নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ১৮ অক্টোবর ২০২০, ২ কার্তিক ১৪২৭, ৩০ সফর ১৪৪২
কোন্ অদৃশ্য শক্তির কারণে কিশোররা ভয়ানক হয়ে উঠছে?
আজহার মাহমুদ
কিশোর গ্যাং শব্দটি আমাদের সমাজে এখন খুব বেশি পরিচিত। গ্যাং বলতে আমরা জানি একাধিক জনের একটি দল, যা বর্তমানে নেতিবাচক কর্মকা-কে নির্দেশ করে। কিশোর গ্যাং অনেকটা সে রকম। এসব গ্যাং তৈরি হয় বিপথে যাওয়া কিশোরদের মাধ্যমে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব কিশোররা নিজেদের কার্যকলাপ শেয়ার করে। এসব কিশোরদের মধ্যে এ সময় হিরোইজম তৈরি হয়। প্রথম দিকে অপরাধের সঙ্গে সঙ্গে হাতে মাদকও উঠে আসে। এলাকার আধিপত্য নিয়েও এক ধরনের অহমিকা কাজ করে এদের ভেতর। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নিজেদের এলাকায় নিজেরাই রাজা। রাতে স্পিডে মোটরসাইকেল রেস, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, ছিনতাই বা চাঁদাবাজিও এদের অন্যতম কাজ। এরপর একসময় মাদক বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে এসব কিশোররা। এছাড়া এক এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে অন্য এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সব সময়ই দ্বন্দ্ব লেগেই থাকে। দ্বন্দ্ব থেকে প্রায়ই হুমকি-ধমকি ও শারীরিক আঘাতের মতো ঘটনা ঘটে থাকে। প্রকাশ্যে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েই একদল আরেক দলের ওপর হামলা চালায়।

এতে খুনখারাপির মতো ঘটনাও ঘটে থাকে। সম্মানিত ও বয়োজ্যেষ্ঠদের তাদের কাছে কোনো মূল্যই নেই, তাদের কোনো তোয়াক্কাই করে না এসব কিশোর গ্যাং। এদের পরনে বেশিরভাগ টি-শার্ট, চোখে সানগ্লাস। চুলে নিত্যনতুন অভিনব স্টাইল। রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানে। গান গায় উচ্চৈস্বরে। পর্দার আড়ালের গ্যাং লিডার বড় ভাইরূপী গডফাদাররা এদের 'দেখভাল' করে। বড় ভাইরা তাদের আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে এদের ব্যবহার করে। তাদের মিছিল মিটিং মারামারি এসবে ব্যবহার করে। এভাবেই তারা হয়ে ওঠে অপ্রতিরোধ্য, ভয়ঙ্কর, অমানবিক।

অথচ যেখানে এই বয়সে কিশোরদের চোখে থাকার কথা দেশকে ভালোবাসার স্বপ্ন, নিজেকে যোগ্যতর করে গড়ে তোলার স্বপ্ন সেই কিশোরদের চোখে আজ হিংসার আগুন। তাদের হাতে কলমের পরিবর্তে চাপাতি, রামদা, চুরসহ বিভিন্ন অস্ত্র। তাদের মুখে মাদকের নেশা। তাদের কাজ ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জমিদখল, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, ধর্ষণ এমনকি হত্যা।

সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও দেখে দেশের মানুষ আতংকিত এবং স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। কিছু কিশোর এবং যুবক মিলে একজন নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে। ৩২ দিন পর সেই ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেয় তারা। কারণ তাদের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি হননি ওই গৃহবধূ। তাদের বাহিনীর নাম দেলওয়ার বাহিনী। এমন অনেক বাহিনী আছে আমাদের সমাজে। যাদের পেছনে আছে রাজনৈতিক নেতারা। ধর্ষণ করলে, খুন করলে, মাদক সেবন করলে তারাই আড়াল থেকে সহযোগিতা করে। যার কারণে এ সকল কিশোররা প্রতিনিয়ত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে।

