নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ১৮ অক্টোবর ২০২০, ২ কার্তিক ১৪২৭, ৩০ সফর ১৪৪২
পলিথিনের আগ্রাসনে জলাবদ্ধতা
ঢাকা মহানগরীতে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ পলিথিন। বুড়িগঙ্গার তলদেশে পলিথিনের প্রায় ১০ ফুট উঁচু আস্তরণ তৈরি হয়েছে। ঢাকার চারপাশের প্রতিটি নদীরই একই অবস্থা। ঢাকার ভেতরের খালগুলো মরেই গেছে। তার জন্যও প্রধানত দায়ী এই পলিথিন। শুধু তাই নয়, পলিথিনের বহুবিধ ব্যবহারের কারণে মানবদেহে বাসা বাঁধছে ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পলিথিন বা প্লাস্টিক ব্যবহারের ফলে হরমোন বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে দেখা দিতে পারে বন্ধ্যাত্ব, নষ্ট হতে পারে গর্ভবতী মায়ের ভ্রূণ, বিকল হতে পারে লিভার ও কিডনি। কিন্তু তার পরও পলিথিনের ব্যবহার কমছে না, বরং দিন দিন যেন বেড়েই চলছে। পাড়া-মহল্লার মুদি দোকান থেকে অভিজাত বিপণিবিতান সর্বত্রই পলিথিনের যথেচ্ছাচার। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হলেও তা পলিথিনের আগ্রাসন কমাতে পারছে না। এ অবস্থায় আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫-এর ভিত্তিতে ২০০২ সালে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার, উৎপাদন, বিপণন ও পরিবহণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। আইনের ১৫ ধারায় বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি নিষিদ্ধ পলিথিন সামগ্রী উৎপাদন করে তাহলে ১০ বছরের কারাদ- বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা, এমনকি উভয় দ- হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সর্বোচ্চ সাজা প্রদানের নজির নেই বললেই চলে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শুধু ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহৃত হচ্ছে। সারা দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে এক হাজার ২০০টি পলিথিন কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু পুরান ঢাকায়ই আছে পাঁচ শতাধিক কারখানা। চকবাজার, মৌলভীবাজারের পাইকারি বিক্রয়সহ প্রায় সব হাটবাজারেই অবাধে পলিথিন ব্যাগ বিক্রি হতে দেখা যায়। পলিথিন ব্যাগ সহজলভ্য হওয়ায়, দাম কম হওয়ায় এবং কোনো বাধা না থাকায় দোকানিরাও যথেচ্ছভাবে সেগুলো ব্যবহার করে চলেছেন। আর একবার ব্যবহারের পরই সেগুলো যত্রতত্র ফেলে দেয়া হচ্ছে।

পলিথিনের ছড়াছড়ির পাশাপাশি যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবও সংকট বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। জানা গেছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে দৈনিক গড়ে প্রায় ছয় হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। প্রতি বছর প্রায় ১৮ শতাংশ হারে বাড়ছে বর্জ্য। বিশাল এই বর্জ্যের বড় একটি অংশ হলো পলিথিন। পলিথিন দীর্ঘদিন ধরে মাটিতে পড়ে থাকলেও পচে না। ফলে ঢাকার আমিনবাজার, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে তা ব্যবস্থাপনা করতে গিয়ে বিপাকে রয়েছে সিটি কর্পোরেশন। এদিকে রাজধানীর ২৬টি খাল পরিষ্কার করার কয়েক দিনের মধ্যেই পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যে আবারো পরিপূর্ণ হয়ে যায়। ঢাকায় যে কয়টি পানি শোধনাগার রয়েছে সেগুলোও ঠিকমতো চালানো সম্ভব হয় না শুধু এই পলিব্যাগের কারণে। এসব কারণে পলিথিন বর্জ্যকে আলাদা করে বিশেষ কৌশলে রিসাইক্লিং বা ডাম্পিং করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইনের ব্যাখ্যায় থাকা দুর্বলতাগুলো দূর করতে হবে। কঠোরভাবে এ সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৩
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৮৯৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.