নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১ আশ্বিন ১৪২৭, ২৭ মহররম ১৪৪২
আত্মহত্যা সামাজিক দায় এবং দায়িত্ব!
মোহম্মদ শাহিন
মরিতে চাই না আমি এই সুন্দর ভুবনে মানবের মাঝে আমি বাঁচতে চাই, কবিগুরুর এই বাক্যকে উপেক্ষা করে অনেকে আত্মহত্যার দিকে ধাবিত হয়। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়ত আত্মহত্যার ঘটনাগুলো ঘটছে হারহামেশাই। কেউ বিষ খেয়ে, কেউ মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে, কেউ গলায় ফাঁস দিয়ে আবার কেউবা নীরবে সূক্ষ্মভাবে শেষ করে দিচ্ছে নিজের সুন্দর জীবনটি। উত্থান-পতন, জয়পরাজয় জীবনে থাকবেই। কিন্তু কজনই বা পারে সেসব উত্থান-পতন মেনে নিয়ে পৃথিবীতে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে? হতাশার কাছে হার মেনে এই সুন্দর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে যারা অন্ধকার জগতের নিমিত্তে পাড়ি জমান তারা কি আসলেই স্বার্থপরের মতো সবাইকে কাঁদিয়ে চলে যায়? নাকি এ বিষাক্ত সমাজ থেকে নিজেকে চিরতরে মুক্তি পেতে আত্মাহূতি দেয়? এসবরে সূক্ষ্ম সমাধান পাওয়া কখনো সম্ভবপর হয়ে উঠে না। তবে এটুকু নিশ্চিত যে মানসিক অতীতের করুণ ইতিহাস থেকেই ঝুলে যায় সত্তা। সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ আত্মহত্যা করলেও কিশোর-কিশোরী ও যাদের বয়স ৩৫ এর নিচে তাদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। যারা আগামীতে নেতৃত্ব দিবে দেশকে, এগিয়ে নিয়ে যাবে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে অথচ তারাই নিমজ্জিত হতাশা নামক অন্ধকারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি বছর সারা বিশ্বে যেসব কারণে মানুষের মৃত্যু ঘটে তার মধ্যে ক্রয়োদশতম প্রধান কারণ আত্মহত্যা। বিশ্বে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে কোথাও না কোথাও আত্মহত্যা করে থাকে এবং প্রতি বছর ১০ লাখেরও অধিক আত্মহত্যা করে নিজের জীবন বিলিয়ে দিচ্ছে। তবে নারীদের তুলনায় পুরুষদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। যা নারীদের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমাদের দেশে প্রতিদিন গড়ে ২৪ জন এবং বছরে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। আবার আত্মহত্যা অঞ্চলভেদেও কমমবেশি হয়ে থাকে বলে জানান তারা। সেক্ষেত্রে ঝিনাইদহ সবার উপরে রয়েছে। সেখানে প্রতি বছর প্রায় ৩০০'র অধিক আত্মহত্যা করে। এছাড়া শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে আত্মহত্যার হার ১৭ গুণ বেশি। একজন মানুষের আত্মহত্যার পিছনে অনেকগুলো কারণ থাকলেও শিক্ষাজীবনে ভালো রেজাল্ট না হওয়া, চাকরি না পাওয়া বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষার পরে বিসিএস বা সরকারি চাকরিকেন্দ্রিক হতাশা, প্রেমে ব্যর্থ, যৌতুক সমস্যা, দাম্পত্য কলহ এবং ধর্ষণ উল্লেখযোগ্য।

