নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ৯ নভেম্বর ২০১৮, ২৫ কার্তিক ১৪২৫, ২৯ সফর ১৪৪০
জোটের ভেতরে জোট ও প্রাসঙ্গিকতা
এ.কে.এম শামছুল হক রেনু
যুক্তরাজ্য প্রবাসী জনৈক বন্ধু আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন বর্তমানে বাংলাদেশে কয়টি রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক দলের জোট কয়টি। তাৎক্ষণিক প্রবাসী বন্ধুর এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। যেমন ছোট বেলায় শ্রেণি শিক্ষকদের কাছে এক সময় জানতে চেয়েছিলাম স্যার আকাশের কত তারা। স্যার তখন বলেছিলেন, যে প্রশ্নটা করেছ দূরবীন, অনুবীক্ষণ দিয়ে হিসেব করেও আমি তোমাকে এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। তবে এ কথা বলা যায়, আকাশে অগণিত তারা। তবে শিক্ষক মহোদয় ইউরেনাস, প্লটো, নেপচুনসহ নভোমন্ডলের ৭টি তারার নাম বললেন। আমার প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে শিক্ষক মহোদয় যেমন হিমশিম খেয়ে যান তেমনি প্রবাসী বন্ধুর প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে গিয়ে আমারও দূরবীন, অনুবীক্ষণের কথা ভাবতে হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে কয়টি রাজনৈতিক দল ও কয়টি জোট রয়েছে।

তাছাড়া প্যাড সর্বস্ব দল ও জোটের প্রেসরিলিজ ও প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রতিদিন যেভাবে বাহারি নামের আদলে নতুন নতুন ভৌতিক রাজনৈতিক দল ও জোটের আবির্ভাব হচ্ছে এ হিসেব রাখা কারও পক্ষেই সম্ভব হওয়ার কথা নয়। তবে কেউ যদি এ ব্যাপারে একজন পারদর্শী একাউন্টেট রেখে থাকে তবে সেটা অন্য কথা। তবে প্রবাসী বন্ধুর পক্ষে এ প্রশ্নটি করা সঙ্গত কারণেই যথার্থতা ও বাস্তবতারই প্রতিফলন রয়েছে বলে মনে না করার মতো কোনো কারণ পরিলক্ষিত হয়নি। প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ দুনিয়ার অন্যান্য উন্নত, অনুন্নত, উন্নয়নশীল ও মধ্য আয়ের কোনো দেশেই এদেশের মতো এমনভাবে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা প্যাডসর্বস্ব ভৌতিক রাজনৈতিক দল ও জোট নেই।

যা হোক, নিবন্ধের শিরোনামের আলোকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণে না গেলেও এ সম্পর্কে কিছু কথা না বললেই নয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় মহাজোট, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট রয়েছে। সম্প্রতি গণফোরাম, বিএনপি, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ১৪ দলীয় মহাজোটের অন্যতম শরিক জাপার এরশাদের নেতৃত্বে ৫৮ দলের সমন্বয়ে সম্মিলিত জাতীয় জোট এবং সিপিবি-বাসদ সমন্বয়ে ৮ দলীয় বাম গণতান্ত্রিক জোটের নামে আরও দুটি জোটের কথাও জানা যায়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত দেশের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৩৯ এবং অন্যান্য সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ২ শতেরও ওপরে এবং জোটের সংখ্যা ৯টি। তাছাড়া প্রতিদিনই নতুন নতুন আরও যে কত ভৌতিক রাজনৈতিক দল ও জোট হচ্ছে এবং আরও যে কত দল ও জোট হবে তা হিসাবরক্ষক ও গণক ছাড়া অনেকের পক্ষেই বলা জটিল ও কঠিন। যদিও ৯০-এর এরশাদ বিরোধী গণআন্দোলনের সময় ১৫ দল, ৭ দল ও ৫ দলীয় জোটের রাজপথের আন্দোলন, সংগ্রামের কথা আজও দেশের মানুষ মনে করে থাকে। সেই সময়ে দেশের বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে ছিল জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি। যে কারণেই হয়তোবা একজনকে মাদার অব হিউমেনিটি (গড়ঃযবৎ ড়ভ ঐঁসরহরঃু) এবং আরেকজনকে মাদার অব ডেমোক্রেসি (গড়ঃযবৎ ড়ভ উবসড়পৎধপু) বলে অলঙ্কিত করতে দেখা যায়। অপরদিকে এইচ.এম এরশাদকে তো ৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক শাসক থেকে ৯০-এর ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা হারানোর আগেই জাতীয় পার্টি পল্লী বন্ধু খেতাবে অলঙ্কিত করে থাকে।

