নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১ আশ্বিন ১৪২৭, ২৭ মহররম ১৪৪২
উপকমিটি গঠন করতে পারেনি আ'লীগ
সম্পাদকম-লীর সাথে এক বৈঠকে সময়সীমা বেধে দিয়ে নির্দেশনা জারি করেছিলেন শেখ হাসিনা
সফিকুল ইসলাম
সময়সীমা বেঁধে দেয়ার পরও দলের উপকমিটি গঠন করতে পারেনি সরকারি দল আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। দুই সপ্তাহ আগে সম্পাদকম-লীর সাথে এক বৈঠকে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা এই নির্দেশনা জারি করেছিলেন। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এই নির্দেশনার মেয়াদ শেষ হয়।

প্রসঙ্গত, ২ সেপ্টেম্বর ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকম-লীর এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সভার কার্যক্রম সম্পর্কে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের সভানেত্রীর একটা গাইডলাইন চাই। আমরা নিজেরা কিছু বিষয় আলোচনা করেছি। এর মধ্যে রয়েছে-আমাদের যেসব জেলা, মহানগর ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন হয়েছে, সেগুলোকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আপনার অফিসে (সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়, ধানমন্ডি) পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। আরেকটি হলো-এই সময়ের মধ্যে প্রত্যেক সম্পাদককে চেয়ারম্যানের সাথে পরামর্শ করে ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট উপকমিটি গঠনের সুপারিশ তৈরি করেছি, সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক আপনি। তিনি আরো বলেন, আর আমরা সীমিত আকারে সাংগঠনিক কর্মসূচি তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত পালন করার জন্য একটি নির্দেশনা দিচ্ছি। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আপনার জন্মদিন। এটা আমরা খুব সীমিত আকারে পালন করব। এটা প্রতিবছরই করে থাকি। আপনি না বললেও করব। জবাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমার জন্মদিন পালনের প্রস্তাব আমি গ্রহণ করছি না। বাকিগুলোর মধ্যে সাব-কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করার সিদ্ধান্ত খুবই ভালো। এটা করা উচিত। যাতে সাব-কমিটিগুলো বসতে পারে। বিষয়ভিত্তিক সেমিনার করা, আলোচনা করা। আগামী দিনে আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সেগুলো ঠিক করা। সাব কমিটিগুলো এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারবে।

সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকম-লীর ওই বৈঠকে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (১৫ সেপ্টেম্বর) মধ্যে উপকমিটির নাম জমা দেয়ার জন্যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। দুই সপ্তাহ আগে সম্পাদকম-লীর সাথে এক বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা জারি করেছিলেন। প্রতিটি উপকমিটি ৩৫ জনের বেশি হবে না-এরকম একটি নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। কিন্তু সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে। আওয়ামী লীগের দফতর সূত্রে জানা গেছে, মাত্র এক তৃতীয়াংশ উপকমিটির সদস্য হতে আগ্রহী প্রার্থীদের নাম দফতরে জমা পড়েছে, এখনো দুই তৃতীয়াংশ উপকমিটির সদস্য পদ প্রার্থীদের নাম জমা দেয়া হয়নি। এরফলে এই উপকমিটি গঠনের প্রক্রিয়া আরো পিছিয়ে গেল।

দলের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, করোনার কারণে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটিগুলো গঠন এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রক্রিয়া থমকে ছিল, এখন করোনার সাথে বসবাসের যে কৌশল নিয়ে সরকার এগোচ্ছে তার ফলে সবক্ষেত্রেই স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হয়েছে এবং একারণে আওয়ামী লীগ সভাপতি সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপকমিটি থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কমিটি এবং জেলা কমিটি গঠন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এটার জন্য তিনটি ধাপ ছিল। প্রথমত, সংশ্লিষ্টরা কমিটিগুলোর নাম প্রস্তাব করে একটি খসড়া দেবে এবং এটা সম্পাদকম-লীতে যাচাইবাছাই হবে, আলোচনা হবে। তারপর সেটি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কাছে পাঠানো হবে এবং তিনি এটা যাচাইবাছাই করার পর চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেবেন। এই অনুমোদন প্রক্রিয়াটি ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগ শেষ করতে চেয়েছিল। তারই অংশ হিসাবে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিভিন্ন সম্পাদকের জন্য পৃথক উপকমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের এরকম ১৭টি উপকমিটি গঠনের কথা এবং সেটা করার জন্যে প্রত্যেক সম্পাদককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল এবং তাদের নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়েছিল।

