নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২ অক্টোবর ২০১৭, ২৭ আশ্বিন ১৪২৪, ২১ মহররম ১৪৩৯
সরকারি কোষাগার থেকে উঠিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা
মনোহরদীর ৫টি কমিউনিটি বিদ্যালয়ে অবৈধ নিয়োগ
১০ শিক্ষিকা ৭ বছর যাবৎ চাকরি করছেন
নরসিংদী থেকে কামরুল ইসলাম কামাল
অবৈধ ও ভুয়া নিয়োগ দেখিয়ে মনোহরদীর ৫টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষিকা দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ সরকারি কোষাগার থেকে টাকা আত্মসাৎ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষিকাগণ হচ্ছেন মনোহরদীর বাঘবের কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রোকসানা ইয়াছমিন ও রেখা, শুকুন্দি কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শিউলি ও মোছা. রৌশন জাহান, চর আহম্মদপুর কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাসিনা জাহান ও সেলিনা, রুদ্রদী কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা উম্মেসালমা ও মাহমুদা আক্তার এবং নধাইর ভাষাটিয়া কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সুলতানা জাহান ও নাজমা আক্তার। গত ৭ মাসে তারা কথিত বেতন ও ভাতাবাবদ ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮০ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করেছে। বিদ্যালয়সমূহের কমিটির কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পারষ্পরিক যোগসাজশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরকে ফাঁকি দিয়ে এই কা- ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগে প্রকাশ, শিক্ষা অধিদফতর প্রণীত স্বল্প ব্যয়ী কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগ ও ভাতা প্রদান ও বিদ্যালয় পরিচালনায় সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী থানা নির্বাহী অফিসার ও থানা শিক্ষা অফিসারের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি শিক্ষক নির্বাচন ও নিয়োগ কমিটি গঠনের নির্দেশনা রয়েছে।

এই কমিটি প্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে ইন্টারভিউসহ বিভিন্ন সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষক বাছাই করে স্বল্পব্যয়ী কমিউনিটি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের বিধান দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখিত বিদ্যালয়সমূহের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মকর্তারা, তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসার ময়েজ উদ্দিনের যোগসাজশে সরকারি নিয়মনীতি তথা নির্ধারিত নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ১০ জন শিক্ষিকাকে অবৈধ পন্থায় নিয়োগ দান করে। উল্লেখিত ৫টি বিদ্যালয়ের প্রায় সবকটি বিদ্যালয়ই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১১ সালে। প্রথমে বিদ্যালয়গুলো ছিল দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট। শিক্ষক বরাদ্দ ছিল ২ জন করে। বিদ্যালয়গুলো ৪ কক্ষ বিশিষ্ট করার পর ২ জন করে প্যারা শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। পরে বিদ্যালয়গুলোকে সরকারিকরণ করার সময় ১০ জন প্যারা শিক্ষককে নিয়োগ দেখানো হয় ২০০৯ সাল থেকে। অর্থাৎ স্কুল প্রতিষ্ঠিত হবার ২ বছর পূর্ব থেকে তাদের নিয়োগ দেখানো হয়।

পরে বিদ্যালয়গুলো সরকারিকরণ করার সময় শিক্ষক তালিকা প্রেরণ কালে তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা অফিসার ময়েজ উদ্দিন তাদের অবৈধভাবে সহকারী শিক্ষক হিসেবে তালিকাভুক্ত করে তা অনুমোদনের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে প্রেরণ করে।

পরবর্তীতে ১০ জন অবৈধ শিক্ষকের নামে বেতন ভাতার বিল উত্থাপন করা হলে তৎকালীন শিক্ষা অফিসার উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আতাউর রহমান বিল পত্রে মন্তব্যে লিখেন যে, কমিউনিটি বিদ্যালয়ের বিলগুলো নিরীক্ষায় দেখা যায় প্রত্যেক স্কুলে ২ জন করে শিক্ষকের স্থলে ৪ জনের বিল দাখিল করা হয়েছে।

৪ জন শিক্ষকের বিল দাখিলের স্বপক্ষে পরবর্তী আদেশ প্রয়োজন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের এই মন্তব্যের পরও ১০ জন শিক্ষিকার অবৈধ নিয়োগে ব্যাপারে কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাঘবের কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা কমিটির সভাপতি গোলাপ খানসহ ৩ জন একই বিদ্যালয়ের অবৈধ শিক্ষিকা রোকসানা ইয়াছমিন ও রেখার নিয়োগের ব্যাপারে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি অভিযোগ দায়ের করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শহিদুল্লাহ বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেন।

এরপরও অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এই সুযোগে তারা বিগত ৭ বছর যাবৎ উল্লেখিত বিদ্যালয়সমূহে অবৈধভাবে চাকরি করছে। তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করার পরও মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।

এ ব্যাপারে মনোহরদী উপজেলা শিক্ষা অফিসার জাহেদা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এব্যাপারে কথা বলতে প্রতিবেদককে তার সাথে অফিসে দেখা করার অনুরোধ জানান। তিনি জানান, এই ঘটনা যদি সত্য হয়ে থাকে তা হলে তো ভয়াবহ ঘটনা।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১১
ফজর৫:১০
যোহর১১:৫২
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:৩০সূর্যাস্ত - ০৫:১১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩০৩২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.