নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১১ অক্টোবর ২০১৮, ২৬ আশ্বিন ১৪২৫, ৩০ মহররম ১৪৪০
তারেকের ফাঁসি না হওয়ায় আক্ষেপ আ'লীগে
স্টাফ রিপোর্টার
ভয়াল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে স্বস্থি প্রকাশ করলেও তারেক রহমানের ফাঁসি না হওয়ায় আপেক্ষ রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে। দলটির নেতারা বলেছেন, দীর্ঘ প্রতিক্ষার পরে এই রায়ে তারা অখুশি নন। তবে এতে তারা পুরোপুরি সন্তুষ্টও নন। রায়ে তারেক রহমানেরও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত ছিল। তারেক রহমানকে এই হামলার প্ল্যানার বা মাস্টারমাইন্ড আখ্যায়িত করে আপিলে তার

সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তারা। গতকাল বুধবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিলম্বিত এ রায়ে আমরা অখুশি নই। তবে পুরোপুরি সন্তুষ্টও নই। এই হামলার যে প্ল্যানার বা মাস্টারমাইন্ড, তার শাস্তি হওয়া উচিত ছিল সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ।

এদিকে এই রায়কে কেন্দ্র করে বুধবার সকালে থেকেই রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় সতর্ক অবস্থানে ছিল আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সকাল থেকে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসানাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আশরাফ তালুককারসহ বিভিন্ন স্থরের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পরে শাহে আলম মুরাদ বলেন, জাতির বহুল প্রত্যাশিত রায়ে মানুষ খুশি হয়েছে। আমরাও অখুশি তা বলছি না। তবে ঘটনার মূল নায়ক বাইরে থাকায় কষ্ট পেয়েছি। প্রত্যাশা ছিল তারেক রহমানের ফাঁসি হবে।

১০ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময়কালে সাবেক মুুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রায়ের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে। এই রায়ের ফলে আর কেউ এমন ঘটনা ঘটনার সাহস পাবে না। বাংলাদেশের ইতিহাসে নজির হয়ে থাকবে। তবে মাস্টার মাইন্ড তারেক রহমানের ফাঁসি না হওয়ায় আমরা মুক্তিযোদ্ধারা পুরোপুরি খুশি হতে পারিনি। সরকারের কাছে আবেদন জানাবো, আপীল করে মূলহোতা তারেক রহমানের ফাঁসি নিশ্চিত করা হোক। কারণ ঘটনার মূলে ছিল তারেক রহমান।

রাজধানীর গুলিস্তান এরশাদ মার্কেটের সামনে ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু নেতৃত্বে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। রাজধানীর প্রবেশপথ যাত্রাবাড়ি ও ডেমরার স্টাফ কোয়াটারের সামনে সর্তক অবস্থায় ছিল ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর ডেমরা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কৌশিক আহমেদ জসিম ও সাধারণ সম্পাদক রায়হান জামিল রিপন, মাতুয়াইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল খান ও সারুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মো. ফারুকসহ আরও অনেক। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এবং পাড়া মহল্লায় সতর্ক অবস্থানে ছিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। রায়ের পর তাৎক্ষনিক মিছিল করে মুক্তিযোদ্ধারা। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক মহাসচিব সফিকুল বাহার মজুমদার টিপুর নেতৃত্বে মিছিলে সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী বীরপ্রতীক, কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদ পারভেজ জুয়েল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু এভিনিউসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ইউনিয়নে রায় ঘোষণার পরে আনন্দ মিছিল করা হয়। এসব মিছিলে 'যাবাজ্জীবন বিধান নাই, তারেক জিয়ার ফাঁসি চাই..এইমাত্র খবর এলো বাবরের ফাঁসি হলো..ফাঁসি ফাঁসি চাই তারেক জিয়ার ফাঁসি চাই'সহ..বিভিন্ন ধরনের সেস্নাগান দিতে দেখা যায়।

রায়ে সন্তুষ্ট নয় আহতরা ও নিহতদের স্বজনরা : দীর্ঘ ১৪ বছর অপেক্ষার পর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে অসন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন ঐ ঘটনায় আহতরা ও নিহতদের স্বজনরা। রায়ের পরে গতকাল বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে কথা হয় তাদের বেশ কয়েকজনের সাথে। সেদিনের ঘটনায় আহত বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খুরশিদা বেবী হেনা বলেন, আমার সারা শরীরে স্পিস্ননন্টার। এখনও আমি রাতে ঠিক মতো ঘুমাতে পারি না। তাই এই রায়ে আমরা খুশি নই। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মূল নায়ক তারেক রহমানকে তো ফাঁসি দেয়া হয়নি। তারেক রহমান একটা কালপিট। ওর ফাঁসি দিলে বেশি খুশি হতাম। তবে আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আশা করছি, উচ্চ আদালত তাকে ফাঁসি দেবেন। আওয়ামী লীগের কর্মী হেনা বেগমও সেদিন আহত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আমি আহত হয়েছি। আমরা এই রায় মানি না। আওয়ামী লীগের আরেক কর্মী আয়েশা খানম। তার মামি সেদিন নিহত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমার মামী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদ হয়েছেন। কিন্তু এই হামলার যে মূল পরিকল্পনাকারী তারেক রহমানের ফাঁসি হয়নি। এটা আমরা মানতে পারি না। আমরা চাই, উচ্চ আদালত তারেক রহমানকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন। এছাড়াও ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে এসেছিলেন সেদিনের আহত সেতারা বেগম পুতুল, আওয়ামী লীগের কর্মী সেলিম পাটোয়ারি, তাসলিমা, আফরোজা, মুক্তিযোদ্ধা নিজাম, শেফালী, হারিস হাসানসহ অনেকে। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তারাও জানালেন তাদের দুর্বিসহ জীবনের কথা। একই সাথে এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তারেক রহমানের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিও জানান তারা।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৩
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬৬৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.