নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০১৯, ২৪ আশ্বিন ১৪২৬, ৯ সফর ১৪৪১
ঢাকা ক্লাব আমাদের মর্যাদা ও ভালোবাসার প্রতীক
আর কে চৌধুরী
ঢাকা ক্লাব রাজধানী ঢাকার প্রাচীনতম ক্লাব। এটি ঢাকায় অবস্থিত অভিজাত শ্রেণির লোকদের প্রধান ক্লাব। ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ ক্লাবটি শাহবাগে অবস্থিত এবং এর চারপাশ ঘিরে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় জাদুঘর, রূপসী হোটেল, বারডেম হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রমনা পার্ক এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। পরে ঐ জমিতে স্থাপিত হয়েছে ঢাকা শেরাটন হোটেল, বেতার ভবন, বারডেম ইত্যাদি।

মহান মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা ক্লাবের অনেক অবদান আছে। আমিসহ ঢাকা ক্লাবের অনেক সদস্য মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং নেতৃত্ব দিয়েছি। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাক-হানাদার বাহিনী যেই 'স্থানে' মুক্তিবাহিনী ও মিত্র-বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে 'অস্ত্র-সমর্পণ' করেছিল, সেই স্থানটিও ঢাকা ক্লাবের ছিল। ঢাকা ক্লাব থেকে চেয়ার টেবিল এনেই আত্মসমর্পণের কাজ সম্পন্ন হয়। নব-প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা ক্লাবের অবদানের ইতিহাস জানানোর লক্ষ্যে 'টের‌্যাকোটা মুরাল' স্থাপন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ঢাকা ক্লাবের দেয়ালে বীর শ্রেষ্ঠদের ছবি, মুক্তিবাহিনী ও মিত্র-বাহিনীর কাছে পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের ছবি ও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ছবি স্থান পেয়েছে। ঢাকা ক্লাবের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এবং মুক্তিযুদ্ধ চেতনায় বিশ্বাসী।

১৯৪১ সালে বাংলার গভর্নর ৫২৪ বিঘা (১৭৩ একর) পরিমাণ জমি ঢাকা ক্লাবকে বন্দোবস্ত দেন। এ জমির অধিকাংশই একটি ঘোড়দৌড়ের মাঠ (রমনা রেসকোর্স, বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অধিকাংশ), গলফ খেলার মাঠ, ক্লাবের কিছু ভবন ও খেলার মাঠের কাজে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে ক্লাবটির নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে আছে ৫ একর পরিমাণ জমি। এ জায়গাটুকুতে সভাকক্ষ, সেমিনার কক্ষ, হল ঘর, অতিথি কক্ষ, রান্নাঘর ও খাবার ঘর এবং টেবিল টেনিস, বিলিয়ার্ড, স্কোয়াশ, সাঁতার, লন টেনিস ইত্যাদি খেলার সুবিধাদি প্রদান করা হয়েছে।

ঢাকা ক্লাবের সদস্যদের সম্মানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনেক অবদান রয়েছে। স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু যখন মদ জুয়া নিষিদ্ধ করলেন এবং রমনা রেসকোর্স ময়দানে বৃক্ষ রোপণের সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন ঢাকা ক্লাবের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জাস্টিস আমিন আহমেদ চৌধুরী সাহেবের সঙ্গে আমি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করে রেসকোর্স ময়দানের কিছু জায়গা ঢাকা ক্লাবের সদস্যদের গলফ খেলার জন্য অনুমতি চাইলে বঙ্গবন্ধু অনুমতি দেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসলে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বঙ্গবন্ধুর অনুমতি দানের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে তিনিও আমাদের দাবি মেনে নেন। যা ঢাকা ক্লাবের প্রতিটি সদস্যের জন্য গর্বের ও সম্মানের। ঢাকা ক্লাবের যারা প্রেসিডেন্ট হয়েছেন এবং হচ্ছেন তারা সবাই এ্যামিনেন্ট পার্সোনালিটি অব দি কান্ট্রি। এমনকি ঢাকার নবাব পরিবারের সদস্যরাও এ ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এভাবেই এটি আর শুধুমাত্র ক্লাব হিসেবে থাকেনি, ইট ইজ এ সিটিং প্লেস অব ইন্টেলেকচুয়ালমস বুরোক্রেটস, এলিট বিজনেস পিপল, রাইটার্স, প্রফেসরস, জাস্টিস অর্থাৎ সিভিল সোসাইটির একটি সামাজিক অঙ্গন হিসেবে রূপলাভ করেছে।

