নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ১৮ অক্টোবর ২০২০, ২ কার্তিক ১৪২৭, ৩০ সফর ১৪৪২
মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন
সফিকুল ইসলাম
ফের মন্ত্রিসভা রদবদলের গুঞ্জন উঠেছে। করোনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকা-ে গতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে রদলবদল হতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের দপ্তর পুনর্গঠন হবে নাকি নতুন কাউকে দায়িত্ব দেয়া হবে সেটি এখনো চূড়ান্ত নয়। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ চিকিৎসা শেষে দুবাই থেকে আগামী ২২ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তিনি দেশে ফিরলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, মন্ত্রিসভা পুনগর্ঠনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার। তিনিই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। দেশে করোনা সংক্রমণের পর থেকে একের পর এক স্বাস্থ্যখাতের বেহাল দশায় ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। করোনার রিপোর্ট জালিয়াতিতে জেকেজির ডা: সাবরিনা, আরিফ, রিজেন্টের সাহেদের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের কয়েক কর্মকর্তার নামও উঠে আসে। এছাড়া, মাস্ক কেলেংকারীসহ চিকিৎসাখাতের নানা অব্যবস্থাপনায় বিব্রত হয় সরকার। শাস্তি হিসেবে মন্ত্রণালয়ের কয়েক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। পদত্যাগ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ। এমনকি জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সদস্যরা স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে সরিয়ে দেয়ার দাবি তোলেন।

সূত্রমতে, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি ফিরিয়ে আনতে শীঘ্রই মন্ত্রিসভায় রদবদল করবেন দলীয়প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যদিও গত কয়েক মাস ধরেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে, হচ্ছে বলে গুঞ্জন শোনা যায়। কিন্তু এ গুঞ্জন বাস্তবে পরিণত হয়নি। মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে সরকারের ভিতরে-বাহিরে নানামুখী আলোচনা হচ্ছে। একইসাথে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় রদবদল করার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছেন এবং এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সাথে প্রধানমন্ত্রীর কথা হয়েছে বলে কেউ কেউ দাবি করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা রদবদল বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন। তবে এই অক্টোবরে যদি মন্ত্রিসভা রদবদল না হয়, হয়তো সরকারের (টানা তৃতীয় মেয়াদে) দ্বিতীয় বছর পূর্তির সময়ে হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত আসলে গুঞ্জন সত্যি হবে কিনা সে বিষয়ে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী বলতে পারবেন।

ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর থেকে মন্ত্রণালয়টি ফাঁকা রয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ে এখনও পর্যন্ত কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তবে শিগগিরই মন্ত্রিসভায় নতুন কাউকে যুক্ত করে এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার সম্ভাবনাই বেশি। গত ১৩ জুন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ করোনা সংক্রমণ এবং হৃদরোগজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর থেকেই এই মন্ত্রণালয়ে নতুন কে দায়িত্বে আসছেন, তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা, আলোচনা ও গুঞ্জন রয়েছে। করোনোভাইরাস মহামারীতে সৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, ত্রুটি-বিচ্যুতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ, আলোচনা-সমালোচনা চলে আসছে। এ সমালোচনা থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনও বাদ পড়েননি। স্বাস্থ্যখাতের দুরবস্থার জন্য মন্ত্রী হিসেবে তাকেও দায়ী করা হচ্ছে। কোনো কোনো দিক থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনের পদত্যাগের দাবিও করা হয়েছে। গত জুনে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্যরা পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নানা অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেছেন। সংসদ সদস্যদের কেউ কেউ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জাহিদ মালেক স্বপনকে সরিয়ে দেয়ার প্রস্তাবও করেন। সংসদের সদ্যসমাপ্ত নবম অধিবেশনেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। বিভিন্ন দিক থেকে এই সমালোচনার প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও একটা গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়া আরও দুয়েকটি মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তন আসতে পারে। গুঞ্জন রয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তনের। বর্তমানে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। তাকে এই মন্ত্রণালয় খেকে সরিয়ে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। এছাড়া মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তারা হলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান ও ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হিসেবে রুহুল আমিন মাদানীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত। তবে ফারুক খান, নানক বা আব্দুর রহমানকেও এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়া দু' একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর পদোন্নতি হওয়ারও গুঞ্জন রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ছোটখাটো বিষয়ে এখন প্রধানমন্ত্রীকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং সবাই প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটা বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। দলটির আরেক নেতা বলেন, মন্ত্রিসভা রদবদল হলে সরকারের কাজের গতি আসে এবং একটি জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয়। তার মতে, মন্ত্রিসভায় রদবদল না হলে একজন মন্ত্রীর জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয় না। কারণ তিনি যদি অন্যায় করেন-নিজের দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তাহলে তাকে সরিয়ে দিলে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। তবে এর বিপরীতে অনেকেই মনে করেন, এই মুহূর্তে সরকার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে। এই সময় যদি মন্ত্রিসভা রদবদল হয় সেক্ষেত্রে একটি ভুল বার্তা যাবে সরকারের মন্ত্রীরা কাজ করতে পারেন না, এজন্য তাদেরকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, এসব বিষয় একান্তই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নির্ভর করছে। তিনি নির্দেশ দিলেই প্রক্রিয়া শুরু হবে। পাশাপাশি তিনি কাকে নতুন নিয়োগ দেবেন এবং কাকে পরিবর্তন করবেন, সবকিছুই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। সবকিছুই প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে।

সর্বশেষ এই বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রীসভায় রদবদল হয়। তবে এবার দপ্তর পুনর্গঠন হবে, নাকি নতুন কেউ শপথ নেবেন সেটি নিশ্চিত নয়। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর গত বছর ৬ জানুয়ারি টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৪৭ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৩
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৮৭৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.