১৪ দলীয় মহাজোট ও ২০ দলীয় জোটে যে সমস্ত দল রয়েছে তন্মধ্যে উভয় জোটেই রয়েছে ৮টি করে নিবন্ধিত দল এবং সব অনিবন্ধিত। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যে কয়টি দল রয়েছে তন্মধ্যে বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডির ৩টি দলের নিবন্ধন রয়েছে। সিপিবি বাসদসহ ৮ দলীয় বাম গণতান্ত্রিক জোটে ৩টি নিবন্ধিত দল এবং এরশাদের নেতৃত্বাধীন ৫৮ দলীয় সম্মিলিত জাতীয় জোট জাতীয় পার্টিসহ ২টি দলের নিবন্ধের কথা জানা যায়। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনে ৩৯টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ১২টি নিবন্ধিত দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে থাকে। দশম নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। এই নির্বাচনে ১৫৩ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকে।

ইসির তথ্যানুযায়ী আরও জানা যায়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় মহাজোটের শরিক গণতন্ত্রী পার্টি একটি আসনে প্রার্থী হয়ে ভোট পায় ২ হাজার ৩১ ভোট। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট একটি আসনে প্রার্থী হয়ে ভোট পায় ২ হাজার ৫৮৫ ভোট। ৯ম সংসদ নির্বাচনে সাম্যবাদী দল (এম.এল) একটি আসনে ভোট পায় ২৯৭টি। তবে সবেচেয় কম ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছিলেন, ১৪ দলীয় মহাজোটের শরিক জাসদের মো. আবু বকর মো. ফিরোজ। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ আসনে মশাল মার্কা প্রতীকে নির্বাচন করে ৪১ ভোট পেয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে ৫ম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু) ৬৮ আসনে প্রার্থী দিয়ে ভোট পায় ০.০৫ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের সূত্রে পাওয়া দল, জোট ও প্রার্থীর ভোটের তথ্য তুলে ধরলে এ নিবন্ধে আর কিছু লেখার সুযোগ না থাকারই কথা। তবে এ প্রসঙ্গে একটি তথ্যনির্ভর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দৈনিক যুগান্তর ২৪/১০/১৮ ইং।

দেশের রাজনৈতিক জোটের আদ্যোপান্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় জোটের মধ্যে জোট। যারা আজ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছে তাদের মধ্যে বিএনপি বাদে ড. কামাল হোসেন বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। আ.স.ম রব এক সময় আওয়ামী লীগ, পরে জাসদ, তারপর জেএসডি গঠন করেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের ঐকমত্যের মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন। নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু এবং সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদও এক সময় আওয়ামী লীগেই ছিলেন। তেমনিভাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় শাসনব্যবস্থা (বাকশাল) গঠনকালে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। সেই সময় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম.এ.জি ওসমানী সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তী সময় জাতীয় জনতা পার্টি গঠন করেন। জাতীয় পার্টির নেতা এইচ.এম এরশাদ এখনও ১৪ দলীয় মহাজোটে থেকে প্যাডসর্বস্ব ৫৮ দলের সমন্বয়ে সম্মিলিত জাতীয় জোট, সিপিবি, বাসদ এখনও ১৪ দলীয় জোটে থেকে ৮ দলীয় বাম গণতান্ত্রিক জোট এবং বিএনপি ২০ দলীয় জোটে থেকেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে রয়েছে।

অপরদিকে বি. চৌধুরী ও মেজর (অব.) মান্নানের নেতৃত্বে বিকল্পধারা ও বিশেষায়িত যুক্তফ্রন্ট গঠন করলেও তাতে মত বিরোধ দেখা দেয়। দুজনই বিএনপি প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই বিএনপির রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। বি. চৌধুরী যেমন বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব পরে বিএনপি আমলে রাষ্ট্রপতি ছিলেন তেমনিভাবে মেজর (অব.) মান্নানও বিএনপির সময়ে দুইবার মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ছিলেন। এসব কিছু পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৪ দলীয় মহাজোট ও ২০ দলীয় জোটের মধ্যেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, এরশাদের নেতৃত্বে ৫৮ দলীয় সম্মিলিত জাতীয় জোট এবং সিপিবি-বাসদের নেতৃত্বে ৮ দলীয় বামগণতান্ত্রিক জোট গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া রাতারাতি প্যাডসর্বস্ব অজানা, অচেনা (ঁহশহড়হি) দলের আদলে অন্যান্য জোট গঠন হলেও এসবের খবর রাখেই বা ক'জনা। যেমন নেই এসব দলের আইডেনটিটি (ওফবহঃরঃু) তেমন নেই তথাকাথিত এসব জোটের গুরত্ব। যে কারণে অনেকেই এ সমস্ত দল ও জোটকে ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দারের মতোই মনে করে থাকে। অনেকে এসব দল ও জোটকে বাইপোরাল ডিস অর্ডার (ইরঢ়ড়ৎধষ ফরংড়ৎফবৎ) ব্যাধিও মনে করে থাকে।

বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজে এসব নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও বেরসিক কথাবার্তা পর্যালোচনা যে একেবারে হচ্ছে না তাও নয়। ব্যাঙের ছাতার ন্যায় গজিয়ে ওঠা এসব দল ও জোটকে ভৌতিক রাজনৈতিক দল, জোট ও সমুদ্রের ফ্লুটিং রিবসের (সামুদ্রিক ফেনা) সাথে তুলনা করতে অনেকেই কুণ্ঠাবোধ করে না।

