নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ১৮ অক্টোবর ২০২০, ২ কার্তিক ১৪২৭, ৩০ সফর ১৪৪২
সর্বহারা ও বিষের বাঁশি কাব্যে নজরুলের তৃণমূল-ভাবনা
আবু আফজাল সালেহ
বাংলা কবিতায় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ কাজী নজরুল ইসলাম। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে এই কবি বাঙালির চৈতন্যে প্রথম বড় ধরনের ধাক্কা দিলেন; তিনি ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন। লিখলেন হিন্দু মুসলমান মিলনের বহু কবিতা ও গান। 'অসহায় জাতি ডুবিছে মরিয়া, জানে না সন্তরণ/কা-ারি! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি গান।/হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোনজন?/কা-ারি! বল, ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা'র।' (কা-ারি হুঁশিয়ার)

নজরুলের সর্বহারা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এখানে সমাজের খেটেখুটে খাওয়া শ্রেণী-পেশার মানুষের কথা বলা হয়ছে। এরকম ১০টি কবিতার সমন্বয়ে চমৎকার কাব্য এটি। 'আমার কৈফিয়ত' নামীয় বিখ্যাত কবিতাটি এ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া অন্য নয়টি কবিতা হচ্ছে- সর্বহারা, কৃষাণের গান, শ্রমিকের গান, ধীবরদের গান, ছাত্রদলের গান, কা-ারি হুঁশিয়ার, ফরিয়াদ, প্রার্থনা ও গোকুল নাগ। 'সর্বহারা' কবিতায় শেষের দিকের কবির আহ্বান: '...মাঝিরে তোর নাও ভাসিয়ে/মাটির বুকে চল!/শক্ত মাটির ঘায়ে হউক/রক্ত পদতল।/প্রলয়-পথিক চলবি ফিরি/দলবি পাহাড়-কানন-গিরি;/হাঁকছে বাদল ঘিরি ঘিরি,/নাচছে সিন্ধুজল।/চল রে জলের যাত্রী এবার/মাটির বুকে চল '-(সর্বহারা)। শ্রমিকের ঘামে সভ্যতা তৈরি। কিন্তু তাদের মূল্যায়ন করা হয় না। এ অবস্থা নজরুলের আগে বা তাঁর সময়েও বিদ্যমান ছিল। বর্তমানেও এ বৈষম্য বিদ্যমান। এ ব্যাপারে নজরুলের কঠিন আহ্বান : '... আমরা পাতাল খুঁড়ে খনি/আনি ফণীর মাথার মণি,/তাই পেয়ে সব শনি হলো ধনী রে।/এবার ফণি-মনসার নাগ-নাগিনী/আয় রে গর্জে মার ছোবল।/ধর হাতুরি, তোল কাঁধে শাবল...' (শ্রমিকের গান)

ছাত্রসমাজকেও একত্রিত হতে বলেছেন কবি। কোনো অধিকার আদায় বা আন্দোলন-সংগ্রামে যুব ও ছাত্রসমাজকে জেগে উঠতে হয়। ছাত্রদের প্রতি কবির আহ্বান : 'আমরা শক্তি আমরা বল/আমরা ছাত্রদল।/মোদের পায়ের তলায় মূর্ছে তুফান/ঊধর্ে্ব বিমান ঝড়-বাদল।/আমরা ছাত্রদল '-(ছাত্রদলের গান)। দেখা যায়, সব যুগেই ছাত্রদেরকে বলিদান করা হয়। বিপথে নিয়ে দাবি আদায় থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়। তারুণ্য শক্তিকে সবাই ভয় পায়। সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উল্লেখিত কবিতায় বলেন, 'মোদের কক্ষচ্যুত ধূমকেতু-প্রায়/লক্ষ্যহারা প্রাণ,/আমরা ভাগ্যদেবীর যজ্ঞবেদির/নিত্য বলিদান।/যখন লক্ষ্মীদেবী স্বর্গে ওঠেন/আমরা পশি নীল অতল।/আমরা ছাত্রদল ' ছাত্রদের কল্যাণেই ইতিবাচক বিশ্ব দেখা সম্ভব। কবি ছাত্রদলের প্রতিনিধি হিসাবে কবিতাটির শেষে বলেন, 'আমরা রচি ভালোবাসার/আশার ভবিষ্যৎ,/মোদের স্বর্গ-পথের আভাস দেখায়/আকাশ-ছায়াপথ।/মোদের চোখে বিশ্ববাসীর/স্বপ্ন দেখা হোক সফল।/ আমরা ছাত্রদল '

