নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩০ ভাদ্র ১৪২৫, ৩ মহররম ১৪৪০
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ব্যর্থতার জন্য বাংলাদেশকে দোষারোপ
মায়ানমারে সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ঢাকতে সু চি'র নির্লজ্জ মিথ্যাচার
২ সাংবাদিকের কারাদণ্ডের পক্ষে সাফাই
জনতা ডেস্ক
মায়ানমার থেকে সামরিক অভিযানের মুখে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে ব্যর্থতার জন্য বাংলাদেশকে দায়ী করেছেন দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রত্যাবাসন সম্পর্কিত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও জানুয়ারিতে এই প্রক্রিয়া শুরু করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত ছিল না। মূলত তাদের (বাংলাদেশের) ব্যর্থতার জন্যই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জানুয়ারিতে শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামের হ্যানয়ে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো নিয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডবিস্নউইএফ) এক সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

তার এই মন্তব্য প্রসঙ্গে জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থার কর্মীরা বলেছেন, মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার মতো পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য দেয়া শর্ত এখনো মায়ানমার পূরণ করেনি। এতে তাদের যথেষ্ট সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর হত্যাকা- নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশকারী সমপ্রতি ২ সাংবাদিককে ৭ বছরের কারাদ- দেয়ার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমালোচনাও প্রত্যাখ্যান করে অং সান সু চি বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য নয়, বরং আইন ভঙ্গ করার জন্য তাদের শাস্তি হয়েছে।

একের পর এক এমন নির্লজ্জ মিথ্যাচারে স্তম্ভিত সংশ্লিষ্ট সবাই। এ প্রসঙ্গে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ওয়াচের এশিয়া বিভাগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ফিল রবার্টসন বলেন, সু চি'র মুখে অন্তত 'আইনের শাসন' বেমানান। তিনি যখন বলেন, 'আইনের শাসন' মেনে মামলা চলেছে, তখন তিনি ভুল বলেন বা মিথ্যার আশ্রয় নেন।

এদিকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়া প্রসঙ্গে সু চি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময় বাংলাদেশ জানায়, তারা এখনো প্রস্তুত নয়। ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর আমরা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছিলাম। চুক্তিতে যেহেতু দুই দেশ সম্পর্কিত, তাই কখন প্রত্যাবর্তন শুরু হবে সে বিষয়ে আমরা একা সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।

সু চি বলেন, যারা পালিয়ে গেছে, তাদের ফিরিয়ে নিতে মায়ানমার প্রস্তুত। কিন্তু এর সাথে দুই দেশ জড়িত থাকায় বিষয়টি জটিল হয়ে গেছে। রাখাইনে যেভাবে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়েছে, এখন ভাবলে মনে হয় তা হয়তো ভিন্নভাবে সামাল দেয়া যেতো বলে মনে করেন মায়ানমারের এই নেত্রী।

ডবিস্নউইএফ'তে করা সু চি'র এসব মন্তব্য বিষয়ে মায়ানমারের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র জ হাতোয়ের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গত বছরের আগস্ট মাসে রাখাইনে মায়ানমারের সেনাবাহিনীর খুন, ধর্ষণ, গণহত্যাসহ নির্মম নির্যাতনের কারণে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সাথে মায়ানমারের একটি সমঝোতা হলেও এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থার কর্মীরা বলছেন, মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি। এক্ষেত্রে মায়ানমার কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলেও বলেছেন কর্মকর্তারা।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য দেয়া শর্ত এখনো তারা পূরণ করেনি বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

সু চি বলেন, রাখাইনে শুধু মুসলমানরাই বাস করে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্বের অনেকে মনে করে। কিন্তু আসলে সেখানে আরো ছোট ছোট গোষ্ঠী আছে। তাদেরকে রক্ষার দায়িত্বও মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর।

তিনি বলেন, সবার জন্যই আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। আমরা শুধু কাউকে বাছাই করে তাদের দেখভাল করতে পারি না। তবে রোহিঙ্গা বিষয়টি আরো ভালোভাবে সামলানো যেতো বলেও মনে করেন এই নেত্রী। তিনি বলেন, ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর আমার মনে হয়েছে, পরিস্থিতিটা আরো ভালোভাবে সামলানো যেতো।

অং সান সু চি মায়ানমারের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নন, কিন্তু তাকেই দেশটিতে ক্ষমতার অধিকারী বলে মনে করা হয়। রোহিঙ্গা ইস্যু এবং সমপ্রতি ২ সাংবাদিককে কারাদ- দেয়ার বিষয়ে তার বক্তব্য চেয়ে বিশ্বব্যাপী দাবি ওঠে। আর এমনই প্রেক্ষাপটে গতকাল বৃহস্পতিবার সেই নীরবতা ভেঙে অং সান সু চি বলেন, উন্মুক্ত আদালতে মামলা চলেছে। যদি কেউ মনে করেন বিচার ঠিকমতো হয়নি, আমি চাইব তারা সেটি উল্লেখ করুন। তিনি বলেন, সাংবাদিক বলে তাদের শাস্তি দেয়া হয়নি। তাদের জেল দেয়া হয়েছে। কারণ, আদালত মনে করেছেন তারা অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ভঙ্গ করেছেন। মামলায় প্রভাব খাটিয়ে ঐ দুই সাংবাদিককে জেল দেয়ার ঘটনায় যে সমালোচনা চলছে, তা-ও অস্বীকার করেন সু চি।

কারাদ-িত রয়টার্সের দুই সাংবাদিক তাদের ৭ বছরের দ-াদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন এবং আদালতের এ রায়ের সাথে মত প্রকাশের স্বাধীনতার কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন মায়ানমারের এই স্টেট কাউন্সিলর।

বিশ্বজুড়ে রয়টার্সের এই ২ সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) ও কিয়াও সো ওকে (২৮)কে মুক্তি দেয়ার দাবি ওঠে। রোহিঙ্গা গ্রামে মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যাযজ্ঞ ও বর্বরতা নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছিলেন এই দুই সাংবাদিক।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডবিস্নউইএফ)-এ করা সূ চি'র এসব মন্তব্য বিষয়ে মায়ানমারের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র জ হাতোয়ের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

এদিকে চলতি সপ্তাহেই জাতিসংঘের একটি সংস্থা মায়ানমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে দেশটি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।

অং সান সু চি'র এসব বক্তব্যের জবাবে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ওয়াচের এশিয়া বিভাগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ফিল রবার্টসন বলেন, সু চি যখন বলেন 'আইনের শাসন' মেনে মামলা চলেছে, তখন তিনি ভুল বলেন। তিনি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন যে, প্রকৃত 'আইনের শাসন' বলতে বোঝায়, আদালতে উপস্থাপন করা প্রমাণাদি বিবেচনা করা এবং সরকার বা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা।

এদিকে, মায়ানমারের সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তদন্ত করা উচিত বলে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ঐ রিপোর্টে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন দাসত্ব এবং দাসত্বে বাধ্য করার বর্ণনা করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে এসবের সাথে সেখানে নিরাপত্তা হুমকির কোনো সম্পর্ক নেই।

তবে জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি মায়ানমারের নেত্রী।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৪
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৮
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৮৮১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.