নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১১ অক্টোবর ২০১৮, ২৬ আশ্বিন ১৪২৫, ৩০ মহররম ১৪৪০
'এই মুহূর্তে নির্বাচন এবং আওয়ামী লীগের ভরাডুবি!'
রহিম আব্দুর রহিম
২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় 'এই মুহূর্তে নিবার্চন, আওয়ামী লীগের ভরাডুবি' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল, জরিপকারীরা ৫টি ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে জরিপ চালিয়েছিলেন। এর মধ্যে দ্রব্যমূল্য, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, এমপিদের সাথে দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পর্ক এবং এলাকার উন্নয়ন। এই জরিপে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ১২ ধরনের পেশার সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে (প্রতি পেশায় ৫ জন করে ১২৫=৬০) জরিপ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছিল। ঐ সময় নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৬৯, বিএনপি ১৭০, জাতীয় পার্টি ২৩, জামায়াত ১৪ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়বে ২১টি আসন পাবে বিজেপি। জামিয়াতে ওলামা ইসলাম ও জাগপা মিলে ৩ আসনে জয়লাভ করবে। ২০১২ থেকে ২০১৮, ব্যবধান ৭ বছরের। এখন আওয়ামী লীগের অবস্থা কি? এ ধরনের প্রশ্ন মাথায় রেখে লেখাটি তৈরি করা হয়েছে। বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণে বলা যায়, বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর কোনো ইস্যু ভোটাররা পাচ্ছে না, তবে আওয়ামী লীগ হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ। সাংঘর্ষিক কথায় পাঠকরা বিব্রত ফিল করছেন। করারই কথা। ১৯৭১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত সরকার বদলের ইতিহাস প্রমাণ করে আওয়ামী লীগকে হারিয়ে দেয়ার ন্যক্কারজনক 'ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশন'। দেশের এন্ট্রি আওয়ামী লীগ, কখনই আওয়ামী লীগের আপন বা শুভাকাঙ্ক্ষী হবে না। একে তো এন্ট্রি আওয়ামী লীগরা কখনো গোপনে- কখনো প্রকাশ্যে আবার কখনো ছদ্মবেশে সরকারের বিরুদ্ধে বিষকাঁটা লাগানোর চেষ্টা করছে, অহরহ দলের ভেতর ঢুকে পড়েছে সুবিধাভোগী একটি শ্রেণি। একটি সরকারের পতন ঘটাতে হলে তৃণমূলে ৪টি জায়গায় টার্গেট করে ষড়যন্ত্রকারীরা এগুতে থাকে, প্রথম কৃষি প্রধান দেশে কৃষি পণ্যে, দ্বিতীয়টি যোগাযোগক্ষেত্রে, তৃতীয় আধুনিক উন্নয়ন (বিদ্যুৎ) ক্ষেত্রে, চতুর্থ হতাশাগ্রস্ত তরুণ সমাজকে ক্ষেপিয়ে তোলার ইস্যু সৃষ্টি করা। এই ৪টি ক্ষেত্র সামাল দিতে পারলে কোনো সরকারের পতন ঘটার সম্ভাবনা থাকে না। এই ৪ ক্ষেত্রের কোথায় কি অবস্থা, তা সরকার সংশ্লিষ্টরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে গ্রামের মানুষরা আত্মচিত্তে প্রাণখুলে যখন বলেন, 'ভালোই আছি গো, খাও-খাও নাই। মাদক বিরোধী সরকারের কঠোর অবস্থানও প্রশংসার দাবিদার। কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা পেয়ে পরম তৃপ্তিতে হতদরিদ্র গ্রামের মানুষরা। ঢাকার পাঠাও সার্ভিসের সেবকরা তো মহাখুশি, দৈনিক আয় ১৬শ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা। যোগাযোগ থেকে জনগুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৪১টি সেক্টরের উন্নয়ন দৃশ্যমান। তাতে করে বলা যায়, সাধারণ জনমানুষ এই সরকারের প্রতি ততটা নাখোশ নয়। সারাদেশের সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ দানা বেঁধেছে একটি কারণে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বলেছেন, মাত্র ৭শ টাকার বিনিময়ে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে। সেখানে কিভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নামে সাধারণ খেটে খাওয়া হতদরিদ্র, রিকশা ভ্যান চালক থেকে শুরু করে এতিম অসহায়দের কাছ থেকে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ গ্রহণ করেছে! বিষয়টি ভুক্তভোগীরা মনে রেখেছে, রাখছে। কৃষকরা তাদের প্রয়োজনীয় উপকরণ ক্রয়ে যা গুনেছে, পণ্য বিক্রিতে তা পোষাতে না পেরে ক্ষুব্ধ তবে একেবারেই যে ক্ষতিগ্রস্ত এমনটা নয়।

দলীয় ব্যানারে টেন্ডারবাজি, টিআর, কাবিখার পার্সেন্টের খবর আরো খারাপ, ৩০ শতাংশ থেকে ক্ষেত্রভেদে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত নেয়ার কেলেঙ্কারি সারাদেশে গরম তেলের মতো বুঁদবুঁদ করছে। শিক্ষাক্ষেত্রে অভাবনীয় যে সাফল্য এনেছে, তা আলোচিত হলেও জাতির মেরুদ- শক্ত করার গবেষণালব্ধ শিক্ষা এখনো বাংলাদেশে চালু করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নাকি কান্না, আর ঘ্যান_ঘ্যানে মানুষ অতৃপ্ত। ডিজিটাল পদ্ধতির শিক্ষা গ্রহণ বা প্রদান নয়, যে শিক্ষা পদ্ধতি জাতিকে 'কর্ম ডিজিটালে' পরিণত করবে এধরনের শিক্ষা জাতির প্রত্যাশা। সম্প্রতি বিবিএস'র শ্রম শক্তি জরিপ তথ্যে জানা যায়, দেশে বর্তমানে ৪ কোটি ৮২ লাখ প্রকৃত বেকার। এর মধ্যে ২৫ লাখ বেকার ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার। বাকিরা গ্রাজুয়েশন থেকে শুরু করে সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন 'মৌসুমি বেকার'। আমাদের জানা আছে, আজকের চীনের কথা, যে দেশটি তাদের মাতৃভাষা গুছিয়ে বলতে পারত না, যারা এখনো আন্তর্জাতিক ভাষা ইংলিশ বলতে অক্ষম। এই দেশের মানুষরা পৃথিবীর সকল প্রান্ত দখল করে রেখেছে, তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিকিয়ে। এরা দীর্ঘ ৬৫ বছর কর্মমুখী শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়ে কর্মক্ষম জাতি গঠন করে শ্রেষ্ঠত্ব দখল করেছে। জাপানের একই অবস্থা। আওয়ামী লীগ সরকার তাদের গত নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী যথেষ্ট কাজকর্ম করেছে। আগামী নির্বাচনী ইশতেহার হয়তো করেও ফেলেছেন। নির্বাচনী ইশতেহার যদিও কারিগরি বা কর্মমুখী শিক্ষা চালুর জন্য নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, সারাদেশের সকল সরকারি, বেসরকারি স্কুল-কলেজ মাদরাসায় স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি শিক্ষা চালু করে চীনের মতো বাড়ি বাড়ি ফ্যাক্টরি, ঘরে ঘরে কারিগর সৃষ্টির শিক্ষা চালু করে দেশের বৃহৎ তরুণ সমাজকে কর্মঠ করে, দেশ- বিদেশের বাজার দখলে আনতে পারে তবেই বাংলাদেশ অতিদ্রুত পৃথিবী ছাপিয়ে কর্মক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে; এতে কোনো সন্দেহ নেই। নির্বাচনের আগে এই সরকারের শিক্ষকদের কিছু দাবি দাওয়া মেনে নিতেই পারেন এর মধ্যে বেসরকারি স্কুল-কলেজ মাদরাসা শিক্ষক কর্মচারীদের ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট এবং বৈশাখী ভাতা। প্রধানমন্ত্রী দিতেও আগ্রহী তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অজ্ঞতা, অদক্ষতা, চরম অবহেলা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় অহেতুক জল ঘোলা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এনআই খানদের খুবই প্রয়োজন।

