নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২ অক্টোবর ২০১৭, ২৭ আশ্বিন ১৪২৪, ২১ মহররম ১৪৩৯
উত্তরার হিজড়া প্রধানের দাবি
দেশে কর্মসংস্থানের অভাবে হিজড়ারা চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে
স্টাফ রিপোর্টার
দেশের হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। সমাজে তারা অবহেলিত। এ কারণেই তারা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে দাবি করেন উত্তরা এলাকার হিজড়া জনগোষ্ঠী প্রধান আপন। তার দাবি, সমাজে হিজড়াদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবে। একই মন্তব্য পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিআইজি হাবিবুর রহমানেরও। তার মতে, সামাজিকভাবে অবহেলার শিকার হওয়ায় ও কর্মসংস্থানের অভাবেই এই জনগোষ্ঠী চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে। চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর হিজড়াদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে সাভারের ব্যবসায়ী অখিল কর্মকারকে। নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার তিনি জানান। তিনি বলেন, 'আগে কারও শিশুর জন্ম হলে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নাচ-গান করতো হিজড়ারা। এরপর বখশিশ নিয়ে চলে যেত তারা। এখন আর সেই সৌজন্য বোধ নেই। শিশুর জন্মের খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি ঘেরাও করে তারা। মায়ের কোল থেকে নবজাতককে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে টাকা দাবি করা তাদের রুটিনওয়ার্ক হয়ে গেছে।' অখিল কর্মকার বলেন, '২২ সেপ্টেম্বর আমি প্রথমবারের মতো পুত্র সন্তানের বাবা হই। সেই আনন্দের ২ দিন পার না হতেই একদল হিজড়া আমার বাড়িতে ঢুকে বাচ্চাকে কোলে নিয়ে টাকা দাবি করতে থাকে। বাধ্য হয়ে তাদের হাতে ৫ হাজার টাকা দিয়ে বাচ্চা ফিরে পেয়েছি।'

এদিকে সাভার ও উত্তরা রুটের বাসযাত্রীরা প্রতিদিনই হিজড়াদের চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাভার টু ঢাকাগামী ওয়েলকাম পরিবহণের চালক আবদুস সালাম জানান, 'কল্যাণপুর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন পর্যন্ত যেকোনো জায়গায় গাড়ি থামালেই হিজড়ারা জোর করে বাসে উঠে পড়ে। বাধা দিলে হেলপারকে মারধরও করে। তাই আমরা তাদের আর বাধা দেই না।'

জানা গেছে, রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশে হিজড়াদের ৩৯টি গ্রুপ রয়েছে। তারা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে প্রতিদিন কাপ্তান বাজার, কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন হাটে-বাজারে 'তোলা' তোলে। কেউ দিতে না চাইলে জোর করে মালামাল ছিনিয়ে নেয়। তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন যৌনকর্মী জানান, বেঁচে থাকার জন্য অনেক কাজই আমাদের করতে হয়। রাত ৮টার পর থেকে বিজয়নগর মোড় থেকে চন্দ্রিমা উদ্যান পর্যন্ত রাতের বেলায় মেয়ে সেজে বসে থাকি। আমার মতো আরও অনেকেই আছে। তারাও একেকদিন একেক জায়গায় খদ্দরের জন্য অপেক্ষা করে। পুরুষ খদ্দের যখন বুঝতে পারে আমরা হিজড়া, তখন তারা টাকা না দিয়ে চলে যেতে চায়। এসময় আমরা জোর করে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করি। চাঁদাবাজির সঙ্গে আমরা জড়িত না। এ বিষয়ে উত্তরা এলাকার হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রধান আপন জানান, 'এখন হিজড়ারা কাজ করে খেতে চায়। এজন্য পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি হাবিবুর রহমান আমাদের দেখভাল করছেন।' তবে সামাজিক অসহযোগিতার কারণেই অনেক হিজড়া বাধ্য হয়ে অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

জানতে চাইলে অ্যাডিশনাল ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, 'হিজড়ারাও তো মানুষ। সবাই যদি ওদের ঘৃণার চোখে দেখে তাড়িয়ে দেয়, তাহলে তারা বাঁচবে কিভাবে? তাদের কাছে বাড়িওয়ালা বাড়িভাড়া দেন না। তাদের দেখলেই আমরা ভয় পেয়ে যাই। তাড়িয়ে দেই। হিজড়াদের প্রতি আমাদের এমন দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই তারা চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।' হাবিবুর রহমান আরও বলেন, 'তৃতীয় লিঙ্গের এই জনগোষ্ঠীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য একটি গার্মেন্টস কারখানা ও বেশ কয়েকটি বিউটি পারলার গড়ে তুলেছি। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ জন হিজড়ার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। এভাবে তাদের সবাইকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে পারলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে।' সমাজসেবা অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকাতেই ১০ হাজার হিজড়া রয়েছে। এছাড়া সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আরও প্রায় ৫০ হাজারের মতো হিজড়া।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৪
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৮
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৮৮১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.