য ঠেকাতে দিন দশেকের সাঁড়াশি অভিযান ও সড়ক পরিবহণ আইন সংশোধনসহ বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এমনকি গণপরিবহণের বেপরোয়া মালিক-শ্রমিক-নেতা, কাউকেই সরকার সামান্য নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। অথচ নৈরাজ্যকারীদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের গড়ে ওঠা কঠোর আন্দোলন সরকার নানা কৌশলে প- করে দিয়েছে। ফলে গণপরিবহণ খাতের অরাজকতাকারীরা ফের আগের মতোই দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। চলছে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী ওঠানামা। এর ধারাবাহিকতায় গণপরিবহণ যাত্রীদের ভোগান্তি-হয়রানি ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি সড়ক-মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল দ্রুত দীর্ঘ হচ্ছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশাপাশি সবর্স্তরের মানুষের মাঝে চাপা ক্ষোভ বাড়ছে। যার প্রভাব আগামী দিনের ভোটের রাজনীতিতে পড়বে বলে ধারণা করছি। নিরাপদ পথ-এর দাবিতে জুলাইয়ের শেষভাগের উত্তাল আন্দোলন সরকার নানা কৌশলে ধামাচাপা দিতে সক্ষম হলেও এ ইস্যুটিই আগামী নিবার্চনে বুমেরাং হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা তাদের ব্যালটে প্রশাসনের এ ব্যথর্তার শক্ত জবাব দেবে। যা নিয়ে তারা এরইমধ্যে বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। এমনকি কেউ কেউ ছোট-ছোট গ্রুপ করে এর পক্ষে জনমত আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। যা আপাতদৃষ্টিতে সামান্য উদ্যোগ মনে হলেও এর অর্ন্তনিহত গুরুত্ব ব্যাপক বলে মনে করেন তারা। রাজনৈতিক পযের্বক্ষক ও সুধীজন প্রতিনিধিদের ভাষ্য, গণপরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের নৈরাজ্যে সাধারণ মানুষ কতটা ক্ষুব্ধ তা সড়ক আন্দোলনে সাধারণ মানুষের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও জোরালো সমর্থনে স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। মামলা-হামলা ও গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে তাদের তাৎক্ষণিক নিবৃত্ত করা গেলেও এর চাপা ক্ষোভ ফের বিস্ফোরণের অপেক্ষায় রয়েছে। নির্বাচনী উত্তাপের ডামাডোলে সড়ক আন্দোলন নতুন করে চাঙ্গা হতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন অনেকেই। এদিকে সড়ক আন্দোলন প্রতিহত করতে ওই সময় ক্ষমতাসীন দলের মুষ্টিমেয় নেতাকর্মী সরাসরি মাঠে নামলেও খোদ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা এ আন্দোলনকে যৌক্তিক বলে দাবি করেছে। পরিবহণ সেক্টরের চলমান নৈরাজ্য নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

এমতবস্থায় পরিবহণ সেক্টরকে স্বচ্ছ ও সমৃদ্ধ করার জন্য নিবেদিত থাকা প্রয়োজন সকল স্তরের ব্যক্তিদের। তা না হলে কিন্তু পরিবহণ খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের ব্যর্থতার প্রভাব আগামী নির্বাচনে সরাসরি পড়বে বলেও মনে করেন শরিক দলের নেতারা। দীঘির্দন ধরে পরিবহণ সেক্টরে নৈরাজ্য চলে আসছে, নিজেদের খেয়াল খুশিমতো চলছে। মানুষকে মানুষ মনে করছে না। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে। তাই সাধারণ ছাত্ররা যে প্রতিবাদ করেছে, তা যৌক্তিক। পরিবহণ সেক্টরের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। যে যেভাবে পারছে এ সেক্টরকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। এ সেক্টর নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এজন্য সরকারকে বলব সজাগ থাকার জন্য। এক্ষেত্রে এখন লেখক-সংগঠক হিসেবে বলতে বা স্বীকার করতে লজ্জা নেই যে, আমাদের সরকারের আমলে কিছু অব্যবস্থাপনার কারণে এ পরিবহণ সেক্টরে যারা কাজ করে, যারা শ্রমিকদের নেতৃত্ব দেয়_ তারা কিন্তু দল-মত নির্বিশেষে একই স্বার্থে কাজ করে। বাম বলেন, ডান বলেন, এ শ্রমিক পরিবহণের নেতৃত্বে যারা আছে তাদের সরকারি দল, বিরোধী দল বলে কিছু নেই। তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পরিবহণ সেক্টরকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গেছে যেখানে মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। এখান থেকে আমাদের পরিত্রাণ পেতে হবে। সাথে সাথে একথাও মানতে হবে- নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা যে ৯ দফা দাবি দিয়েছে, সেটাই শেষ নয়। শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এখানে বিআরটিএ কাজ করে না, পুলিশ তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পরিচালনা করে না, মালিক ও পরিবহণের গডফাদাররা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, চোখ খুলে দিয়েছে। তিনি যদি সেটা সত্যিই অর্থর্পূণভাবে বলে থাকেন, তাহলে তা কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হবে। শুধু একটা ঝটিকা ট্রাফিক সপ্তাহ করলেই এর সমাধান হবে না। সড়কে অরাজকতার জন্য দায়ী প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সড়কে মৃত্যুর পরিসংখ্যানে আমি, আপনি এমনকি মন্ত্রীরাও একটা সংখ্যা হয়ে যোগ হতে পারেন। অরাজকতা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এর বিরুদ্ধে আবার আন্দোলন হলে তখন কেউই আর সরকারকে বিশ্বাস করবে না। কেননা, সরকারের আশ্বাসে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরলেও সড়ক-মহাসড়কে কোথাও শৃঙ্খলা ফেরেনি। পুলিশের সামনেই একই পথের ভিন্ন কোম্পানির বাসের মধ্যে যাত্রী তোলা নিয়ে রেষারেষি হচ্ছে। বাসের পাদানিতে অতিরিক্ত যাত্রী ঝুলছে। চালকরা আগের মতোই চলন্ত গাড়িতে মুঠোফোন ব্যবহার করছেন। সড়ক-মহাসড়কে আগের মতো আনফিট যানবাহন চলছে। অথচ বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশ এ ব্যাপারে দায়সারা ভূমিকা পালন করলেও সরকার সড়ক নিরাপত্তার আত্মতুষ্টিতে ভুগছে। আগামী নিবার্চনে সাধারণ ভোটাররা সরকারের এ ভূমিকার উপযুক্ত জবাব দেবে বলে ক্ষুব্ধ মন্তব্য করেন তারা। এদিকে সড়ক পথের নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ব্যথর্তা, গণপরিবহণের গডফাদারদের হাতে জিম্মিদশা এবং সর্বোপরি এ নিয়ে সরকারের দায়সারা ভূমিকায় সাধারণ জনগণ কতটা ক্ষুব্ধ ও হতাশ সে চিত্র তুলে ধরেছে গোয়েন্দারা।