ঢাকা ক্লাবের মেম্বার হওয়া একটা প্রেস্টিজিয়াস ব্যাপার। যে কেউ আবেদন করলেই ঢাকা ক্লাবের মেম্বার হতে পারেন না। আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যাক গ্রাউন্ড, তিনি কী ধরনের মানুষ- এসব বিষয় বিবেচনা করেই এখানের মেম্বারশিপ দেয়া হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ ধরনের অভিজাত এঙ্ক্লুসিভ ক্লাব আছে- যা শুধুমাত্র মেম্বারদের জন্যে, সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। কিন্তু ঢাকা ক্লাব ব্যতিক্রম। এখানে সরকারি ডেলিগেট হিসেবে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিকরা আসেন, ভারতের জ্যোতি বসু, নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেনও এখানে এসেছিলেন। তাছাড়া বাংলাদেশের বড় বড় অনেক অনুষ্ঠানও এই ঢাকা ক্লাবেই হয়। আমাদের এখানে লাঞ্চ, ডিনারের ব্যবস্থা তো আছেই, এছাড়াও সেমিনার, ওয়ার্কশপ করার মতোও পর্যাপ্ত স্থান রয়েছে।

ঢাকা ক্লাবের রয়েছে একটি সমৃদ্ধ হেলথ ক্লাব। ক্লাব সদস্যরা এখানে নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। এছাড়াও রয়েছে সুইমিংপুল, টেনিস কোর্ট, স্কোয়াশা, স্নুকার, গলফ এবং বিলিয়ার্ড খেলার সুযোগ। ক্লাবের সদস্যদের পরিবারের জন্য রয়েছে গানের স্কুল, নাচের স্কুল, ছবি আঁকার স্কুল, সাঁতার শেখার ব্যবস্থা। এই ক্লাবে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। যেখানে রয়েছে দুষ্প্রাপ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বই। বইয়ের সংখ্যা ১০ হাজার। তদুপরি হেরাল্ড ট্রিবিউন থেকে শুরু করে বিদেশি বহু পত্রপত্রিকা এবং দেশের প্রধান প্রধান বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকসহ উল্লেখযোগ্য সাময়িকী রয়েছে লাইব্রেরিতে। ক্লাব সদস্যদের বাড়িতে বই নিয়ে পড়ার সুযোগ আছে।

এছাড়াও রয়েছে সামাজিক ক্ষেত্রেও ঢাকা ক্লাবের অবদান অনেক। ঢাকা ক্লাবের এমপ্লয়ীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে চারশ'। তাদের বিভিন্ন সমস্যা, শীতের সময় শীতবস্ত্র, অসচ্ছল কর্মকর্তা-কর্মচারীর মেধাবী সন্তানদের পড়াশুনায় সহায়তা, দুস্থদের জন্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, শহর ক্লিনিং করার ব্যবস্থা ইত্যাদি করা হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে ঢাকা ক্লাব থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইকুইপমেন্ট বিশেষ করে বারডেম হাসপাতালে ৩টি ডায়লোসিস মেশিন দেয়া হয়েছে। রানাপ্লাজা ট্রাজেডি, নেপালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেই ঢাকা ক্লাব অবদান রেখে চলেছে।

আর কে চৌধুরী : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ১৪
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৫
মাগরিব৫:৩৭
এশা৬:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৫৫সূর্যাস্ত - ০৫:৩২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬৮৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.