নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১১ অক্টোবর ২০১৮, ২৬ আশ্বিন ১৪২৫, ৩০ মহররম ১৪৪০
পটিয়ায় বাসাবাড়ির ভাড়া দ্বিগুণ
পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে সেলিম চৌধুরী
চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাসাবাড়ির ভাড়া দ্বিগুণ হওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ জনগণ। 'জীবিকার খোঁজে, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সন্ধানে, প্রয়োজনের তাগিদে অনেককেই নিজ বাড়ি-ঘর, পরিবার-পরিজন ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করতে হয়। তখন প্রয়োজন হয় মাথা গোঁজার জন্য এক চিলতে ছাদ। তখন বাসাভাড়া বাড়িই একমাত্র ভরসা। কিন্তু এ বাসা ভাড়া দ্বিগুণ হওয়ায় জন ভোগান্তিতে পড়েছে অনেকেই।

পটিয়া উপজেলা ও পৌর সদরে বাসা ভাড়া দেয়ার প্রচলন রয়েছে ব্রিটিশ আমল থেকে। দেশের সিংহভাগ মানুষ ভাড়া বাসার ওপর নির্ভরশীল। প্রায়শই ভাড়াটিয়ারা বাড়িওয়ালা কর্তৃক নানা ধরনের অনিয়ম ও হয়রানি নির্যাতনের শিকার হতে হয়। যেমন যখন তখন ভাড়া বৃদ্ধি করা, বিনা নোটিশে উচ্ছেদ করাসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সময়ে এ সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

এ ধরনের অনিয়ম ও হয়রানি প্রতিরোধে বাংলাদেশে প্রচলিত আইন রয়েছে ১৯৯১ সালের বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন। ভাড়াটে হিসেবে আপনার অধিকার এই আইনে লেখা আছে। এই অধিকার কোনো বাড়িওয়ালা লঙ্ঘন করলে তাকে পেতে হবে শাস্তি। কিন্তু পটিয়া পৌরসদর মুন্সেফ বাজার, ছন্দ সিনেমা, পোস্ট অফিস মোড়, তালতলাচৌকি, খাস্তগীর পাড়া, গালর্স হাইস্কুল, ছবুর রোড, থানার মোড়, আদালত রোড, ডাক বাংলো, স্টেশন রোড, রেলস্টেশন, বাসস্টেশন, বৈলতলী রোড, আলম শাহ রোড, পৌরসভা সংলগ্ন এলাকা, বাহুলী, শাহ আমির স্কুল সংলগ্ন, বিসিক শিল্পনগরী, কমল মুন্সির হাট, শান্তিরহাট, আমজুর হাট, কলেজ বাজার, মনসার টেক, পাচুরিয়া, কাগজী পাড়া, ইন্দ্রপোল, পল্লী বিদ্যুৎ, রৌশন হাট, সুচক্রদন্ডী হাউজিং সোসাইটি, সিদ্দিকীয়া আবাসিক, শেয়ান পাড়া, পটিয়া রেলওয়ে স্টেশন, আমির ভা-ার, পাইকপাড়া, কোলাগাঁও, মোহাম্মদ নগর, মইজ্জ্যার টেক, চরপাথরঘাটা, সিডিএ এলাকা, গৈড়লার টেক, কালারপোল, শিকলবাহা ক্রসিং, ভেল্লাপাড়া, তেঁতুলতলা, গোবিন্দারখীল, ফইল্ল্যাতলী, খানমোহনাসহ উপজেলাজুড়ে হাজার হাজার কাঁচা ঘর, টিনশেড, সেমিপাকা, একতলা থেকে বহুতল ভবন নির্মাণকারীরা সরকারের নিয়মকানুন অমান্য করে অধিক হারে বাসাবাড়ির ভাড়া অতিরিক্ত আদায় করছে।