আত্মহত্যার বিষয়টি যতটা মানসিক বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক ঠিক ততটাই পারিবারিক বা সামাজিক। সমাজবিজ্ঞানী, নৃবিজ্ঞানীদের সাথে বিশ্বস্বাস্থ্যসংস্থাও মনে করে- প্রতিটি আত্মহত্যার ঘটনা সমাজ, সংস্কৃতি এবং সামাজিক অবস্থার প্রতিচ্ছবি। একজন মানুষের আত্মহত্যার পিছনে আমরা পারিবারিক বা সামাজিক দায় কখনোই এড়াতে পারি না। একজন ছাত্র যখন পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়, জিপিএ-৫ বা সিজিপিএ ভালো না করে অথবা গ্রাজুয়েট শেষে চাকরি না পায় তখন পরিবার থেকে তাকে নানা কটু কথা শুনতে হয়, সমাজ থেকে শুনতে হয় উপহাসমূলক বিভিন্ন বাণী। সর্বোপরি একদিকে ভালো রেজাল্ট বা চাকরি না পাওয়া অপরদিকে পরিবার ও সমাজের মানসিক টর্চার তাকে হতাশায় নিমজ্জিত করে ফেলে। যার ফলে অনেকক্ষেত্রে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে থাকে। আবার কোনো নারী যৌন হয়রানির শিকার হলে বা যৌতুকের কারণে নির্যাতিত হলে এ সমাজ ভুক্তভোগী নারীকে মানসিক সাপোর্ট না দিয়ে, প্রতিবাদ না করে বরং তাকেই দোষারোপ করতে থাকে। আবার অনেকে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ফেসবুকে যখন আবেগঘন স্যাস্টাস দেয় তখন তার নিজের বন্ধুরাই তাকে মানসিক সাপোর্ট না দিয়ে হাসি ঠাট্টা করে। ফলে ভুক্তভোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে যার দরুন এরকম অহরহ আত্মহত্যার ঘটনা আমাদের চারপাশে ঘটে যাচ্ছে। এ দায় কিন্তু আমাদের সমাজের। আমরা যদি পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া বা চাকরি না পাওয়া বেকার ছেলেটিকে কটু কথা বা উপহাসের পরিবর্তে অনুপ্রেরণা দিতাম, ভিন্ন কোন্ পথ দেখাতাম তাহলে গল্পটা অন্যরকম হতে পারতো। যৌতুক বা ধর্ষণের কারণে নির্যাতিত সে নারীর পাশে দাঁড়াতাম অথবা প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ছেলেটা যখন হতাশায় ভুগছিল তখন তাকে মানসিক সাপোর্ট দিতে পারতাম, তার পাশে থাকতাম তাহলে হাজারো হতাশার মাঝে নতুন করে বেঁচে থাকার পথ খুঁজতো তারা।

জীবনে সমস্যা রয়েছে বলেই জীবন এত সুন্দর। সমস্যা না থাকলে মানুষ নতুন করে নতুনরূপে নিজেকে কখনো আবির্ভাব করতে পারতো না। সমস্যা যেমন রয়েছে তেমনি প্রত্যেকে সমস্যার সমাধানও রয়েছে। তাই জীবনকে ভালোবেসে এগিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। বহির্বিশ্বের দেশগুলোতে দেখা যায় তারা হতাশা থেকে বাঁচার জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে শিক্ষার্থী ও যুবক-যুবতীদের জন্য বিভিন্ন সেমিনারের আয়াজন করে তাদের নতুনভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখানো হয়, হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন সংঘটন রয়েছে। আমাদের দেশেও এরকম করা উচিত। সরকারের পক্ষ থেকে যুবকদের জন্য নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে হবে, চাকরির পিছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হতে সরকারি ও বেসরকারি প্রণোদনা দিতে হবে। সমাজের মানুষদের উচিত একজন বেকার, ধর্ষিতা ও নির্যাতিত নারীদের উপহাস বা নেতিবাচকভাবে না দেখে সমাজে ইতিবাচক চোখে দেখতে হবে। তাদের পাশে থেকে সহোযোগিতা করতে হবে। জীবন চলার ভিন্ন পথ দেখাতে হবে। ফেসবুকে কোনো বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজন হতাশায় ভুগলে তাকে নিয়ে ট্রল না করে গুরুত্বের সাথে তাকে দেখতে হবে, মানসিক সাপোর্ট দিতে হবে, বেঁচে থাকার গুরুত্ব বোঝাতে হবে। সর্বোপরি সমাজে নৈতিক ও ধর্মীয় চর্চার লালন করতে হবে। হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তিকেও ভাবতে হবে আত্মহত্যার কোনো সমাধানের পথ নয়। ভাবতে হবে তার নিজের পরিবারের কথা, নিজের সমাজের কথা, নিজের দেশের কথা। তাকে মনে রাখতে হবে এ পরিবার, সমাজ এবং দেশ থেকে তুমি কি পেয়েছ তা বড় নয়। তুমি এ পরিবার, সমাজ এবং দেশকে কি দিতে পেরেছ বা পারছ সেটাই বড়। এভাবে আমাদের মানসিকতা, সামাজিকতা, সংস্কৃতি এবং সামগ্রিক পরিবর্তনই পারে একটি সত্তার অকালে ঝরে যাওয়া রোধ করতে।

মোহম্মদ শাহিন : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৬
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৯৫৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.