নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০১৯, ২৪ আশ্বিন ১৪২৬, ৯ সফর ১৪৪১
বরিশালে যুবককে অমানবিক নির্যাতন মূল হোতাসহ আটক ৩
জনতা ডেস্ক
বরিশালের হিজলায় এক যুবককে অমানবিক কায়দায় নির্যাতনের পর মুখে বদনা (টয়লেটে ব্যবহৃত পানির পাত্র) দিয়ে মলমুত্রযুক্ত ময়লা পানি ঢেলে দেওয়ার ঘটনায় মূলহোতা মাহাবুব সিকদারসহ তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হিজলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের মেমানিয়া স্কুল সংলগ্ন হিজলতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাহাবুবকে আটক করা হয়। হিজলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাইমুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন। আটক মাহাবুবুর রহমান সিকদার ওরফে মাহাবুব সিকদার হরিনাথপুরের আবদুল খালেক সিকদারের ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি হরিনাথপুর লঞ্চ ঘাটে সুপারভাইজারের পদে কাজ করতেন। এই মাহাবুবুর সিকদারই নির্যাতনের শিকার আজম বেপারী নামের ওই যুবকের বুকের ওপর পা রেখে মুখে বদনা দিয়ে ময়লা পানি ঢেলেছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ। যা ভিডিও ফুটেজ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভিডিওর সূত্র ধরে এ নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় তিনজনকে আটক করলো থানা পুলিশ। আগে আটক দুজন হলেন- হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের টুমচর গ্রামের বাসিন্দা শরিফ মাতুব্বরের ছেলে আবদুর রশিদ মাতুব্বর ও একই এলাকার বাসিন্দা কবির সরদার। এদের মধ্যে আবদুর রশিদ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়।

এদিকে পুলিশি অভিযান টের পেয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়াদের আটকে এখনো অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন হিজলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাইমুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি আটকদের কাছে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার মূল রহস্য ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার পরিচয় বের করা হচ্ছে।

এক মিনিট ১৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে দেখা গেছে, হরিনাথপুর বাজার সংলগ্ন টুমচরের বাসিন্দা মহিউদ্দিন বেপারীর পুত্র ও হরিনাথপুর লঞ্চ ঘাটের জ্বালানী তেল ব্যবসায়ী আজম বেপারীকে পেছন থেকে হাত ও পা বেঁধে ইটের রাস্তার ওপর ফেলে এক ব্যক্তি তার বুকের ওপর পা দিয়ে জোর করে মলমুত্র খাওয়াচ্ছে। হরিনাথপুর তালতলা জামে মসজিদ রোড নামকস্থানে ওই ঘটনায় আজম বেপারী অনেক চেষ্টা করেও স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি। খোঁজ নিয়ে আজম বেপারীকে যারা নির্যাতন করেছে তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গেছে। তিনি হলেন-একই এলাকার বাসিন্দা আবদুল খালেক সিকদারের পুত্র ও হরিনাথপুর লঞ্চ ঘাটের সুপারভাইজার মাহবুব সিকদার। তার নেতৃত্বে আজম বেপারীকে নির্যাতন করে মলমুত্র খাওয়ানো হয়েছে। আজম বেপারীর পরিবারের দাবি ঘটনার পর থেকেই তার (আজম) খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে নির্যাতনকারী প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি আজমের পরিবারের সদস্যরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, নির্যাতনের পর আজম বেপারীর হাত ও পা পিছন থেকে বেঁধে ইটের রাস্তার ওপর শুয়িয়ে রাখা হয়েছে। তার চারদিক ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে ৭/৮ জন লোক। এরমধ্যে একজন আজমের বুকের ওপর পা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এ ছাড়া অপর একজন লোক আজমের পা এবং একজনে তার মাথা মাটির সাথে চেঁপে ধরে আছে। একটু পরেই বুকের ওপর পা দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি বিশেষপাত্রে মলমুত্র নিয়ে তা জোর করে আজমের মুখে ঢালার চেষ্টা করছে। তখন আজম অনেক অনুনয় বিনয় এবং ধস্তা ধস্তি করেও তাদের থেকে নিজেক রক্ষা করতে পারেননি। এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিরা ঘটনাটি দেখলেও কেউ প্রতিরোধে এগিয়ে আসেনি। আর পুরো ঘটনাটি পাশ থেকে দাঁড়িয়ে দেখছে। এরমধ্যে একজন মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারন করেছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ঝাড়ফুঁকের কাজ করার অপবাদ দিয়ে আজম বেপারীকে নির্যাতন করেছে মাহবুব সিকদার ও তার সহযোগিরা। সূত্রে আরও জানা গেছে, খবর পেয়ে হরিনাথপুর শাওড়া সৈয়দখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই তারেক আহসান রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও রহস্যজনক কারণে তিনি পুরো ঘটনাটি এড়িয়ে যান। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ফাঁড়ির ইনচার্জ বলেন-এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানেন না। পরে অবশ্য বলেন, আমি গত সোমবার রাতে ঘটনাটি শুনেছি। তবে ভিডিও ভাইরালের বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগের ব্যাপারে মোবাইল ফোনে নিজের ভুল স্বীকার করে ঘটনার মুলহোতা ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মাহবুব সিকদার বলেন, আজম বেপারী ঝাড়ফুঁক দিয়ে গ্রামের সহজ সরল মেয়ে এবং বউদের সাথে অনৈতিক কর্মকা- করে। সস্প্রতি সে স্থানীয় জহির খানের স্ত্রী পারভীন বেগম ও তার মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করে। এমনকি পারভীনকে নিয়ে পালিয়ে যায়। কিছুদিন পরে তারা পুনরায় এলাকায় ফিরে আসে। এতে গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে আজম বেপারীকে মারধর করে মুখে মলমুত্র ঢেলে দিয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তিনি জেনেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনার সাথে সকল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ১৪
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৫
মাগরিব৫:৩৭
এশা৬:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৫৫সূর্যাস্ত - ০৫:৩২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬৯৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.