নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১ আশ্বিন ১৪২৭, ২৭ মহররম ১৪৪২
রাতের অন্ধকারেই পেঁয়াজের সেঞ্চুরি
পেঁয়াজের পুরোনো সিন্ডিকেট সক্রিয়
কাজী মাহফুজুর রহমান শুভ
নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মধ্যে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। দাম বাড়ার পিছনে একেক বিক্রেতা একেক কথা বলছেন। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, 'সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে পেঁয়াজের বাজার।' অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, 'আমদানি ব্যয় ও ভাড়া বৃদ্ধির কারণে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।' আর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়াতে বাংলাদেশের বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। কারণ ভারত থেকেই বেশির ভাগ পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ফলে পেঁয়াজের পুরোনো 'সিন্ডিকেট' আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকার টিসিবির মাধ্যমে ট্রাক সেলের ব্যবস্থা করেও বাজার সামাল দিতে পারছে না। গত বছর এই সময়ে পেঁয়াজের বাজার উত্তপ্ত হয়েছিল। এবারও অসাধু ব্যবসায়ীরা যেকোনো অজুহাতে পেঁয়াজের বাজার অস্থির করে ফায়দা লুটতে চান।

মাত্র এক রাতেই দামে সেঞ্চুরি করে আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে পেঁয়াজের বাজারমূল্য। যেনো অদৃশ্য কোন ভূঁতের দল পেঁয়াজের দাম ক্রমেই বাড়িয়ে দিচ্ছে। ভোক্তা, খুচরা বিক্রেতা-পাইকার বিক্রেতা আর আড়ৎদারদের মধ্যে চলছে ত্রিমুখী পাল্টাপাল্টি দোষারোপ। গত বছর পেঁয়াজের বাজার মূল্য কেজি প্রতি ৩০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছালেও কোন সিন্ডিকেট তা বাড়িয়েছিলো সেই রাঘব বোয়ালদের আজও ধরতে পারেনি প্রশাসন। গত মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানী কারওয়ান বাজারে সরেজমিনে গেলে পেঁয়াজে অনিয়মের দৃশ্যই ধরা পড়ে। সরেজমিনে দেখা যায় কারওয়ান বাজারে পাইকারি দোকানে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ৯০ থেকে ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা দোকানে যা প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গতকাল পাইকারি দোকানে ছিল- ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, আর খুচরা দোকানে বিক্রি হয়েছিল- ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।

অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান বড় সাইজের পেঁয়াজ ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা দোকানে যা প্রতি কেজি ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যে ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ গত রোববার পাইকারি দোকানে ছিল ৪০ টাকা। আর খুচরা দোকানে বিক্রি হয়েছিলো ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার একদিকে টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে স্বল্পমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অপরদিকে অসাধু ব্যবসায়ীদের এই সিন্ডিকেটের কর্মকা- প্রতিরোধে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যেই সরকারের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠে কাজ করছে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা।

এর মাঝে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজ মজুত রয়েছে, আমদানিও রয়েছে স্বাভাবিক। পেঁয়াজের সংকট বা মূল্যবৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। পেঁয়াজের অবৈধ মজুত বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে মূল্য বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে সরকার আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন জানিয়েছে, দেশে প্রতিবছর পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ মেট্রিক টন। এ বছর দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২৩ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু প্রতিবছরই স্বাভাবিক নিয়মে উৎপাদিত পেঁয়াজের ৩০ শতাংশ পচে যায়। সে হিসেবে এ বছর পচে যাওয়া পেঁয়াজের পরিমাণ সাড়ে সাত লাখ মেট্রিক টন। এই ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে ১০ থেকে ১১ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, ইতোমধ্যে ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত বন্দর দিয়ে ৮ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। সেই হিসেবে দেশে এখন পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। সরবরাহেও কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি।

