নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২ অক্টোবর ২০১৭, ২৭ আশ্বিন ১৪২৪, ২১ মহররম ১৪৩৯
লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে কোটি কোটি টাকা লুটপাট
লালমনিরহাট থেকে আশরাফুল আলম দৌলত
লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে অভিনব কায়দায় চলছে কোটি টাকা লুটপাট। সুপার ও সাব-ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে ক্যাটাগরি ভিত্তিক ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুস্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করায় বুড়িমারী স্থলবন্দরে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না। একজন কোটিপতি উপজেলা চেয়ারম্যানের ইঙ্গিতে স্থলবন্দরকে ঘিরে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে আধিপত্যের লড়াই। জানা যায়, বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় বুড়িমারী স্থলবন্দর ও ভারতের মেখলিগঞ্জের চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্তে। এ বন্দরের বড় বৈশিষ্ট হলো, এখান দিয়ে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিশাল সুযোগ রয়েছে। বুড়িমারী থেকে ভুটানের রাজধানী থিম্পুর দূরত্ব মাত্র ৭০কিলোমিটার। এই স্থলবন্দর থেকে প্রতি বছর শতকোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভাবনা। কিন্তু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারণে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাই পূরণ হচ্ছে না। দেশের স্থলবন্দরগুলোর মধ্যে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর অন্যতম। ভারত, ভূটান ও নেপালের সঙ্গে এই স্থল পথে মালামাল আমদানি ও রফতানির সুবিধার জন্য বুড়িমারী এলাকার জিরো পয়েন্টে চালু করা হয়। এই বন্দর দিয়ে ভারত, ভুটান ও নেপাল থেকে কয়লা, কাঠ, পাথর, সিমেন্ট, চায়না ক্লে, বর-ক্লে, রাসায়নিক সার, কসমেটিঙ্ সামগ্রী, পশু খাদ্য, শিশু খাদ্য, বিভিন্ন ধরনের ফলমূল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, চাল, ডাল, গম, ফসলি বীজ, তামাক ডাটাসহ বিভিন্ন মালামাল আমদানি করা হয়। বাংলাদেশ থেকে রফতানি করা হয় ইলিশ মাছ, মেলামাইনের তৈরি বাসনপত্র এবং ওষুধসহ বিভিন্ন মালামাল। আর এসব কিছু ঘিরে তৈরি হয়েছে স্থানীয় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানান, স্থলবন্দরে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সিন্ডিকেটের সদস্যরা অর্থ লুটপাট করছে। বিভিন্ন অজুহাতে ভারত ও বাংলাদেশগামী যাত্রীদের কাছ থেকেও টাকা আদায় করা হয়। এ টাকার ভাগ যায় ওপর মহলেও। প্রতিদিন মালবাহী ট্রাক প্রতি সিন্ডিকেটের সদস্যরা ৫০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। প্রতিদিন অন্তত পাঁচ শতাধিক ট্রাক থেকে এ অর্থ আদায় করা হয়। যা হিসাব করলে দিন প্রতি চার লক্ষ টাকা দাঁড়াচ্ছে। মাসে সোয়া কোটি টাকার বেশি। চাঁদাবাজিও করছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। কোটি টাকার ভাগ যায় বিভিন্ন পর্যায়ে। এই ভাগাভাগি নিয়েও স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আছে আধিপত্য। অভিযোগ উঠেছে স্থলবন্দরের সিন্ডিকেট সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন উপজেলা চেয়ারম্যান। এমন কী স্থলবন্দরের সহকারী কমিশনার ওপরের যুগ্ম কমিশনার ক্ষমতার দাপটে চলছেন। তার দুর্নীতির বিষয়ে কেউ আলোচনা করলে তাদেরকে স্থলবন্দর থেকে বদলি করার হুমকি দেন সহকারী কমিশনার। কর্মকর্তাদের ইশারায় শুস্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য। ফলে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত সম্ভব হচ্ছে না। বুড়িমারী স্থলবন্দর ও রাজস্ব বিভাগের সহকারী কমিশনার মোস্তাফিজার রহমান জানান, এ স্থলবন্দরে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে রাজস্ব আাদয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২ কোটি টাকা। কিন্তু অর্জিত হয়েছে ৪৪ কোটি টাকা। এ হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ কোটি টাকা কম অর্জিত হয়েছে। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। যা আগের অর্থ বছরের চেয়ে ২ কোটি টাকা কম। অপর একটি সূত্র জানান, ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃক আমদানীকৃত গবহরভরংঃ-এর স্থলে বর্তমান ঈধৎঢ়ধং, ওহাড়রপব ্ ইরষষ ড়ভ ঊীঢ়ড়ৎঃ এর ঊীঢ় ঘড়. বসিয়ে পণ্যের ঘবঃ ্ এৎড়ংং ডবঃ পরিপূর্ণভাবে ভারতীয় সিএন্ডএফের মাধ্যমে বাংলাদেশের বুড়িমারী সিএন্ডএফকে দিলেও মূলত তা থাকছে না। বুড়িমারী স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট কাস্টমস কর্মকর্তাদের সাথে টন প্রতি অঘোষিত ঘুষ চুক্তিভিত্তিক নিজেরাই ঈধৎঢ়ধং, ওহাড়রপব ্ ইরষষ ড়ভ ঊীঢ়ড়ৎঃ-এর ঊীঢ় ঘড়. সঠিক রেখে ঘবঃ ্ এৎড়ংং ডবঃ কমিয়ে ঞজ চালান করে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন। ফলে টঝ ডলার যেমন কমে আসে, তেমনি সরকারি রাজস্বও কমে যায়। ফলে উদ্বৃত্ত রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তাসহ সিএন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ীরা মিলে লুটপাট করে নিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ঈড়সবৎপরধষ ওঃবস বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে আমদানী তেমন একটিও নেই।

