নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ১৮ অক্টোবর ২০২০, ২ কার্তিক ১৪২৭, ৩০ সফর ১৪৪২
জনতার মত
মাদক নির্মূলে চাই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা
ইয়াসমিন খাতুন
মাদক এক প্রকার নেশা যার ভয়াবহতা সমগ্র সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে। মাদকের কালো থাবায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবন বিধ্বস্ত। এর ছোবলে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও এক বিভীষিকাময় সময় পার করছে। গ্রাম থেকে শুরু করে শহর অব্দি সর্বত্রই মহামারী রূপ ধারণ করেছে। ধ্বংস করছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। যাদের হাতে দেশের কলকাঠি বিকশিত হবার কথা ছিল তারাই আজ মাদকের যোগানদাতা। মাদকের করাল গ্রাস একটি দেশ, জাতি, সমাজ ও পরিবারকে ভূলুণ্ঠিত করছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আজকের যুবসমাজ ও তাদের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে অসংখ্য প্রাণ। মাদক মানবজীবনকে প্রতিনিয়ত দুর্বিষহ বিপদের মুখোমুখি করতে সবচেয়ে জোরালো ভূমিকা পালন করছে। মাদক মানেই মৃত্যু ও ধ্বংস অনিবার্য।

মাদক একটি সামাজিক সমস্যা। নানাবিধ কারণে মাদকাসক্ত লোকের প্রবণতা বাড়ছে। কর্মহীন জীবন মাদক সেবনে পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্ক বিঘি্নত হলে মাদকের প্রতি তারা ঝুঁকে পড়েন। অতিরিক্ত বিষণ্নতার হাত থেকে রক্ষা পাবার প্রতিষেধক হিসেবে অনেকে মাদকের প্রতি আসক্ত হয়। সংসারের অভাব-অনটনে পড়ে অধিকাংশ জনেরা মাদক সেবনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এবং মাদকের ব্যবসায় যোগ দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। অনুকূল পরিবেশের অভাবে মাদকসেবীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে ধর্মীয় জ্ঞান ও অনুশাসনের সঠিক শিক্ষা না থাকায়।

মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব ব্যক্তিকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে যায়। মাদক সেবনের ফলে যে কেউ মারাত্মক অপরাধকর্মে লিপ্ত হতে সংকোচবোধ করে না। ধর্ষণ, খুন, নারকীয় হত্যাযজ্ঞের মতো নিকৃষ্টতম কাজে জড়িত হতে থাকে। মাদকের অপ্রপ্রয়োগ শারীরিক, সামাজিক ও মানসিক ক্ষতি সাধন করছে। ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তি কমে যাচ্ছে। হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতার ব্যাঘাত ঘটছে। বৃক্ক অকেজো হয়ে পড়ছে। হজম শক্তি কমে যাওয়া থেকে শুরু করে ত্বক খসখসে শরীরে ঘা থেকে অনেক সময় পচন ধরছে। লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হতেও দেখা যাচ্ছে। মাদক সেবনে অত্যধিক নেশা মানুষকে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই করতে প্ররোচনা দিচ্ছে। ফলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মাদক প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। কঠোর প্রচারণা অভিযান চালানো এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। মাঝে মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা। মাদকের ভয়ঙ্কর পরিণতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিতকরণ ও তার বিস্তার রোধে প্রশাসনকে তৎপর ভূমিকা রাখতে হবে। মাদককে সকল ধর্ম নিষিদ্ধ করেছে তা তুলে ধরা। মসজিদ, মন্দির, গীর্জাসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে মাদকের কুফল সম্পর্কে অবহিত করা। পরিবারের কোনো সদস্য যাতে মাদকের কবলে না পড়ে সেদিকে পরিবারের নজর রাখা। সর্বাবস্থায় আইনের প্রয়োগ ও এর বাস্তবায়ন ঘটাতে পারলে মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা দিনে দিনে কমে আসবে।

ইয়াসমিন খাতুন : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৩
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৮৮৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.