দলের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বলছে, সম্পাদকম-লীদের এটাও বলা হয়েছিল যে, কোনো প্রস্তাবিত নামে যদি বিতর্কিত ব্যক্তি থাকে তাহলে তার দায়দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে। সামপ্রতিক সময়ে সাহেদ-পাপিয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ এবার উপকমিটিগুলোর ব্যাপারে অনেক সতর্ক। এই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরদারির মধ্যে আছে বলেও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন। সেই কারণেই উপকমিটি গঠনে খানিকটা ভয় এবং দ্বিধান্বিত আওয়ামী লীগের সম্পাদকরা। তারা নাম দেয়ার ক্ষেত্রে নানা রকম দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগছেন। তারা ভাবছেন যে, যদি কোনো বিতর্কিত ব্যক্তির নাম দেয়া হয় তাহলে তারাই বিপদে পড়তে পারেন। আর এই কারণে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে। আর এটিও উপকমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনার সৃষ্টি করেছে বলে জানা গেছে। আবার জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলো গঠনের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে যে, অনুপ্রবেশকারী এবং সুবিধাভোগীদের সাথে দলের ত্যাগী পরীক্ষিতদের নানা রকম বিরোধ তৈরি হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের উপদলীয় কোন্দল প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে। প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। আর এ সমস্ত কারণে আওয়ামী লীগ সভাপতি কমিটিগুলো গঠনের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে যেতে পারে বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলছেন যে, সম্পাদকম-লীর সদস্যরা তাদের নিজস্ব উপকমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ভয় পাচ্ছেন। আর এজন্যই তারা মনে করছেন যে, আওয়ামী লীগ সভাপতিই যদি কমিটিগুলো গঠন করে দিতেন, তাহলে তাদের জন্য ভালো হতো।

জানা গেছে, যারা এখন পর্যন্ত কমিটির নাম জমা দিয়েছেন, তাদের অনেকেই ৩৫ জনের বেশি নাম দিয়েছেন। যদি কাউকে বাদ দেয়া হয়, তাহলে যেন সংখ্যা কম না হয়। আগে আওয়ামী লীগের একটি উপ কমিটিতে এক শ' জন বা তারও বেশি থাকার নজির ছিল। এবার বিধি নিষেধ আরোপ করারও একটি বড় সমস্যা রয়েছে, কারণ আওয়ামী লীগে এই ধরনের উপকমিটিতে থাকার জন্য অনেক কর্মী মুখিয়ে আছেন। এই কারণেই একটা চাপের মধ্যে পড়েছেন সম্পাদকম-লীরা। তবে আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন আগামী ৫-৭ দিনের মধ্যেই এই উপকমিটিগুলো চূড়ান্ত হবে।

এ বিষয়ে কথা হয় আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর এক সদস্যর সাথে। তিনি বলেন, দলের সম্পাদকম-লীকেই ঠিক করতে হবে তারা কাদের নিয়ে কাজ করতে চান। প্রতিটি সম্পাদকম-লীর সুনির্দিষ্ট কাজ আছে এবং এই কাজের জন্যই উপকমিটিগুলো গঠন করা হয়। এটি একজন সম্পাদকের টিম, কাজেই সম্পাদককেই ঠিক করতে হবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ৩০
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৪৯
আসর৪:০৮
মাগরিব৫:৫১
এশা৭:০৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৯সূর্যাস্ত - ০৫:৪৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৫৭৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.