চলতি বছরের বুড়িমারী স্থলবন্দরের ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি অভিযোগ উঠলে উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম তদন্ত করেন। এতে তিন কর্মকর্তা জড়িত থাকার প্রমান পান তদন্ত কমিটি। ঐ তিন কর্মকর্তারা হলেন, মজিবর রহমান, ফিরোজুল রহমান ও ধীমান চন্দ্র বর্ম্মন। উক্ত তদন্ত কমিটি বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের রক্ষিত আমদানি-রফতানি ফাইল পত্র পর্যালোচনা করে ৪২ পাতার এই তদন্ত প্রতিবেদন ১১ মে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যানের নিকট দাখিল করেন। ঐ প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বুড়িমারী স্থলবন্দরের আমদানী ও রপ্তানী ওই পন্যের রাজস্ব জনতা ব্যাংক শাখার সেনেডি ১০ নম্বর একাউন্টে জমা করার কথা। কিন্তু স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ তা নিজস্ব পরিচালিত একাউন্টে রাখেন এবং আত্মসাত করা হয়েছে মর্মে ওই প্রতিবেদনে উল্ল্যেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঐ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশও করেন তদন্ত কমিটি।

সরকারী বিধি মোতাবেক স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়মানুযায়ী প্রতিদিনের জন্য বন্দর ব্যবহারে রাজস্ব দিতে হয় ২ হাজার ৬শ ৬৭ টাকা। তথ্যমতে ৪৭ দিনে সরকার রাজস্ব পাওয়ার কথা ১ লাখ ২৫ হাজার ৩শত ৪৯ টাকা। কিন্তু ওয়ার হাউজ মাত্র একদিনের রাজস্ব ২ হাজার ৬শত ৬৭ টাকা জমা দেখিয়ে সমুদয় টাকা আত্মসাত করেছিল ঐ তিন কর্মকর্তা।

এছাড়াও বন্দরে ১৮টি অনুমোদিত পণ্যর আইটেম প্রবেশ করলেও কর্মাশিয়াল আইটেমগুলো উবপষধৎধঃরড়হ করে লাখ লাখ টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন সহকারী কমিশনার, দুই সুপারসহ কর্মকর্তারা। শুস্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাণিজ্য করায় পূরণ হচ্ছে না সরকারী রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা। মাঠপর্যায়ে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, বুড়িমারী স্থলবন্দর নিয়ে সমপ্রতি সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে একটি গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। স্থলবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে সিসি ক্যামেরা থাকলেও তারা বিভিন্ন কৌশলে সরকারি কর ফাঁকি দিতে তা প্রায় সময় অকেজো করে রাখে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৪
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৮
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৮৭৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.