নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার, ৯ অক্টোবর ২০১৯, ২৪ আশ্বিন ১৪২৬, ৯ সফর ১৪৪১
ছাত্রলীগের অপকর্মে বিব্রত আ'লীগ
কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায় নেবে না ছাত্রলীগ : জয়
সফিকুল ইসলাম

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকা-ে ছাত্রলীগের সম্পৃক্তাসহ একের পর এক অপকর্মের ঘটনায় বিব্রত সরকারি দল আওয়ামী লীগ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন রাজনীতি করতে না পারে সেজন্য দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন সরকারি দলের নেতারা। তবে সরকারি দলের যুব এবং ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাপক চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল সাধারণ মানুষের। একইসুরে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেছেন, কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায় ছাত্রলীগ নেবে না। ছাত্রলীগের মুখোশ পড়ে যারা বিশৃঙ্খলা করছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে ছাত্রলীগ জানিয়েছে, আবরার হত্যাকা-ে বুয়েট ছাত্রলীগের ১১ জনের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ তারা পেয়েছেন।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর অনিয়ম দুর্নীতির কারণে ছাত্রলীগের শীর্ষপদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় সংগঠনের সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে। এরপরই অনেকটা চাপে ছিল ছাত্রলীগ। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত সোমবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকা-ে জড়িয়ে পড়ে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগ। এ ঘটনাটি তোলপাড় সৃষ্টি করে দেশজুড়ে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকা-ে অপরাধী যেই হোক প্রধানমন্ত্রী কাউকে ছাড় দেবেন না। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি দলেও অনেক সময় আগাছা-পরগাছা ঢুকে পড়ে নানা কারণে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে এসব অপকর্মের বিষয়ে দলের দৃষ্টিভঙ্গি কী? নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি কী? অবস্থান কী নিচ্ছে। এসব অপকর্ম যারা করে তাদের দলে কোনো প্রশ্রয় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, এখন প্রশাসন অনেক তৎপর। বুয়েটের ঘটনার পর সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে এবং ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই বহিষ্কার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল-উল আলম হানিফ বলেছেন, বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ ও তরুণ সমাজের মধ্যে অস্থিরতার মাত্রাটা অনেক বেশি। সেই অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশই এরকম মাঝে মাঝে দেখা যায়। এখন এটাও ভাববার সময় এসেছে যে বাংলাদেশে এই ধরনের রাজনীতি কী আর সমর্থন যোগ্য কিনা। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী একটা সংগঠন হিসেবে ছিল। এই ছাত্রলীগের অনেক গৌরবউজ্জল অতীত আছে। স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় এই ছাত্রলীগের একটা উজ্জ্বল অবস্থান ছিল। কিন্তু সামপ্রতিককালে, ছাত্রলীগের কিছু কিছু কর্মকা- যেটা ছাত্রলীগকেই শুধু বিতর্কিত করছে না, এটা মুল সংগঠন আওয়ামী লীগকেও অনেক বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে। এটি নিয়ে অবশ্যই আমাদের বিব্রত হতে হয়। তিনি বলেন, পৃথিবীর যেকোনো দেশেই অপরাধকে দমন করার জন্য আইনের কঠোর প্রক্রিয়াকেই সবসময় অনুসরণ করা হয়। অবশ্যই এখানে আইনের কঠোর প্রক্রিয়া হবে। তবে তিনি বলছেন, যারা উগ্র মানসিকতা সম্পন্ন, তাদেরকে সরিয়ে দেয়া বা তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেয়া। এই পদ্ধতিতে আমরা আশা করছি ভবিষ্যতে আমরা এই ধরনের বিব্রতকর অবস্থা থেকে আমরা হয়ত বের হয়ে আসতে পারবো। ছাত্রলীগের এ ধরনের ঘটনা আওয়ামী লীগের জন্য অস্বস্তিকর বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। এই অপরাধে জড়িত বাকিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মেধাবী ছাত্ররা এ ধরনের কাজে জড়িয়ে পড়ছে। এটি একটি উদ্বেগজনক ব্যাপার। আমরা চাই না এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে ঘটুক। এরকম জায়গায় আওয়ামী লীগের জিরো টলারেন্স। সোমবারের এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক ২ সদস্যর তদন্ত কমিটি করে জড়িত থাকার অভিযোগে বুয়েটের ১১ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে সংগঠনটি। তবে প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকা-ের কারণ জানা যায়নি উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে আসলে আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তারা। তবে আবরার ফাহাদ নামের বুয়েটের ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ও ধিক্কার উঠে দেশেজুড়ে। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। প্রকাশ্যে রাস্তায় কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। যার জন্য তাদের কয়েকজনের সাজাও হয়েছে। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, নিজেদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে জেরে বহু ঘটনা রয়েছে। মাত্র কদিন আগেই জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি উন্নয়নন প্রকল্প থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা চাঁদা চেয়েছেন এমন অভিযোগ কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

এরআগে গত রোববার রাতে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন সোমবার ভোরে শের-ই-বাংলা হলের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির মধ্যবর্তী জায়গায় আবরারের নিথর দেহ পাওয়া যায়। তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন ছিল। আবরার ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ইইই) বিভাগের লেভেল-২ এর টার্ম ১ এর ছাত্র ছিলেন। তিনি শের-ই-বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়া শহরে। কুষ্টিয়া জেলা স্কুলে তিনি স্কুলজীবন শেষ করে নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৯
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৫সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৫৯০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.