কোরাসমূলক কবিতা হচ্ছে 'কা-ারি হুঁশিয়ার'। ব্রিটিশ শাসনে সমাজে নানা অন্যায় বিরাজমান। দোদুল্যমান নিয়ম-নীতি। সংকটাপন্ন জাতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বাঙালিকে জাগাতে চেয়েছেন কবি নজরুল। 'কা-ারি গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার/লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে, যাত্রীরা হুঁশিয়ার।/দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ,/ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?/ কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ।/এ তুফান ভারি, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার...।' এই কবিতায় অনুপ্রাসের দারুণ প্রয়োগ করেছেন কবি। অবশ্য কবি নজরুলের এমন অনুপ্রাসের ছড়াছড়ির ঝলক দেখিয়েছেন অনেক কবিতায়। নজরুল এখানেও অনন্য। রূপকধর্মী এ কবিতায় জাতিকে উত্তরণ করাতে চেয়েছেন। 'প্রার্থনা' কবিতাটির ফর্ম ব্যতিক্রম। গানের মতো এটি। 'এস যুগ-সারথি নিশঙ্ক নির্ভয়/এস চির-সুন্দর অভেদ অসংশয়/জয় জয়।/জয় জয়।...'। 'ছাত্রদলের গান' কবিতাটিও ব্যতিক্রম। অনেকে ছড়া হিসাবেও বিবেচনায় এনে থাকেন। শৈশবের জনপ্রিয় কবিতা হচ্ছে 'ছাত্রদলের গান'।

'আমার কৈফিয়ত' কবিতাটি তো নজরুলের জীবন ও সাহিত্যকর্ম, সমালোচনার ফিরিস্তি। এটাকে নজরুলের 'ইস্তেহার'ও বলা যায়। ''বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই 'নবী',/কবি ও অকবি যাহা বল মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি!/... কেহ বলে, তুই জেলে ছিলি ভালো, ফের যেন তুই যাস জেলে।/গুরু ক'ন তুই করেছিস শুরু তলোয়ার দিয়ে দাড়ি চাঁচা।/প্রতি শনিবারই চিঠিতে প্রেয়সী গালি দেন তুমি, 'হাঁড়ি চাঁচা'।/আমি বলি, প্রিয়ে 'হাটে ভাঙ্গি হাঁড়ি_/অমনি বন্ধ চিঠি তাড়াতাড়ি।/সব ছেড়ে দিয়ে করিলাম বিয়ে, হিন্দুরা কন 'আড়ি চাচা'।/যবন না আমি কাফের ভাবিয়া খুঁজি টিকি দাড়ি, নাড়ি কাছা।/মৌলোভী যত মৌলবী আর ''মোল্লারা'' কন হাত নেড়ে,/'দেব-দেবী নাম মুখে আনে, সবে দাও পাজিটার জাত মেরে।/...'আমপারা' পড়া হাম-বড়া মোরা এখনো বেড়াই ভাত মেরে।'/হিন্দুর ভাবে, 'পার্শী-শব্দে কবিতা লেখে, ও পা'ত-নেড়ে।'/...প্রার্থনা ক'রো- যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস,/যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ!''- 'আমার কৈফিয়ত' কবিতায় কবি নজরুলের মানস-চরিত্রের পরিচয় পাওয়া যায়। এই কবিতায় তাঁর অসামপ্রদায়িকতার চেতনতা, কবিতায় ফার্সি-আরবির ব্যবহার, বিভিন্ন ধর্মের তথাকথিত মোড়লদের প্রতি ঘৃণার প্রকাশ পাওয়া যায়। কবি কবিতা-গান-গজল লেখেন সেটাও পাওয়া যায়। কবি যে জেল খেটেছেন, আবার এমন লিখলে জেলে যেতে হতে পারেন তার শঙ্কাও করেছেন। অন্যেদের চোখে তা দেখিয়েছেন। এত কিছুর পরেও তিনি মানবতাকে উচ্চে তুলে ধরেছেন। মানুষের গ্রাস যারা কেড়ে নেয় তাদের প্রতি অভিশাপ করেছেন। এস বিষয়গুলো আলোচনা করলেই কবির সাহিত্যকর্ম ও জীবনী আলোচনা করা সম্ভব হবে।

২৭টি কবিতার সমন্বয়ে বিষের বাঁশি কাব্যগন্থ। গান প্রধান বেশ কিছু কবিতা রয়েছে এ কাব্যে। 'শিকল-পরার গান' নামীয় রক্তগরম করার কবিতা ও অসামপ্রদায়িক কবিতা 'জাতের নামে বজ্জাতি' এ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হচ্ছে- সেবক, মুক্ত-নদী, বিজয় গান, পাগল পথিক, ভূত ভাগানোর গান, চরকার গান, উদ্বোধন, অভিশাপ, ঝড় ইত্যাদি। এই কাব্যগ্রন্থে গানমূলক কবিতা বেশি।

