নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২ অক্টোবর ২০১৭, ২৭ আশ্বিন ১৪২৪, ২১ মহররম ১৪৩৯
ভারতে থাকা রোহিঙ্গাদের ঠেলে দেয়া হচ্ছে বাংলাদেশে
কঠোর অবস্থানে দিল্লী : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের নজরদারি বেড়েছে
স্টাফ রিপোর্টার ও সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
দেশের সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা ১৯ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটকদের মধ্যে ১০ শিশু, ৬ নারী ও ৩ পুরুষ রয়েছে। আটকরা হলেন- মরিয়ম বেগম, আসমা খাতুন, রাশিদা খাতুন, সুমাইয়া বেগম, গুলশান আরা খাতুন, জাইনুল বেগম, মো. আলাউদ্দিন, আজি রহমান ও এনায়েত আলি। আটক ১০ শিশুর বয়স সর্বোচ্চ ৬ বছর। গতকাল বুধবার ভোরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পদ্মশাকরা সীমান্তে পৌঁছামাত্র তাদের আটক করা হয়। বিজিবি'র পদ্মশাকরা তল্লাশি চৌকির (বিওপি) কমান্ডার সুবেদার মোশাররফ হোসেন জানান, ঐ রোহিঙ্গারা ভারত থেকে দেশটির সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী বিএসএফের সহায়তায় বাংলাদেশে আসে। এর আগে ২০১২ ও ২০১৪ সালে ২ দফায় তারা মায়ানমার থেকে ভারতের দিল্লীতে গিয়েছিল। এরপর থেকে সেখানেই বসবাস করে আসছিল।

সম্প্রতি মায়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনে রাখাইনের মুসলিম রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে। এ পর্যন্ত ২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসে। বাংলাদেশ সরকার তাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে খাদ্য বস্ত্র ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে ভারতে থাকা রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে তৎপর হয়ে ওঠে ভারতে মোদী সরকার। এ অবস্থায় দিল্লীতে থাকা উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশেও পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসা দিচ্ছে তাদেরও দেয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিল্লী থেকে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।

আটককৃত রোহিঙ্গাদের সাতক্ষীরা সদর থানায় সোপর্দ করা হয় বলে জানান বিজিবি'র ঐ কর্মকর্তা।

এদিকে সাতক্ষীরা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফ এনামুল হক জানান, আটকরা বেশ ক্লান্ত। তাদের খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার কলারোয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ১৩ জন এবং ৩ অক্টোবর কলারোয়ার হিজলদী সীমান্ত থেকে আরো ৭ রোহিঙ্গাকে আটক করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এদিকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আরও কঠোর মনোভাব নিচ্ছে ভারত। মায়ানমার সীমান্তের পাশাপাশি বাংলাদেশ দিয়েও যাতে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা ভারতে ঢুকতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম রাজ্যের সাথে মায়ানমারের এক ইঞ্চিও সীমান্ত নেই। তবু সতর্ক রয়েছে রাজ্যটি। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। নৌ ও স্থলে সার্বক্ষণিক টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইম্ফলে মিজোরামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর লালজিরিলিডিয়ান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তাদের রাজ্যে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রুখতে সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মায়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তে চলছে কড়া নজরদারি। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ১৭০ জন আরাকান শরণার্থীকে আবার ফেরত পাঠিয়েছে প্রশাসন।

অন্যদিকে ভারতে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ রুখতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে বিএসএফ। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে ৫০টি স্পর্শকাতর স্থান চিহ্নিত করে সেসব এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

৫ অক্টোবর বিএসএফের মহাপরিদর্শক (দক্ষিণবঙ্গ) পি এস আর আনাজানেয়ুলু জানান, আগে আমরা এমন ২২টি স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করেছিলাম। এখন সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছে। এসব এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিত করেছে বিএসএফ। কম সুরক্ষিত জায়গাগুলোর মধ্যে পেট্রাপোল, জয়ন্তীপুর, হরিদাসপুর, গোয়ালপাড়া ও তেঁতুলবেড়িয়া অন্যতম। উল্লেখ্য, ভারতে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে। তাদের মধ্যে ১৪ হাজার জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার মাধ্যমে নিবন্ধিত। তাদের বের করে দিতে আগস্ট মাসে বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে ভারত।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৪
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৮
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৭৯০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.