নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১ আশ্বিন ১৪২৭, ২৭ মহররম ১৪৪২
চাহিদা না বাড়লেও পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেল ও চিনির দাম বাড়ছে
জনতা ডেস্ক
ভোক্তাপর্যায়ে চাহিদা না বাড়লেও পাইকারি পর্যায়ে অস্বাভাবিক হারে ভোজ্যতেল ও চিনির দাম বাড়ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা মূলত বিশ্ববাজারে দর বৃদ্ধির অজুহাতে ওসব পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে। পাইকারি বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাম অয়েলের দাম বেড়েছে মণে ১০০ টাকা। একই সময়ে চিনির দর বেড়েছে মণপ্রতি ৫০ টাকা। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বুকিং দরের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো স্বচ্ছতা না থাকায় ভোজ্যতেল ও চিনি নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। পাইকারি বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে ভোগ্যপণ্যের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে বর্তমানে প্রতি মণ পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে (ডেলিভারি অর্ডার-ডিও) ২ হাজার ৮৫০ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও একই মানের পাম অয়েল বিক্রি হয়েছিল ১০০ টাকা কম অর্থাৎ ২ হাজার ৭৫০ টাকায়। ছয় মাস আগেও নভেল করোনা ভাইরাসের প্রকোপে দেশে সাধারণ ছুটি শুরুর আগে পণ্যটির মণপ্রতি সর্বোচ্চ দাম ছিল ২ হাজার ৩০০ টাকা। ওই হিসেবে ৬ মাসে পণ্যটির দাম বেড়েছে মণে ৫৫০ টাকা। সপ্তাহে ১০০ টাকা বেড়ে সুপার পাম অয়েলের (অধিক পরিশোধিত পাম অয়েল) মণপ্রতি মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১০ টাকায়। সাধারণ ছুটির আগে সুপার পাম অয়েলের দাম ছিল সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ টাকা। ওই হিসেবে এ সময় পণ্যটির দাম বেড়েছে মণে ৫১০ টাকা। তাছাড়া সয়াবিন দীর্ঘদিন প্রতি মণ ৩ হাজার ১০০ টাকায় কেনাবেচা হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২৮০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকায়। সাধারণ পাইকারি ব্যবসায়ীদের মতে, ৬ মাসের মধ্যে ভোজ্যতেলের এ অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন। কারণ কভিড-১৯ শুরুর আগে দেশের পাইকারি বাজারগুলোতে পাম অয়েলের মণপ্রতি দাম ছিল সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে প্রতি মণ সুপার পাম বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ১০ টাকায়। অর্থাৎ ৬ মাসের ব্যবধানে সুপার পাম অয়েলের দাম বেড়েছে ৫১০ টাকা। আর সাধারণ ছুটির আগে পাম অয়েলের দাম ছিল ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে দাম প্রায় ২৮০ টাকা বেড়ে লেনদেন হচ্ছে ৩ হাজার ২৮০ টাকা।

সূত্র জানায়, ভোজ্যতেলের পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে চিনির দামও বাড়ছে। পাইকারি বাজারে প্রতি মণ চিনি কেনাবেচা হচ্ছে ২ হাজার ৫০ টাকায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে মণে ৫০ টাকা। ব্যবসায়ীদের মতে, আসন্ন শীত মৌসুমে চিনির চাহিদা কমার কথা থাকলেও এ সময়ে চিনির দাম বাড়াটা অযৌক্তিক। কভিড-১৯-এর কারণে কয়েক মাস ডিও লেনদেন কার্যত অচল থাকায় পণ্যের দাম স্থিতিশীল ছিল। তবে কোরবানির ঈদের পর থেকেই পাইকারি বাজারগুলোয় বৃহৎ পরিসরে নিত্যপণ্যের ডিও বেচাকেনা চাঙ্গা হয়ে ওঠে। ফলে হঠাৎ করেই লেনদেন শুরু হলে নিত্যপণ্যের দামও বাড়তে থাকে। এ সুযোগে দেশের বিভিন্ন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আমদানি পণ্যের ডিও ছাড়তে থাকে। কিন্তু হঠাৎ করেই ডিও ছাড়লেও স্বল্প সময়ের মধ্যে ছেড়ে দেয়া বিপুল পরিমাণ ওসব ডিওর বিপরীতে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে ব্যবসায়ীরা ডিও কিনে তার বিপরীতে মিলগেট থেকে পণ্য উত্তোলন করতে সমস্যার মধ্যে পড়েছে। আগে প্রতিদিন পণ্য উত্তোলন করতে পারলেও ডিওর বিপরীতে পণ্য সরবরাহ সীমিত করায় বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। মূলত দেশে ভোজ্যতেলের মজুদ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংশয় থাকায় ভোজ্যতেল ও চিনির চাহিদাও বেড়ে গেছে। ফলে পাইকারি বাজারে নিত্যপণ্য দুটির উপর প্রভাব পড়েছে।

এদিকে এ প্রসঙ্গে পাইকারী ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা জানান, অনেক দিন ডিও লেনদেন বন্ধ থাকলেও দুই মাস ধরে বাজারে লেনদেন বেড়েছে। নতুন নতুন ক্রেতা-বিক্রেতার আবির্ভাব হওয়ায় ডিওর বিপরীতে সস্নিপ বাণিজ্য এখন রমরমা। ওই কারণে মিলগেটে পণ্যের চাহিদা অনুপাতে সরবরাহ না থাকার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে বুকিং দর বেড়ে যাওয়ায় ভোজ্যতেলের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। তবে যে কোনো সময় বিশ্ববাজারে দরপতন হলে পাইকারি বাজারগুলোয় লগি্নকারী ডিও ব্যবসায়ীদের অনেকে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বে।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামাল হোসেন জানান, সরকারি বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ভোগ্যপণ্যসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে দেশের ভোগ্যপণ্যের দামের অস্থিরতা কমছে না। চাহিদা, আমদানি, মজুদ ও সরবরাহের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকার কারণে অতি চাহিদাসম্পন্ন পণ্যগুলোর দাম নিয়ে কারসাজির সুযোগ থাকে। সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় অধিক লাভের আশায় পাইকারি বাজারের ডিও বাণিজ্যের উত্থান হলে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়। সরকারের উচিত নিত্যপণ্যের বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে একটি সেল গঠনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন তদারকি বজায় রাখা।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৬
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৯২৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.