নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২১, ২৯ আশ্বিন ১৪২৮, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩
জনতার মত
শিক্ষা গুরুর সম্মান করুন
ফারজানা আক্তার বিথী
১৯৯৪ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম অধিবেশনে গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ইউনেস্কো মহাপরিচালক ড. ফ্রেডারিক এম মেয়রের যুগান্তকারী ঘোষণার মাধ্যমে ৫ অক্টোবর 'বিশ্ব শিক্ষক দিবস' পালনের শুভ সূচনা করা হয়। এরপর থেকে ১৯৯৫ সালের ৫ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই যথাযথ মর্যাদায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে। এটি দেশ-বিদেশে 'শিক্ষক' পেশাজীবীদের জন্য সেরা সম্মাননা। বিশ্বের ১০০টি দেশে এই দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। এ দিবসে শিক্ষকদের মহত্তম পেশার প্রতি পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থাই যেন শ্রদ্ধায় নুইয়ে পড়ে। রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিক্ষকদের মর্যাদা দেয়া হয়, যা আমাদের দেশে নেই। চীনে একজন অভিজ্ঞ শিক্ষককে ডক্টর উপাধিপ্রাপ্ত শিক্ষকের সমান মর্যাদা দেয়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান বা মালয়েশিয়ায় শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা অনেক উপরে। শ্রীলঙ্কায় শিক্ষকদের মন্ত্রীর মর্যাদা দেয়া হয়। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে শিক্ষকদের উচ্চতর স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রদান করা হয়। গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটল বলেছেন, 'যারা শিশুদের শিক্ষাকালে ব্রতী তারা অভিভাবকদের থেকেও অধিক সম্মানীয়।

পিতা-মাতা আমাদের জীবন দান করেন ঠিকই, কিন্তু শিক্ষকরা সেই জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেন। প-িত জওহরলাল নেহেরু বলেছেন, পৃথিবীতে যে যত মহৎ হোক না কেন, সে কোনো না কোন শিক্ষকের অধীনে জ্ঞান অর্জন করেছে। তাই পৃথিবীতে যতগুলো সম্মানজনক পেশা তার মধ্যে শিক্ষকতা সর্বোচ্চ সম্মানিত পেশা। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, কৌতূহল জাগানো ও কৌতূহল নিবৃত্ত করা শিক্ষকের কাজ। মার্কিন প্রসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন তার পুত্রের শিক্ষকের কাছে লেখা পত্রে বলেছিলেন, 'আমার পুত্রকে জ্ঞানার্জনের জন্য আপনার কাছে পাঠালাম। তাকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন_ এটাই আপনার কাছে আমার বিশেষ দাবি। পৃথিবীতে পিতা-মাতার সাথে মানুষের যেমন নাড়ির সম্পর্ক, তেমনি শিক্ষকের সাথে ছাত্রদের সম্পর্ক আত্মার। শিক্ষকরা আমাদের আত্মবোধ গড়ে দেন। জ্ঞানহীন মানুষ যদি পশুর সমান হয়ে থাকে, সেই মানুষের মনে জ্ঞানের আলো জ্বেলে প্রকৃত মানুষ করে তোলে একজন আদর্শবান শিক্ষক। শিক্ষার্থীর সাথে শিক্ষকের সম্পর্ক হওয়া উচিত অভিভাবকতুল্য ও বন্ধুসুলভ। শিক্ষকরা মৌলিক চরিত্র বজায় রেখে প্রথমে হবেন অভিভাবক তারপর বন্ধু। অভিভাবক ও বন্ধুত্বের একটি মিশ্রণ থাকা উচিত শিক্ষকের আচরণের মধ্যে। ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক একটি চমৎকার পরিপূরক সম্পর্ক। শিক্ষকরা হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। সুতরাং, শিক্ষকদের হতে হবে আদর্শবান। তবে অনেকাংশেই সমাজ আজ অবক্ষয়গ্রস্ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাণিজ্যালয়ে পরিণত। শিক্ষকরা স্রেফ বিদ্যাজীবীতে পরিণত হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা ও একান্ত শিষ্য নেই, অভিভাবকদের রুচির প্রভাবে শিক্ষা পণ্যের ক্রেতা হয়েছে। সমাজে দুর্নীতি- অনিয়ম বহাল রেখে শিক্ষাব্যবস্থাকে পূতপবিত্র রাখা অসম্ভব। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটতে পারে শিক্ষার বাজারজাত বন্ধ হলে। শিক্ষকদের সম্মানজনক আয়ের ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক উদ্যোগ বা উভয়ের অংশীদারিতে করতে হবে। ক্লাসে বিভিন্ন মানের শিক্ষার্থী থাকবে, সবার সাথে সমান আচরণ কাম্য। শিক্ষাঙ্গন থেকেই যেনো বৈষম্যের সূচনা না হয়, সে বিষয়ে তৎপর হতে হবে।

শিক্ষা বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ এবং সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যকার বৈষম্য দূর করতে হবে। শিক্ষা ক্যাডাররা শিক্ষক হিসেবে সম্মান পেলেও বেসরকারি স্কুল, ডিগ্রি কলেজ, অনার্স- মাস্টার্স কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যারা কর্মরত, তাদের অনেকে প্রতিষ্ঠান থেকে না হয় সরকার থেকে অথবা দুটো উৎস থেকেই বেতন-ভাতা ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গবেষণা কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ৬৬ হাজার কিন্টারগার্ডেনে কর্মরত ১০ লাখের কাছাকাছি শিক্ষক করোনাকালে প্রতিষ্ঠান ও পেশার অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে ব্যস্ত। শিক্ষক হলেন আলোকবর্তিকা, সূর্যের মতো। তার আলোয় শিক্ষার্থীর অজ্ঞানান্ধকার দূর হয়। আমাদের প্রত্যাশা শিক্ষকরা সমাজ, রাষ্ট্রের আলোকবর্তিকার মতো কাজ করবে। শিক্ষকদের কাছে সমাজের প্রত্যাশা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে শিক্ষকদের প্রত্যাশা, মান মর্যাদা নিয়ে শিক্ষকদের বেঁচে থাকার আকুতি এবং তা নিশ্চিতকরণে সমাজের কাছে তাদের দায়বদ্ধতা, শিক্ষকতার মতো মর্যাদাপূর্ণ পেশার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ঘনিষ্ঠ আচরণ কতটুকু সম্ভব হচ্ছে, তার যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।

ফারজানা আক্তার বিথী : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৫
ফজর৪:৪৪
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৭
মাগরিব৫:২৮
এশা৬:৪১
সূর্যোদয় - ৬:০০সূর্যাস্ত - ০৫:২৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫২৮২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.