নজরুল জেলে থাকাকালীন লিখলেন: 'এই শিকল-পরা ছল মোদের এ শিকল-পরা ছল।/এই শিকল পরেই শিকল তোদের করব রে বিকল।।' এটি এ কাব্যের 'শিকল-পরার গান' কবিতার অংশ। আমরা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে এ কবিতাটি সেস্নাগান বা গান হিসাবে পরিবেশন করি। এ গানটি একাত্তরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। শিল্পীদের মুখে বা ছাত্রসমাজের মুখ থেকে কম্পিত এ গান মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস জুগিয়েছে। ইংরেজদের লক্ষ্য করে কবি নজরুল বললেন: 'তোমরা ভয় দেখিয়ে করছ শাসন, জয় দেখিয়ে নয়;/সেই ভয়ের টুঁটিই ধরব টিপে, করব তারে লয়!/ মোরা আপনি মরে মরার দেশে আনব বরা ভয়,/মোরা ফাঁসি পরে আনব হাসি মৃত্যু-জয়ের ফল ' শত্রুর বিপক্ষে এমন সাহসী উচ্চারণ! ভাবা যায়! নজরুলের পক্ষেই সম্ভব। এমন অনেক সাহসী উচ্চারণ তিনি দেখিয়েছেন। ফলে, বারংবার জেলও খেটেছেন। তাঁর পাঁচটি বই নিষিদ্ধও করেছে ব্রিটিশ শাসকরা।

'জাতের বজ্জাতি' কবিতাটি তো ব্যাপক জনপ্রিয়। 'জাতের নামে বজ্জাতি সব জাত-জালিয়াৎ খেলছে জুয়া/ছুঁলেই তোর জাত যাবে? জাত ছেলের হাতের নয় তো মোয়া ' দিয়েই কবিতাটি শুরু করেছেন কবি নজরুল। হিন্দু-মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় জাত-পাত নিয়ে অনেক কুসংস্কার ও আলোচনা হত। একঘরে করার নীতিও ছিল সমাজে। এখনো এমন দৃশ্য-কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আলোয় কমেছে কিছুটা। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রবলও হয়। হানাহানি হয়, দাঙ্গা হয়। রক্তারক্তি হয় প্রায়ই। এসবের বিরুদ্ধেই কবি কলম ধরেছেন। কবির মতে, জাত ওত সহজে নষ্ট হওয়ার জিনিস নয়। জাতের স্বরূপ নিয়ে কবিতার মধ্যভাগে লিখলেন: 'সকল জাতই সৃষ্টি যে তাঁর, এ বিশ্ব-মায়ের বিশ্ব-ঘর,/মায়ের ছেলে সবাই সমান, তাঁর কাছে নাই আত্ম পর।/(তোরা) সৃষ্টিকে তাঁর ঘৃণা করে/স্রষ্টায় পূজিস জীবন ভরে,/ভষ্মে ঘৃত ঢালা সে যে বাছুর মেরে গাভী দোওয়া / বলতে পারিস বিশ্ব-পিতা ভগমানের কোন সে জাত?...'। হিন্দুদের মধ্যে বিভিন্ন জাত-পাত আছে, বিভিন্ন সম্প্রদায়-উপসম্প্রদায় আছে। এসবে বিভিন্ন শ্রেণী-বৈষম্য বিদ্যমান। কবি এসবের কটাক্ষ করে কবিতাটি রচনা করেন। কবির কাছে 'মানুষ'-ই মুখ্য। সবাই মানুষ। স্রষ্টা একজনই, সবাই তাঁরই সৃষ্টি। তাহলে কেন বিভেদ-বিভাজন থাকবে? এ মনোভাব বর্তমানেও প্রাসঙ্গিক। নজরুলের শক্তিশালী এই চেতনার বহিঃপ্রকাশ বর্তমান সমাজেও কুঠারাঘাত হানার জন্য অঙ্েিজন জোগাতে সক্ষম।

বিষের বাঁশি কাব্যের শেষ কবিতা হচ্ছে-'ঝড়'। এখানে কবির মনের কথা লেখা আছে। টালমাটাল অবস্থাকে কবি 'ঝড়' হিসাবে দেখিয়েছেন। একইসঙ্গে নিজের লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছেন। 'ঝড়-ঝড়-ঝড় আমি-আমি ঝড়-/শন-শন-শনশন-ঝড়ঝড় ঝড়-/কাঁদে মোর আগমনী আকাশ বাতাশ বনানীতে।/জন্ম মোর পশ্চিমের অস্তগিরি-শিরে,/যাত্রা মোর জন্মি আচম্বিতে/প্রাচী'র অলক্ষ্য পথ-পানে...।'

'মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান'-মানুষের কথা, মানবতার জয়গানই মুখ্য হিসাবে ধরা দিয়েছে। গান, কবিতা ও প্রবন্ধে মানবতা লক্ষ্য করেই রচিত হয়েছে। নারী হিসাবে কাউকে অবমূল্যায়ন করেননি। বরং প্রতিবাদী কণ্ঠেই লিখছেন। হাতুরি ও শাবল শ্রমিকের প্রতীক। এ দুটির মাধ্যমেই রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়। এ দুটি অনুসঙ্গ নিয়েই শোষণের বিরুদ্ধে শ্রমিকের রুখে দাঁড়ানোর মন্ত্র দিলেন নজরুল এভাবে, 'ওরে ধ্বংস পথের যাত্রীদল!/ধর হাতুরি, তোল কাঁধে শাবল... মোদের যা ছিল সব দিইছি ফুঁকে,/এইবার শেষ কপাল ঠুকে!/ পড়ব রুখে অত্যাচারীর বুকেরে!/আবার নতুন করে মল্লভূমে/গর্জাবে ভাই দল-মাদল!/ ধর হাতুরি, তোল কাঁধে শাবল।' সর্বহারা কাব্যের ''ধীবরদের গান'' কবিতায় নজরুল বলেন, 'ও ভাই নিত্য-নতুন হুকুম জারি/করছে তাই সব অত্যাচারীরে,/তারা বাজের মতন ছোঁ মেরে খায়/আমরা মৎস্য পেলে।' এমন আরো কিছু কবিতাংশ-

(১)'ওরে ধ্বংস-পথের যাত্রীদল।/ধর হাতুরি, তোল কাঁধে শাবল।।/আমরা হাতের সুখে গড়েছি ভাই,/পায়ের সুখে ভাঙব চল।/ধর হাতুরি, তোল কাঁধে শাবল...'(শ্রমিকের গান, সর্বহারা)

(২) 'ওঠ রে চাষি জগদ্বাসী ধর কষে লাঙল!/আমরা মরতে আছি-ভালো করেই মরব এবার চল /মোদের উঠান-ভরা শস্য ছিল হাস্যভরা দেশ/ঐ বৈশ্য দেশের দস্যু এসে লাঞ্ছনার নাই শেষ,...'(কৃষাণের গান, সর্বহারা)

(৩) 'বল ভাই মাভৈঃ মাভৈঃ,/নবযুগ ঐ এলো ঐ/এলো ঐ রক্ত-যুগান্তর রে।/বল জয় সত্যের জয়/আসে ভৈরব-বরাভয়/শোন অভয় ঐ রথ-ঘর্ঘর রে ...'(যুগান্তরের গান, বিষের বাঁশি)

সর্বহারা ও বিষের বাঁশি কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোতে বিভিন্ন পেশার মানুষ ও তাদের অধিকার নিয়ে লেখা হয়েছে। ধীবরের গান, শ্রমিকের গান, কৃষাণের গান- এমন নামীয় কবিতাগুলো বিভিন্ন পেশার জয়গান করা হয়েছে। ব্রিটিশ শাসক ও মহাজন কর্তৃক শোষণ-বঞ্চনার কথা বলা হয়েছে। তাদের দাবি নিয়ে সোচ্চার হতে বলা হয়েছে। কবি নজরুল এসব দাবি বা অধিকার আদায়ে একাত্মতা প্রকাশ করে কবিতায় রূপ দিয়েছেন। এমন সব কবিতায় কবির সাম্যবাদী রূপ প্রবলভাবে ফুটে উঠেছে। বিষের বাঁশি কাব্যগ্রন্থে কবি মুক্তিকামী মানুষের মনের কথা তুলে ধরেছেন। স্বাধীনতাকামী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তৃণমূল মানুষের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। কলম ধরেছেন। তুলে ধরেছেন কবিতার পরতে পরতে। এসব কবিতার বাণী বর্তমানেও প্রাসঙ্গিক। ব্রিটিশরা পরাজিত হলেও এখনকার অনেক শাসক (মহাজন) অবহেলা করে থাকেন। বেতন ও অধিকারের ব্যাপারে অবহেলা করে। তাই এসব কবিতা এখনও প্রাসঙ্গিক। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার চলমান সংগ্রামে নজরুলের কবিতা টনিকের মতো কাজ করতে সক্ষম।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ২৪
ফজর৪:৫৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩০
সূর্যোদয় - ৬:১৮সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৯২১৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.