নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২ অক্টোবর ২০১৭, ২৭ আশ্বিন ১৪২৪, ২১ মহররম ১৪৩৯
ফুল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) থেকে আশরাফুল ইসলাম রনি
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী আদিবাসী মানুষের বর্ষা মৌসুমে হাতে তেমন কোনো কাজ না থাকায় সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাপাত করে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে এ সকল আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশু, নারী ও পুরুষরা। আবার অনেকেই জীবন বাঁচানোর তাগিতে মহাজনি ঋণ ও আগাম শ্রম বিক্রি করছেন। কেউ কেউ ঝাড়ু ও খেজুর পাতার পাটি তৈরি করে সংসার চালোনোর চেষ্টা করছে।

জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ এবং নাটোরের গুরুদাসপুর ও সিংড়া উপজেলায় এদের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করে। এদের মধ্যে উড়াও, মাহাতো, রাজবংশী, বিদাস, কনকদাস ও স্বল্পসংখ্যক সাঁওতাল নারী-পুরুষ রয়েছেন। এক সময় এসব সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষেরা বনে-জঙ্গলে ঘুরে শিয়াল, খরগোশ, কচ্ছপসহ নানা প্রভৃতির পশু-পাখি শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বন-জঙ্গল উজার হয়ে যাওয়ায় তাদের জীবিকা নির্বাহের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সকল আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী ও পুরুষেরা ধান লাগানো, কাটা, মাড়াই, ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহের পথ বেছে নেয়। কঠোর পরিশ্রমী, সহজ-সরল আর অপেক্ষাকৃত পারিশ্রমিকের দাম কম হওয়ায় তাদের এ অঞ্চলে চাহিদাও অনেক বেশি। সাধাণত বর্ষাকালে তাদের নিজ এলাকায় কাজ থাকে না। এ অঞ্চলের ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীর সদস্য কৃষি শ্রমজীবী। কৃষিকাজে শ্রম বিক্রি করেই তাদের সংসার চালাতে হয়। তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর গ্রামের জ্যোতীস মাহাতো জানান, ভাদ্র-আশ্বিন ও কার্তিক মাসে তাদের কোনো কাজ থাকে না। এ সময় অর্থ সংকটে পড়ে অল্প দামে আগাম শ্রম বিক্রি করতে হয় বা চড়া সুদে টাকা নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এখন হাতে কাজ না থাকায় এ সকল নারী ও পুরুষেরা অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে বোরো ধান লাগানো, কাটা, এবং ইটভাটার ইট তৈরি ও গেরস্থ বাড়িতে কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে। ঐসব কাজ করার জন্য দিনে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় আগাম শ্রম বিক্রি করেছেন। অনেকেই গৃহস্থ, ইটভাটার মালিক তাদের আগাম শ্রম কিনেছেন। অথচ ভরা মৌসুমে মজুরি থাকে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। ভরা মৌসুমে বোরো লাগাতে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা মজুরি দিতে হয়। বর্ষাকালে মজুরি হিসেবে এসব শ্রমিক ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা হিসেবে আগাম শ্রম বিক্রির টাকা নিয়ে যাচ্ছে। আদিবাসী নেতা উজ্জ্বল মাহাতো জানান, এক সময়ে তাড়াশে এডিপি ওয়ার্ল্ড ভিশন নামে একটি বেসরকারি সংস্থা আদিবাসীদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের হাস-মুরগি, ছাগল, গাভী পালন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ কর্মকা-ের জন্য বিভিন্ন ধরনে অনুদান ও ঋণ প্রদান করত। কিন্তু বছর পাঁচেক ধরে এনজিও নির্ভর সহযোগিতা অনেকটা বন্ধ হওয়ার কারণে এসব নারী ও পুরুষরা আগাম শ্রম বিক্রি বৃদ্ধি পাচ্ছে। খুব কষ্টে কাটছে তাদের দিনগুলো।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৪
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৮
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৮৫৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.