ফলে দ্বিগুণ বাসাবাড়ির ভাড়া আদায়ে চরম ভোগাান্তি পোহাচ্ছে সরকারি- বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে বদলি হয়ে আসা চাকরিজীবী এবং সাধারণ জনগণ। এব্যাপারের সরকারের আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই বললেই চলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পটিয়া থানার পুলিশের এক কনস্টেবল জানান, তার বেতন ১৮ হাজার টাকা হলেও তাকে বাসা বাড়ির ভাড়া দিতে হয় ১০ হাজার টাকা দিয়ে। থাকা-খাওয়া, বাড়িতে টাকা পাঠানোসহ সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন।

পটিয়া পৌরসভার জাসদ নেতা মুক্তিযোদ্ধা আহমদ নুর বলেন, বাসাবাড়ির ভাড়া আইন সঠিক প্রয়োগ এবং তদারকির জন্য পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, আইনে বাড়ির ভাড়া মানসম্মতভাবে নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। বাড়িভাড়া সম্পর্কে এই আইনের ১৫(১) ধারায় বলা হয়েছে, ভাড়ার বার্ষিক পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাজার মূল্যের শতকরা ১৫ ভাগের বেশি হবে না। বাড়ির বাজার মূল্য নির্ধারণ করার পদ্ধতিও বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ১৯৬৪ তে স্পষ্ট করে উল্লেখ আছে। এ ভাড়া বাড়ির মালিক ও ভাড়াটের মধ্যে আপসে নির্ধারিত হতে পারে। এই আইনের ১৮ নং ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, ১৮৮২ সনের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বা ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের বিধানে যাই থাকুক না কেন, ভাড়াটিয়া যদি নিয়মিতভাবে ভাড়া পরিশোধ করতে থাকেন এবং বাড়ি ভাড়ার শর্তসমূহ মেনে চলেন তাহলে যতদিন ভাড়াটিয়া এভাবে করতে থাকবেন ততদিন পর্যন্ত উক্ত ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করা যাবে না। এমনকি ১৮(২) ধারা মতে বাড়ির মালিক পরিবর্তিত হলেও ভাড়াটিয়া যদি আইনসম্মত ভাড়া প্রদানে রাজি থাকেন তবে তাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা যাবে না।

চুক্তিপত্র না থাকলে যদি কোনো ভাড়াটে প্রতি মাসের ভাড়া পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করেন, তাহলেও ভাড়াটেকে উচ্ছেদ করা যাবে না। যুক্তিসংগত কারণে ভাড়াটেকে উচ্ছেদ করতে চাইলে যদি মাসিক ভাড়ায় কেউ থাকে, সে ক্ষেত্রে ১৫ দিন আগে নোটিশ দিতে হবে। চুক্তি যদি বার্ষিক ইজারা হয় বা শিল্পকারখানা হয়, তবে ৬ মাস আগে নোটিশ দিতে হবে। বাড়ির মালিক ন্যায়সংগত কারণ ছাড়াই ভাড়াটিয়াকে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলতে পারবেন না।

অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির মালিক ভাড়া নিতে চান না। এক্ষেত্রে চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বা যদি চুক্তি না থাকে সেক্ষেত্রে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে মানি অর্ডার এর মাধ্যমে বাড়ির মালিকের ঠিকানায় ভাড়া পাঠাতে হবে। বাড়ির মালিক যদি ভাড়ার টাকা গ্রহণ না করে সেক্ষেত্রে টাকা ফেরত আসার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ভাড়াটেকে ভাড়া নিয়ন্ত্রক, অর্থাৎ সহকারী জজের কাছে আইনজীবীর মাধমে দরখাস্ত দিতে হবে। আদালত অনুমোদন দিলে প্রতি মাসে ভাড়া আদালতে জমা দেয়া যাবে।

বর্তমানে পটিয়া উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় সরকারের বাসা বাড়ির ভাড়া সংশোধিত আইন ২০১৭ ইং এর আইন না মেনে ইচ্ছামতো বাড়ির মালিকরা বাসাবাড়ির ভাড়া দ্বিগুণ আদায় করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ। এব্যাপারে ভুক্তভোগীরা আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে নির্ধারিত বাসাবাড়ির ভাড়া আদায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৩
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬৮৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.