নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২ অক্টোবর ২০১৭, ২৭ আশ্বিন ১৪২৪, ২১ মহররম ১৪৩৯
থামছে না রোহিঙ্গা নির্যাতন
মায়ানমারে সেনাবাহিনীর বর্বরতা থেকে প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে আসা প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে বাংলাদেশ এখন রীতিমতো প্রমাদ গুনছে। তাদের আশ্রয়, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির জোগান, স্যানিটেশন, মহামারি রোধ ও চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং নিরাপত্তা দিতে হবে। পাশাপাশি সারা দেশে তাদের ছড়িয়ে পড়া রোধ করা এবং জঙ্গিবাদ ও অন্যান্য বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়াও যেকোনো মূল্যে রোধ করতে হবে। ফলে রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশ এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এরই মধ্যে কঙ্বাজার থেকে জিহাদি বই ও ভিডিওসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে, যারা রোহিঙ্গাদের জঙ্গিবাদে যুক্ত করার কাজে নিয়োজিত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে আরও সজাগ থাকতে হবে। রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে অবাঞ্ছিত লোকজনের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

গত সপ্তাহে মায়ানমারের একজন মন্ত্রী ঢাকা সফর করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার কথা বলে গেছেন। কিন্তু সেখানে এখনও সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা বিরোধী নিধনযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর আসছে। এ অবস্থায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ অনেকেই মনে করে, মায়ানমারে সেনা নির্যাতন পুরোপুরি বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সে দেশে কোনো রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো ঠিক হবে না। তাই মায়ানমারে সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা নিধন বন্ধ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও তৎপর হতে হবে।

মায়ানমারকে সমর্থনদানকারী চীন ও রাশিয়ার ভূমিকা বদলাতে তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মুসলিম দেশগুলোও একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বর্তমানে রাশিয়া সফর করছেন। আশা করা হচ্ছে, রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টিও তার আলোচনায় থাকবে। ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে চীনের সুসম্পর্ক রয়েছে। তারাও এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে অনেক আইন প্রণেতাই মায়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধ আরোপের দাবি জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কোনো একক দেশের বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ আগে আসবে, নাকি জাতিসংঘের উদ্যোগে সমন্বিত পদক্ষেপ আগে আসবে, তা-ও বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশের মতো একটি দুর্বল অর্থনীতির দেশের পক্ষে এত বড় চাপ কত দিন ধরে বহন করা সম্ভব হবে, বিশ্বকে তা ভাবতে হবে। এরই মধ্যে অনেক দেশ বা সংস্থা কিছু পরিমাণে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা অতি সামান্য। জাতিসংঘ এ ব্যাপারে দ্রুত ৪৩০ মিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। আমরা আশা করি, উন্নত দেশগুলো জাতিসংঘের এ আহ্বানে দ্রুত সাড়া দেবে। পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। বৈশ্বিক জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ চেষ্টা করবেই মায়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের হতাশাকে কাজে লাগাতে। তথ্যবিনিময় ও অন্যান্য সহযোগিতা দিয়ে সম্মিলিতভাবে তাদের এ চেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। কিন্তু সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে অবিলম্বে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ করতে মায়ানমারকে বাধ্য করা। আমরা আশা করি, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক উদ্যোগ শিগগিরই তা করতে সক্ষম হবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৪
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৮
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৮৩০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.