নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ৮ নভেম্বর ২০১৯, ২৩ কার্তিক ১৪২৬, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
ঐতিহাসিক হত্যাকাণ্ডের বিচারে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল জরুরি
খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম ট্রাস্ট এ সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা
স্টাফ রিপোর্টার
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা ও সৈনিক হত্যাকান্ডর প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ বলেছেন, ঐতিহাসিক হত্যাকাণ্ডের র বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা যায়। অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবও কাজ করে। ফলে এসব হত্যাকান্ডের বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল জরুরি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে মুক্তিযোদ্ধা ও সৈনিক হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলন ও অভিমত প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম ট্রাস্ট এ সাংবাদিক সম্মেলন ও অভিমত প্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ তার বলেন, বাঙালির যেমন অনেক গর্বের ইতিহাস আছে, তেমনি অনেক লজ্জারও ইতিহাস আছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত যা কিছু হয়েছে, ইমডেননিটি আইন করে এসময়কার সবকিছুকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। ফলে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরকে এর ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। যাতে কেউ বিচার করতে না পারে। পরবর্তীতে এই কালো আইনটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদে বাতিল করা হয়। শুধু সংসদে নয়, আইনগতভাবেও এটিকে বাতিল করা হয়েছে। ৫ম সংশোধনীতে উচ্চ আদালত থেকে এই কালো আইনকে বাতিল করা হয়। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালের কালো আইনটি বাতিলের ফলে এখন বলা যায়, সত্য উদ্ঘাটনে আর কোনো আইনগত বাধা নেই। আমি মনে করি, ঐতিহাসিক হত্যাকাণ্ডের বিচারের কোনো বিকল্প নেই। আমরা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার করেছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। কাজেই যে ঐতিহাসিক হত্যাকা-গুলোর বিচার হয়নি, সেগুলোরও বিচার করতে হবে।

বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি যে লিটারেচারগুলো পড়েছি, গবেষণা করেছি কয়েক বছর ধরে, সেখানে দেখেছি আর এখনো দেখছি যে, বিচার প্রক্রিয়া ৩টি উপায়ে হতে পারে। তা হলো, তদন্ত কমিশন গঠন করে, ট্রুথ কমিশন গঠন করে এবং বিচারের মাধ্যমে।

তিনি আরো বলেন, জাতির দায়বদ্ধতা থেকে আমাদের সময় এসেছে সত্যকে স্বীকার করে নেয়ার। রাজনৈতিক বাস্তবতার উপর আমাদের ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে স্থান দিতে হবে।

বাংলাদেশ অনলাইন বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ) সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময় বলেন, ৪৪ বছর পর আজ আমরা বীর সেনানী খালেদ মোশাররফসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা ও সৈনিক হত্যার বিচারের দাবি জানাচ্ছি। এটি আমাদের জন্য লজ্জার। কারণ, ৭ নভেম্বরের মুল পরিকল্পনাকারী খুনী জিয়াউর রহমানকে হত্যার অপরাধে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি হয়েছে। আর সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিরুদ্ধে, পাকিস্তানীভাবধারায় রাষ্ট্রকে ধ্বংসের বিরুদ্ধে যে খালেদ মোশাররফ রক্তপাতহীন প্রতিবাদ করেছে; সেই খালেদ মোশাররফ ও তার সহকর্মীদের হত্যার বিচার জাতি আজও দেখতে পায়নি।

তিনি আরও বলেন, একটি ট্রুথ কমিশন গঠন করে খুনী জিয়ার ও কর্নেল তাহেরের ষড়যন্ত্র জাতীকে জানানো উচিত। আগামী প্রজন্মকে ইতিহাস বিকৃতি থেকে বের করতে হলে খালেদ মোশাররফসহ মুক্তিযোদ্ধা ও সকল সৈনিক হত্যার বিচার ও হত্যার নেপথ্যে যারা ষড়যন্ত্র করেছে, তাদেও মুখোশ উন্মোচন করা সময়ের দাবি। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন খালেদ মোশাররফের জ্যেষ্ঠ কন্যা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহজাবীন খালেদ। তিনি বলেন, আপনারা জানেন, কোন্ পরিস্থিতিতে কারা, কার ইঙ্গিতে মুক্তিযুদ্ধের লড়াকু সৈনিক খালেদ মোশাররফ বীর উত্তমকে হত্যা করে। খালেদ মোশাররফ কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন না। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের শায়েস্তা করে সেনাবাহিনীতে চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনাই ছিল তার লক্ষ্য।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে একজন বিচার বঞ্চিত ভুক্তভোগী, ২১টি বছর যাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে বিচার শুরু করতে, ৩৪ বছর লেগেছে বিচারের রায় কার্যকর করতে। যিনি বিশ্বাস করেন, বিচার চাওয়ার অধিকার সবারই রয়েছে। যিনি বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এবং দেশীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় নিয়ে এসে জাতিকে কিছুটা হলেও কলঙ্কমুক্ত করেছেন। যিনি শত বাধা পেরিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন। তিনি নিশ্চয়ই মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীদের বিচারের ব্যবস্থা করবেন, সেই আশাই করছি। সাংবাদিক সম্মেলনে অভিমত প্রকাশ করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা আবু ওসমান চৌধুরীর কন্যা নাসিমা ওসমান প্রমুখ।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১২
ফজর৫:০৯
যোহর১১:৫২
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩০সূর্যাস্ত - ০৫:১১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩০৬২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.