এর উপর আবার আমি করছি- স্বল্প সময়ের মধ্যে সরকার পরিবহণ খাতের বিশৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যর্থ হলে আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে। আপাতদৃষ্টির 'ছোট্ট' এ ইস্যুটি 'বড় ফ্যাক্টর' হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ নিয়ে অবশ্য খোদ সরকারের নীতি-নির্ধারকদের অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পরিবহণ খাতের নৈরাজ্য যে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তাতে তা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তারা এক সময় উল্টো সরকারকেই নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করবে। পরিবহণ খাতের নৈরাজ্যকারীদের কোনোভাবেই আর বাড়তে দেয়া উচিত নয়। নিয়ন্ত্রণহীন গণপরিবহণের মালিক-শ্রমিকদের বেপরোয়া ভূমিকায় দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। আর এ কারণে যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তারা স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ। তাই আগামী নিবার্চনের আগে তা নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশেষ ভূমিকা রাখতে না পারলে ভোটের রাজনীতিতে এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। এ ইস্যুটি আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। একথাও সত্য যে, একের পর এক পথ দুর্ঘটনার কারণে যত না মানুষ আওয়ামী লীগের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তার চেয়ে বেশি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের মুষ্টিমেয় পরিবহণ গডফাদারের এ সংশ্লিষ্ট নৈরাজ্যে সম্পৃক্ততার কারণে। যা দলীয় হাইকমান্ডের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়া জরুরি। একই সাথে বলে রাখি- মোটরযান আইনে ফিটনেস পেতে অন্তত ৩০ ধরনের কারিগরি ও বাহ্যিক বিষয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আইন আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য শর্তগুলো হলো_ নির্মাণকালীন নকশা অক্ষত থাকা, ব্রেক-গিয়ার ঠিক থাকা, প্রয়োজনীয় বাতি থাকা, কালো ধোঁয়া বের না হওয়া, গাড়ির রং ঠিক থাকা। এর মধ্যে কিছু বিষয় সাধারণ দৃষ্টিতে যাচাই করা গেলেও ইঞ্জিনের মান যাচাইসহ গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো মেকানিক্যাল। অথচ বিআরটিএ পরীক্ষার কাজে কোনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে না। পুরোটা চোখে দেখে ফিটনেস দেয়। এই পরিস্থিতির উত্তরণে নতুন করে ভাবতে হবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারকে। তা না হলে সমূহ বিপদ দাঁড়িয়ে যেতে পারে রাজনীতির মাঠে। যা একজন নতুন প্রজন্মের রাজনীতিক হিসেবে, বাংলাদেশের রাজনীতি সচেতন নাগরিক হিসেবে কোনভাবেই প্রত্যাশা করি না। প্রত্যাশা করি না নতুন কোন আন্দোলন বা মৃত্যুর রাস্তা। তাই চাই সম্ভাবনার রাস্তা তৈরি হোক কালোহীন আলোকিত সময়ের প্রত্যয়ে...

মোমিন মেহেদী : সাংবাদিক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৩
ফজর৫:১১
যোহর১১:৫৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৫৭৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.