পত্রপত্রিকায় বা টেলিভিশনে এদের গ্রেফতারের খবর মাঝেমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি। আশঙ্কার বিষয় হলো এই ধরনের চক্র ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের মাথাব্যথার কারণ এখানেই। এসব কিশোররা সমাজ নির্মাণের কারিগর হতে পারত। অথচ আজ তাদের আচরণ বা তাদের চলন দেখলে মনে প্রশ্ন জাগে আমাদের এ কিশোর প্রজন্ম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। যদিও কয়েকটি গ্রুপ বা কয়েকজন কিশোর-কিশোরী নিয়ে সামগ্রিক বিচার করা ঠিক না তবে এদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই সংখ্যা বাড়তে বাড়তে যে একসময় আমাদের বড় সংকটে পড়তে হবে না তার নিশ্চয়তা কি?

সারাদেশে কিশোর অপরাধ নিয়ে এখন আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। এদের সংশোধনের উপায় নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। যে ভুল পথে এরা এগিয়ে চলেছে তা যে অন্ধকার তা তাদের মস্তিষ্কে ঢোকাতে হবে। যে পথের না আছে কোনো শুভ সমাপ্তি। যে পথে রয়েছে পদে পদে অনিশ্চয়তা, সেখানে এসব কিশোরদের দেখলে মনে হয় এরা অপার শান্তি পায়। তাদের এই বোধ কেন হলো। কোনো নিঃসঙ্গতার জালে পড়ে এসব পথে তরুণরা পা বাড়াচ্ছে সেটাও ভাববার বিষয়।

শিশু-কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা সমাজের জন্য ভয়ঙ্কর। তাদের এই পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। যেখানে এসব ছেলেদের হাতে থাকার কথা বই। এদের কালচার হবে একাডেমিক। রাস্তায় কুপিয়ে মানুষ মারতে এদের হাত কাঁপে না। অথচ ওদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব ছিল।

তবে এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা বেশিরভাগ ভেঙে যাওয়া পরিবারের সন্তান যারা ছোটবেলা থেকেই একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে শৈশবকালীন সময় পার করেছে, পথশিশু যারা সমাজে সর্বদাই অবহেলিত এবং আনন্দের কোনো উপলক্ষ পায়নি এবং সেই সব কিশোর যারা প্রযুক্তিকে নেতিবাচক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। এসব ছাড়াও আরো কারণ রয়েছে কিশোরদের বিপথগামী হওয়ার। এসব কিশোরদের সংশোধন করা জরুরি। কেবল শাস্তি দিয়েই সমস্যার সমাধান করা যাবে না। বিশ্লেষকদের মতে, দরিদ্রতা, খেলাধুলার অভাব, পারিবারিক মনিটরিংয়ের অভাবে ছেলেরা এই বিপথে হাঁটছে। তাই এটা নিয়ে রাষ্ট্রকে ভাবতে হবে। কিশোর গ্যাংয়ের কারণে সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। পিতা-মাতাগণ সন্তানদের নিয়ে রয়েছেন চিন্তিত। এই বুঝি সন্তান কোনো দলের সাথে জড়িয়ে গেল।

তবে আমি মনে করি পিতা-মাতা ও অভিভাবকরা চাইলেই নিজেদের সন্তানকে এসব থেকে দূরে রাখতে পারেন। এজন্য অবশ্যই নিজের কিশোর বয়সের সন্তানদের সঙ্গে খোলামেলাভাবে মিশতে হবে। বুঝতে হবে সন্তান কি চায়! অবশ্যই সন্তানের সব অন্যায্য চাহিদা পূরণ নয় বরং যেটা দরকারি সেটাকেই পূরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের বুঝতে হবে কিশোরগণ আমাদেরই দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার। এদের সুপথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রের সকলের।

পরিশেষে বলতে চাই একটি দেশের ভবিষ্যৎ সম্পদ এই কিশোররাই। তাই তাদের বিপথগামী থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব আপনার আমার আমাদের সকলের। এসব কিশোররা কারো ভাই, কারো ছেলে, কারো বন্ধু। তাই আমাদের উচিৎ তাদের সচেতন করা এবং এসবের কুফল বর্ণনা করা। সচেতনতাই পারে আমাদের রক্ষা করতে।

আজহার মাহমুদ : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৩
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৮৭১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.