নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ৮ নভেম্বর ২০১৯, ২৩ কার্তিক ১৪২৬, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
আগামীকাল জাতীয় সম্মেলন : প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করতে কাজ চলছে দিন-রাত
শ্রমিক লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস
সফিকুল ইসলাম
শ্রমিক লীগের জাতীয় সম্মেলন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শনিবার। এর আগে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই সংগঠনটির সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা সাংগঠনিক কার্যক্রমে ঝিমিয়ে পড়েছিলেন। সম্মেলনকে সামনে রেখে ওইসব নেতারা সক্রিয় হয়ে পড়েছেন এবং পদপ্রত্যাশীরা প্রভাবশালী মন্ত্রী-নেতাদের বাসা বাড়িতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। কৃষক লীগের মতো শ্রমিক লীগের শীর্ষ পর্যায়েও বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। সূত্রমতে, শ্রমিক বান্ধব, দুর্নীতিমুক্ত এবং তরুণ প্রজন্মের নেতাকর্মীদের সাথে সাংগঠনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারে- এমন নেতৃত্ব উপহার দিতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং নিজস্ব সোর্স দিয়ে ইতোমধ্যে তালিকা যাচাই বাছাই করেছেন। আগামীকাল শনিবার দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে নাম ঘোষণা করা হবে। এরপর নতুন কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া কমিটির আকার ছোট হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ কমিটিও ঘোষণা করা হতে পারে। তবে ১/১১ এর সময় শেখ হাসিনার কারা মুক্তি আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণসহ পরীক্ষিত-তারুণ্যনির্ভর, ত্যাগী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিবে দলের হাইকমান্ড। পাশাপাশি এবারের সম্মেলনে কমিটি থেকে ছিটকে পড়তে যাচ্ছেন বয়সের ভারে ন্যুজ নেতারা। একইসাথে টেন্ডার ও চাঁদাবাজি এবং ক্যাসিনো পরিচালনার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত নেতাদের ঝেটিয়ে বিদায় করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি অন্য দল থেকে এসে সংশ্লিষ্টদের 'ম্যানেজ' করে যারা বড় পদ বাগিয়ে নিয়েছেন-এমন বিতর্কিত নেতাদেরও জায়গা হবে না শ্রমিক লীগের এবারের নতুন কমিটিতে।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে চলছে শেষ মুহুর্তে লবিং তদবির। পদ প্রত্যাশীরা ছুটে চলেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অফিস-বাসা, বাড়ীতে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে বিকালে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে করছেন শোডাউন। নিজেদের প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন নানা মাধ্যমে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে এক ডজন নেতা মাঠে তৎপরতা চালাচ্ছেন। শ্রমিক লীগের বর্তমান সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ আবারও এ পদে থাকতে চান। আবার সভাপতি পদে আসতে চান বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। এছাড়াও সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ, বর্তমান কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, সহ-সভাপতি শাহজাহান খান, সরদার মোতাহের উদ্দিন, নূর কুতুব আলম মান্নান, আমিনুল হক ফারুক, মো. জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, মোল্লা আবুল কালাম আজাদ। এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পদের দৌড়ে আছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, খান সিরাজুল ইসলাম, মু.শফর আলী, প্রচার সম্পাদক কে এম আযম খসরু, দপ্তর সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক সুলতান আহমেদ, শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যান বিষয়ক সম্পদক কাউসার আহমেদ পলাশ ক্রাফট ফেডারেশন বিষয়ক সম্পাদক এ টি এম ফজলুল হক বেশ আলোচনায় রয়েছেন। এ বিষয়ে কথা হয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দের সাথে। তিনি ২০০৩ সাল থেকে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ১৯৯৪ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৮৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এছাড়াও তিনি ১৯৯৬ থেকে এখন পর্যন্ত রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন শ্রমিক লীগের সাথে আছি। দীর্ঘদিন মহানগরের নেতৃত্ব দিয়েছি। কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলন ৯নভেম্বর রোজ শনিবার। আমি চাই অভিজ্ঞ ও যোগ্যরা নেতৃত্বে আসুক। ১/১১ এর সময় শেখ হাসিনার কারা মুক্তি আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণসহ গোপনীয় মিটিং এবং শ্রমিক প্রতিনিধি হিসেবে সমস্ত শ্রমিক সংগঠনের নেতা হিসেবে বিবৃতি ও সংগঠিত করনে দায়িত্ব পালন করেছি।

এ বিষয়ে সভাপতি পদ প্রত্যাশী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, নেতৃত্ব নির্বাচন আমাদের সাংগঠনিক নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী ঠিক করবেন শ্রমিক লীগের নেতৃত্বে কে আসবে। তিনি বলেন, একজন খেলোয়াড় হিসেবে সব সময় আমি সংস্কৃতিমনা। বিভিন্ন সময় সামাজিক কর্মকা-ের সাথে সংযুক্ত থাকার চেষ্টা করি। শ্রমিকদের দুঃসময়ে পাশে থাকার চেষ্টা করি। শ্রমিক বান্ধব, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ণ করবেন- এটা আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব মোল্লা জনতা কে বলেন, ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শ্রমিক লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আমি। তৎকালীন ২৬ নং ওয়ার্ড বর্তমান ২০ নং ওয়ার্ডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং পল্টন থানার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। এখন মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। নেত্রীর কর্মী হিসেবে আছি। তিনি যে পদে দেবেন সেখানেই কাজ করতে চাই। প্রসঙ্গত, ১৯৬৯ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠা লাভ করে জাতীয় শ্রমিক লীগ। ২০১২ সালের সর্বশেষ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতা শুকুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন জনতা ব্যাংক ট্রেড ইউনিয়নের নেতা সিরাজুল ইসলাম। এই সময়ে ৪৫টি সাংগঠনিক জেলার কমিটি করা হয়েছে। আগামীকাল ৯ নভেম্বর শনিবার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম এ সংগঠনে। প্রায় সাত বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সম্মেলনে নতুন কমিটিতে স্থান পেতে বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। প্রতিদিনই সংগঠনটির বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ধানম-িস্থ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থাকছে নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা আসতে পারেন সে বিষয়ে তৃণমূলে চলছে বিস্তর আলোচনা।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৯
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৫সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৮১৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.