নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩০ ভাদ্র ১৪২৫, ৩ মহররম ১৪৪০
সখীপুরে ৬ বীজাগার। ৩টি বেদখল ৩টি পরিত্যক্ত
সখীপুর (টাঙ্গাইল) থেকে জুয়েল রানা
টাঙ্গাইলের সখীপুরে ছয়টি ইউনিয়নে কৃষিবিভাগের ছয়টি বীজাগার ৪২ বছর ধরে কোন কার্যক্রম না থাকায় তিনটি ভবন স্থানীয়রা দখল করে রেখেছে। অন্য তিনটি ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কৃষকদের সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার সুবিধার্থে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের আবাসিক সুবিধা দেয়ার জন্য ঐসব জমিতে ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে কৃষি অধিদপ্তর। কিন্ত সখীপুরের তিনটি ভবন ও জমি স্থানীয়দের দখলে থাকায় সরকারের এ পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার আশংকা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ঐসব বীজাগার ঘুরে দেখা যায়, ১৯৬২ সালে তৎকালীন সরকারের প্রতিটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২০ শতাংশ জমি নিয়ে টিনশেড পাকা ভবন নির্মাণ করে ইউনিয়ন বীজাগার হিসাবে কৃষি বিভাগকে বুঝিয়ে দেয়। ১৯৭৬ সালে সখীপুর থানা ঘোষণা হলে সখীপুর বাজারে কোন পাকা ভবন না থাকায় গজারিয়া ইউনিয়নের বীজাগারের ভবনটি থানা-পুলিশ ব্যবহার শুরু করে। ছয় বছর পর সখীপুর থানা ঐ ভবনটি ছেড়ে দিলে স্থানীয়রা আবার ঐ ভবনটি দখল নেয়। ১৯৮৯ সালে ঐ ভবনে ডিগ্রি অনার্স মাস্টারস

স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন (ডিঅমস) নামের ঐ সংগঠন দখল করে। ২০০০ সালে সখীপুর পৌরসভা স্থাপিত হলে ঐ ভবনটি পৌরসভার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বছর তিনেক পর পৌরসভা অন্যত্র চলে গেলে আবার ডিঅমস দখলে নেয়। বর্তমানে ডিঅমস ছাড়াও আরও কয়েকটি সংগঠন ঐ ভবনের কক্ষ দখল করে আছে। জমির এক অংশ জেলা পরিষদের অর্থায়নে সখীপুর বাজারের দোতলা গণশৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও বীজাগারের বাকি জমিতে স্থানীয়রা অস্থায়ী চা স্টল ও হোটেল স্থাপন করে তা ভাড়া দিয়েছেন।

সখীপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি তাহেরুল ইসলাম ইয়ারুম তালুকদার বলেন, বাজারের লোকজনের সুবিধার্থে সরকার একটি গণশৌচাগার নির্মাণ করেছেন। কার জমিতে করেছেন সরকারই ভালো জানেন। এদিকে যাদবপুর ইউনিয়নের বীজাগারটি ঐ ইউনিয়নের কালিদাস বাজারে স্থাপিত হয়। কালিদাস কলিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হলে ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় হিসাবে ঐ ভবনটি ব্যবহার করে। পরে দশ বছর পর ঐ ভবন পরিত্যক্ত হলে ভবনটি বিদ্যালয় ছেড়ে দেয়। পরে আস্তে আস্তে ভবনটি ভেঙে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। বর্তমানে ঐ ভবনের জমি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে। ঐ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক একেএম সাইফুল্লাহ বলেন, সরকার ফেরত চাইলে ঐ জমি আমরা যেকোন সময় ছেড়ে দেব। এদিকে বহেড়াতৈল ইউনিয়নের বীজাগারের ভবনটি বহেড়াতৈল বাজারে নির্মিত হয়। ১৯৭৬ সালের পর ঐ ভবনটি কৃষি বিভাগ ব্যবহার না করায় বহেড়াতৈল বাজারের ব্যবসায়ীরা ঐ ভবনটি দখল করে। আনুমানিক ১০ বছর ধরে ঐ ভবন ভেঙে পড়ায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বহেড়াতৈল ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুবি ভূঁইয়া জানান, বর্তমানে কৃষি বিভাগের ঐ পরিত্যক্ত বীজাগারের জমিতে বাজারের লোকজনের ব্যবহারের জন্য গণশৌচাগার নির্মিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বহেড়াতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম ফেরদৌস কৃষি বিভাগের জমিতে গণশৌচাগার নির্মিত হয়নি দাবি করে বলেন, কৃষি বিভাগের ২০ শতাংশ জমি ঐ শৌচাগার ঘেঁষেই রয়েছে। হাতীবান্ধা ইউনিয়নের তক্তারচালা বাজারের ঐ বীজাগারটির ভবন ব্যবহার না হওয়ায় আস্তে আস্তে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। হাতীবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বলেন, তাঁর পরিষদের পাশেই ঐ জমির অবস্থান। তবে ঐ জমিতে কোন ভবনের লেশ মাত্র নেই। কাকড়াজান ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পারভীন আক্তার বলেন, বৈলারপুর গ্রামে বীজাগারের ভবন থাকলেও সেটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কালিয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার মিয়া ও হাবিবুর রহমান বলেন, বড়চওনা বাজারের মাঝখানে মূল্যবান জমিতে ঐ বীজাগারের ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ঐ ভবনটি কাগজে কলমে আমাদের দুইজনের নামে আবাসিক ভবন হিসাবে বরাদ্দ থাকায় প্রতিমাসের বেতন থেকে ঐ ভবনের জন্য বাসা ভাড়া বাবদ টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগের তিনটি বীজাগারের জমি ও ভবন স্থানীয়রা দখলে নেয়ার কথা স্বীকার করে সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফায়জুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, কৃষি বিভাগ এখন ডিজিটাল। কৃষকদের দোরগোড়ায় আধুনিক সেবা পৌঁছে দিতে প্রতিটি ইউনিয়ন কমপ্লেঙ্ েদুইটি করে কক্ষ কৃষি কর্মকর্তাদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখন ঐ কর্মকর্তাদের আবাসিক সুবিধা দিতে সরকার প্রতিটি ইউনিয়নের বীজাগারের জমিতে ভবন করার পরিকল্পনা করছে। সখীপুরের গজারিয়া, যাদবপুর ও বহেড়াতৈল ইউনিয়নের বীজাগারের জমি স্থানীয়রা দখলে রেখেছেন। শিগগিরই ঐসব জমি ও ভবন কৃষি বিভাগের দখলে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ চলছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২০
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫১
মাগরিব৫:৩২
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৮৫৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.