জানা গেছে, গত বছরের পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজির হোতারা এ বছরও নানান অজুহাতে পেঁয়াজের বাজারকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। করোনা পরিস্থিতি, ঘূর্ণিঝড় আম্পান এবং পরবর্তী সময়ে দেশের ৩৩ জেলায় বন্যাকে পুঁজি করে এবারো তারা পেঁয়াজের বাজারে অস্থিতিশীলতা ছড়াতে তৎপর। এসব অজুহাতের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ভারতে বন্যা, অন্ধপ্রদেশে পেঁয়াজের মোকামে শ্রমিকদের ধর্মঘট ও বাংলাদেশের মাওয়া ঘাটে ফেরি পারাপার বন্ধ থাকা। এসব অজুহাত দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলার পাশাপাশি ফরিদপুর ও পাবনায় পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। এ বছরের মাঠ থেকে সব পেঁয়াজ উঠে গেছে মধ্য ফেব্রুয়ারির আগেই। তখনো দেশে করোনার আবির্ভাব হয়নি। ঘূর্ণিঝড় আম্পান বাংলাদেশে আঘাত হেনেছে ১৬ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত সময়ে। তখন পেঁয়াজ কৃষকের ঘরে, ব্যবসায়ীর আড়তে। আর বন্যায় পেঁয়াজের কোনো ক্ষতি করার সুযোগই পায়নি। কারণ বন্যার সঙ্গে পেঁয়াজের কোনো সম্পর্ক নেই। যেসব জেলার ওপর দিয়ে বন্যা বয়ে গেছে সেসব জেলার মধ্যে ফরিদপুর ও পাবনা উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এসব জেলার বন্যা পেঁয়াজে প্রভাব ফেলেনি বলে জানিয়েছে ফরিদপুর ও পাবনার জেলা প্রশাসকদ্বয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অন্ধপ্রদেশের শ্রমিক নেতারা দাবি করেছেন ভারতের শ্রমিকদের ধর্মঘট কোনোভাবেই পেঁয়াজের বাজারে প্রভাব বিস্তার করেনি। এ ছাড়া মাওয়া ঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার অজুহাতটিও ঠুনকো। কারণ ওপার থেকে রাজধানীতে আসতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি এবং যমুনা সেতু খোলা রয়েছে। এ ছাড়া মাওয়া-শিমুলিয়ার অপর প্রান্ত কাওরাকান্দি ও কাঁঠালবাড়ীতে এই মুহূর্তে যেসব পণ্যবাহী ট্রাক আটকে আছে তার মধ্যে পেঁয়াজের একটি ট্রাকও নেই বলে জানিয়েছেন বিআইডবিস্নউটিসির কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, বন্যায় ফরিদপুরের কোথাও পেঁয়াজের ক্ষতি হয়েছে বলে শুনিনি। কারণ বন্যার সঙ্গে পেঁয়াজের কোনো সম্পর্ক নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। ফরিদপুরের বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন নিম্নমুখী। পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, পাবনা পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম। করোনা বলেন আর বন্যা বলেন, পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এসব অজুহাত এখানে প্রযোজ্য নয়। কারণ, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসনের টিম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠে রয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত বন্যায় পেঁয়াজের ক্ষতি হয়েছে এমন কোনো তথ্য পাইনি।

রাজধানীর শ্যামবাজারের পেঁয়াজের আড়ৎদার মেসার্স আলম ট্রেডার্সের মালিক মনিরুল আলম খান বলেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি না করলেতো পেঁয়াজের বাজার চড়া হবে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের দেশের উৎপাদিত পেঁয়াজের পরিমাণ ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তাই বিদেশ থেকে আমাদেরকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বাড়লে দেশি পেঁয়াজের দামও বাড়ে। আমরা আমদানিকারক বা শ্যামবাজার থেকে পেঁয়াজ এনে বিক্রি করি। সেখানে যে টাকায় পাব, তার সঙ্গে সামান্য লাভ যোগ করে পাইকারি বিক্রি করি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর উদ্দিন বলেন, সারা দেশেই পেঁয়াজের সরবরাহ ভালো। কোথাও কোনো সংকট নেই। আমদানি পরিস্থিতিও সন্তোষজনক। কাজেই অসাধু ব্যবসায়ীদের কোনো অজুহাতই গ্রহণযোগ্য নয়। পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। পেঁয়াজ নিয়ে টালবাহানা করলে কঠোর পদক্ষেপ নেবে সরকার। সচিব জানান, ইতোমধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নেমেছেন। এটি অব্যাহত থাকবে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৬
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৯৩৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.