প্রসঙ্গে আসছি, সামনে নির্বাচন আওয়ামী লীগের ভাবনা দুই রকম, এর মধ্যে বিএনপি নির্বাচনে আসলে নমিনেশনের ধারা হবে একরকম, না আসলে নমিনেশনের ধারা হবে অন্য রকম। আওয়ামী লীগের ভাবনায় যুক্তি রয়েছে। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত একটি শিরোনাম ছিল, 'মনোনয়ন নিয়ে ত্রিমুখী জটিলতায় আওয়ামী লীগ' এর মধ্যে একক প্রার্থী ঘোষণায় আগাম বিদ্রোহের আশঙ্কা, জোট-মহাজোটের রূপরেখা নির্ধারণের বিলম্ব (কারণ বিএনপি নির্বাচনে এলে এক ধরনের, না এলে অন্য ধরনের) বর্তমান ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের প্রত্যাশা মাফিক আসন ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি রয়েছে। নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা হলে, নির্বাচন ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ নাগাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যতদ্রুত আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ত ১৪ দলীয় প্রার্থী ঘোষণা হবে, ততদ্রুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণপূর্বক সমাধানের পথ সুগম হবে। প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে আওয়ামী লীগে যে নোংরা প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, তাতে করে ষড়যন্ত্রকারী শত্রুপক্ষ যে ফায়দা লুটবে তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রস্তাব, ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদের পরস্পরকে বসিয়ে দিয়ে, নিজেরাই নিজেদের আসনের নমিনেশন নিশ্চিত করে একটি তালিকা নমিনেশন বোর্ডে জমা দেবেন। অসঙ্গতি কিংবা গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রতিকূলে থাকা প্রার্থীদের এখানে সম্পৃক্ততার প্রয়োজন নেই। নমিনেশন বোর্ড বিচার বিশ্লেষণ করে প্রার্থী দিতে পারলে দলে যথেষ্ট শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে সাধারণ ভোটাররা চাচ্ছেন কর্মঠ, সৎ, দলের জন্য নিবেদিত, ত্যাগী, কর্মী বান্ধব প্রার্থীদের। কোনোক্রমেই যেনো দলীয় বলয়ের বাইরে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি লালন-পালন করছেন এমন কোনো প্রার্থী (বর্তমান এমপি, মন্ত্রী, সাবেক কোনো ব্যক্তি) নমিনেশন না পায়। প্রবীণ প্রার্থী থাকবেন তবে অর্থবদের যেনো নমিনেশন না দেয়া হয় এ দাবি তৃণমূলে। অনেকেই জনপ্রিয় নেতা হওয়ার যে প্রতিযোগিতায় নেমেছে তা ভুল। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু একমাত্র জনপ্রিয়, পরিস্থিতি প্রমাণ করে আওয়ামী লীগের মধ্য দিয়ে জনপ্রিয় হওয়া যায়, জনপ্রিয় হয়ে আওয়ামী লীগ করতে হয় না। তবে ক্লিন ইমেজের প্রয়োজন রয়েছে।

এই সরকারের মেয়াদ যায় যায়, নির্বাচনকালীন একটি সরকার গঠন করতে হবে দ্রুত। যদি এই সরকারের আওয়ামী লীগ ঘরানার ১০ জন ক্লিন ইমেজের মন্ত্রী নিয়ে গঠিত হয়, তবে তারা কারা? এমন এক প্রশ্ন নিয়ে সারাদেশে বিভিন্ন প্রান্তে থাকা শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাথে কথা বলেছি। ঘুরে ফিরে যাদের নাম এসেছে এরা হলেন- তোফায়েল আহমেদ, আমীর হোসেন আমু, আনিসুল হক, মতিয়া চোধুরী, মাহমুদ আলী, মোজ্জামেল হক, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আসাদুজ্জামান নূর, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, তারানা হালিম, শরিক দলের অন্যান্য দুই একজনের নাম শোনা গেছে। কয়েক ডজন মন্ত্রীর মধ্যে মাত্র ১০ জন ক্লিন ইমেজের মন্ত্রীর নাম পাওয়া মুষ্কিল। সেখানে ৩০০ আসনের এমপিদের সম্বন্ধে জানতে চাইলে কি অবস্থা? অনেক এমপি রয়েছেন যারা সততা, ন্যায়নিষ্ঠা কর্মে ভূয়সি প্রশংসা কুড়িয়েছেন। মন্ত্রীদের সাথে পাল্লা দিয়ে এলাকার উন্নয়ন করেছেন, মানুষ তাদের পছন্দও করেন। আবার অনেক এমপি রয়েছেন, যাদের নাম শুনলে ভিক্ষুকও বমি করেন। এমন কিছু মন্ত্রী রয়েছেন যারা দলীয় বলয়ে দুর্নীতির পাহাড় গড়েছে, তৃণমূলে রাজনীতির নামে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হসিনার নাম ভাঙিয়ে রাজনীতির বারটা বাজিয়েছেন। খেয়াঘাটের মাঝি থেকে ল্যাট্টিনের সুইপারদের জায়গাতেও নিজের লোকদের প্রতিষ্ঠা করেছেন। অপ্রাসঙ্গিকভাবে উদাহরণ টেনে বলা যায়, দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশের মানুষরা কবে বাংলাদেশ ব্যাংক চিনেছেন? কোন আমলে সামাজিক দায়বদ্ধতা হতদরিদ্র মাঝে চিকিৎসাসেবা, শীতবস্ত্র বিতরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুদান, ক্রীড়া কালচারে উন্নয়নে স্পন্সর প্রদানের ব্যবস্থা হয়েছে? সাধারণ জনগণের দ্বারপ্রান্তে ব্যাংকসেবা পৌঁছে দিয়েছেন? উত্তর আসবে শেখ হাসিনার মনোনীত সাবেক বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমানের আমলে। পাশাপাশি রিজার্ভ চুরির অজুহাতে আজ ড. আতিউর রহমান সরকার যন্ত্রে নেই। একইভাবে অনেক কর্মঠ সরকার দরদী নিষ্ক্রিয় মানুষদের সরকার কর্মযজ্ঞের সাথে সম্পৃক্ত করার ভাবনা নিয়েই আওয়ামী লীগকে এগুতে হবে।

জাতীয় প্রেসক্লাব আঙ্গিনায় কথা হয়েছে, নবীন-প্রবীণ শুভাকাঙ্ক্ষী দুই একজন সাংবাদিকের সাথে। আলাপের একপর্যায়, তারা জোরালো ভাষায় বলেছেন, একমাত্র শেখ হাসিনার মেধা, মনন, যোগ্যতা দিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। বাকিরা পালের গোদা। তাদের আশঙ্কা এই সরকার ক্ষমতায় আসার প্রারম্ভ থেকে প্রধাণমন্ত্রীর চারপাশে আইএসআই'র (আমলা) এজেন্টরা সারাক্ষণ ঘুর ঘুর করে, করছে। এদের চিহ্নিত করে কাটছাঁট না করতে পারলে আওয়ামী লীগের কপালে দুর্দশা রয়েছে। গত ৩১ আগস্ট দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি শিরোনাম ছিল, 'বিএনপি-জামায়াত কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসক' সংবাদ বডিতে বলা হয়েছে জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসাবে পদায়ন পাচ্ছেন বিএনপি-জামায়াতপন্থী কর্মকর্তারা। প্রতিবেদক পরোক্ষভাবে জেলাগুলোর নামও উল্লেখ করেছেন। অথচ বহালতবিয়তে এরা এখনো রয়েছেন। তবে ইতোমধ্যে ২০টি জেলার জেলা প্রশাসক পরিবর্তনও করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ দলের ভেতর স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষে শংকর জাতের নেতার ভিড়তো রয়েছেই। এর উপর সুকৌশলে তাদের মাঝে ঢুকে পড়েছে সুবিধাবাদী আর একটি গোষ্ঠী। যারা আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় লোভনীয় পদ-পদবি, চাকরি-বাকরি লুফে নিয়েছেন। কোনো কোনো জেলায় রাজনীতির নামে ব্যবসায়ী ব্যক্তিরা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে অর্থ বিলিয়ে রাজনৈতিক চরিত্র-আদর্শকে ধ্বংসের পথে ঢেলে দিয়েছে। সরকারের ভোটের মাঠে ফসল ফলেছে বলে মনে হচ্ছে। তবে লাগাম ছাড়লে দুর্গতি নিশ্চিত। এখনও সময় আছে দ্রুত সামাল দেয়ার, জাতির কাছে প্রমাণ করার। দুর্নীতিবাজ, অথর্ব্য, লোভী, স্বাধীনতা বিরোধীদের পৃষ্ঠপোষকদের মুখ উন্মোচিত করে যদি তাদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে রেখে সাধারণ জনমানুষের মন জয় করতে পারে। তবেই ভোটের ফসল উঠতে পারে, না হলে সময়ই বলে দিবে ভরাডুবি কাকে বলে।

রহিম আব্দুর রহিম : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৩
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৭৫৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.