নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২ অক্টোবর ২০১৭, ২৭ আশ্বিন ১৪২৪, ২১ মহররম ১৪৩৯
প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে বিএনপি-জামায়াত!
সফিকুল ইসলাম
নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে টানা দিতীয় মেয়াদে সরকার পরিচালনা করছে ১৪ দলীয় জোটের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। সরকারের মেয়াদ শেষ হতে বাকি এখনও প্রায় দেড় বছর। এ মেয়াদ শেষে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের জনপ্রশাসনে হঠাৎ করেই বেড়েছে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত কর্মকর্তাদের দাপট। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ পদগুলোয় বহাল এসব কর্মকর্তার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই কোণঠাসা সরকার সমর্থকরা। শুধু তাই নয়, সরকারের প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদও পাচ্ছেন বিএনপি-জামায়াত-সম্পৃক্তরাই। নানান কৌশলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও বাগিয়ে নিচ্ছেন (বিএনপি-জামায়াত সমর্থক) তারাই। অনেক ক্ষেত্রে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বর্ণচোরা এসব কর্মকর্তা সৃষ্টি করছেন সমন্বয়হীনতার। এ নিয়ে জনপ্রশাসনে এখন চলছে নীরব অসন্তোষ। প্রশ্ন উঠছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও আসলে প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করছেন কারা?

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদকে বলেন, প্রশাসনের সবাই এখন আওয়ামী লীগার। কিন্তু সময়মতো এদের কাউকেই পাশে পাবে না আওয়ামী লীগ। ঐ কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদেই বসে আছেন বিএনপি-জামায়াতের সমর্থক কর্মকর্তারা। তারা ঘাপটি মেরে আছেন। সুযোগ পেলেই সুর পাল্টাবেন। অথচ যারা আওয়ামী লীগের জন্য নিবেদিত, তারা পদোন্নতি ও ভালো এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন থেকে বঞ্চিত। অপরদিকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, বিগত ২-৩ বছরে যাদের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে তাদের বেশিরভাগই সুবিধাবাদী এবং সরকারবিরোধী মনোভাবাপন্ন কর্মকর্তা। অথচ ভুল তথ্য দিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন করতে সহযোগিতা করেছেন। এমন অসংখ্য নজির আছে।

নিভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন চলমান উন্নয়ন কাজের প্রকল্প পরিচালকদের রহস্যজনক আচরণে থমকে গেছে কাজের স্বাভাবিক গতি। জাতীয় নির্বাচন যখন আসন্ন তখন প্রশাসনের এসব কর্মকর্তা সরকারকে নানাভাবে বিব্রত করতে চাইছেন। এসব কর্মকর্তাকে দ্রুত চিহ্নিত করতে না পারলে প্রশাসনে সরকারবিরোধী মহলের শক্ত অবস্থান তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট মহল। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু খোদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েই ঘাপটি মেরে আছেন সরকারবিরোধী একাধিক কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের শতাধিক কর্মকর্তা ভিন্ন মেরুর সমর্থক হলেও বর্তমান সরকারের আমলে দাপটের সাথে কাজ করছেন বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে সরকারের ভেতরে-বাইরে যে তৎপরতা চলছে, এখনই পদক্ষেপ না নিলে একাদশ নির্বাচনে সরকারি দল আওয়ামী লীগকে এর চরম মূল্য দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনের সময় যতই এগিয়ে আসছে ততই বাড়ছে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের ভূমিকা, তৎপরতা, আদেশ, নির্দেশে ব্যবসায়ী, পেশাজীবীসহ সাধারণ মানুষের সাথে সরকারের দূরত্ব সরাসরি বাড়িয়ে তুলছে। অসন্তোষের অনল তৈরি করছে ঘাটে ঘাটে। গতানুগতিক দেখা যায়, নির্বাচন এলে বিভিন্ন সমস্যা দূর করে সব মহলের সাথে সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা চলে। কিন্তু হঠাৎ করে সবই হচ্ছে তার বিপরীত। প্রভাবশালীদের কাজকর্মে অসঙ্গতি। ক্ষমতা জাহিরকরণ ও হয়রানি এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করছে। অগ্রাধিকার পাওয়া উন্নয়ন প্রকল্পে গতি নেই। এর সাথে যুক্ত হচ্ছে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম গত রোববার রাত ১০টায় বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে এক টকশোতে বলেছেন, পুলিশ প্রশাসনে ছাত্রলীগের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম বরং বিএনপি ও শিবির কর্মীদের অনেকেই প্রশাসনে অফিসার পদে আছেন। তাছাড়া উচ্চ পর্যায়ের কিছু অফিসার আছে যারা স্বাধীন ও সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশ চিন্তাধারায় নেই এবং বিশ্বাস করে না, পারলে বিরোধিতা করে এমন লোকও সরকারে আছে। এইচটি ইমাম বলেন, ২০০৯ সালে যখন শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেছিল তখন কয়েক বছর বিএনপি থেকে বলা হতো প্রসাশন দলীয়করণ হচ্ছে। কিন্তু এখন এমন কথা বিএনপি একদম বলে না। এর কারণ কী? এখন প্রশাসনে পুলিশের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টিং বদলি হচ্ছে সেগুলো বিএনপি'র মনমতোই হচ্ছে। এর আগে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকেই জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত এমন দাবি করেছিলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। এছাড়া নৌপরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খানের অভিযোগ, বিএনপি-জামায়াত আমলে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারাই জঙ্গি তৎপরতায় সহযোগিতা করছেন।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৬
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩০৭৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.