যে যাই বলুক না কেন, জোটের ভেতরে জোট হলেও, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ১৪ দলীয় মহাজোট, ২০ দলীয় জোটের গুরুত্ব কম নয়। তাদের যেমন রিজার্ভ ব্যাংক ভোট রয়েছে তেমনি জাতীয় আন্তর্জাতিক পরিসরে এসব জোটের নেতাদের পরিচিতিকেও একেবারে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তেমনিভাবে জাপার এরশাদের নেতৃত্বে ৫৮ দলের সম্মিলিত জাতীয় জোট ও সিপিবি-বাসদের নেতৃত্বে ৮ দলীয় বাম গণতান্ত্রিক জোট নিয়ে রাজনীতির যোগ-বিয়োগ মিলানো অনেকের জন্যই ডিফিকাল্ট (উরভভরপঁষঃ) বলা চলে। তবে ২০ দলীয় জোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও সিপিবি-বাসদের ৮ দলীয় বামগণতান্ত্রিক জোটের বক্তব্যে হিসেব মিলালে একই ধরনের সুস্পষ্টতা লক্ষ্য করা হয়ে থাকে। তবে এরশাদের নেতৃত্বে প্যাডসর্বস্ব ৫৮ দলীয় সম্মিলিত জাতীয় জোটের ১৮ দফা ঘোষণা থাকলেও কোনো দিকে কখন হাল ধরে এ নিয়ে অস্পষ্টতার দৃশ্যপট রয়েছে বলে অনেকেই মনে করে থাকে। আর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ যেহেতু এখনও কোনো জোটে নেই সেহেতু এ নিয়ে জনগণ, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের তেমন কোনো বক্তব্য লক্ষ্য করা যায়নি। যেহেতু নির্বাচন সামনে এ নিয়ে নতুন কোনো চমক আছে বলে অনেকেই মনে করে থাকে। সময়ই হয়তো সেটা বলে দিবে।

জোটের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে দেশের জনগণ, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৭ দফা ও ১১টি লক্ষ্য সামনে রেখে যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আগে এই জোটের মধ্যে কোনো ধরনের ধস নামবে বলে প্রেক্ষাপট মনে করে না। অপরদিকে ১৪ দলীয় মহাজোটে থাকার পরও এরশাদের নেতৃত্বে যে ৫৮ দলীয় প্যাডসর্বস্ব সম্মিলিত জাতীয় জোট হয়েছে তা নিয়ে জনমনে রয়েছে নানান কথা, নানা শঙ্কা ও মিশ্র ভাবনা। অনেকেই মনে করে থাকে এইচ.এম এরশাদ ইতোমধ্যেই ১৪ দলীয় মহাজোটের নেতার কাছে প্রথমে ৭০ ও পরে ১০০টি আসন দাবি করেছে। যদি তার প্রত্যাশা পূরণ হয়ে থাকে তবে সম্মিলিত জাতীয় জোট থাকার কথা নয়। অনেকেই আবার এরশাদের নেতৃত্বে গঠিত ৫৮ দলীয় জোটকে আওয়ামী লীগের সাথে আসন ভাগাভাগির বার্গানিং এজেন্ট (ইঁৎমধহরহম ধমধহঃ) বলেও মনে করে থাকে। যদিও এরশাদ আবার ৩০০ আসনেও এককভাবে নির্বাচনের কথাও বলে আসছে। যাকে অনেকেই ভানুমতির খেলা বলতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি।

অপরদিকে ২০ দলীয় জোটের কাছে বিকল্প ধারার ১৫০টি আসন ও অন্য শরিকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্ম লক্ষ্য করা যায়নি। ইতোমধ্যে বিকল্পধারা নানা অজুহাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের প্রাক্কালে সরে গিয়ে যুক্তফ্রন্টকে নতুন আঙ্গিকে নেয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে সূত্রে জানা যায়। তাছাড়া ২০ দলীয় জোট থেকে হঠাৎ বেরিয়ে যাওয়া ন্যাপের জেবেল রহমান গানি ও এলডিপির গোলাম মর্তুজা নতুন কিছু ভাবলে তেমন কিছু ফল (জবংঁষঃ) ঘরে নিতে পারবে বলে অনেকেই তা মনে করে না। ভোটের হিসেবে সিপিবি-বাসদ সমন্বয়ে গঠিত ৮ দলীয় বাম গণতান্ত্রিক জোট নিয়েও রয়েছে জনমনে অনেক জল্পনা কল্পনা। তদুপরি এরশাদের নেতৃত্বাধীন প্যাডসর্বস্ব ৫৮ দলীয় সম্মিলিত জাতীয় জোট সুবিধানজক জায়গায় রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করে না। অনেকেই বলছে, খাল, বিল, নদী নালার পানি কোনো সাগর-মহাসাগরে গিয়ে পতিত হয় এটিই এখন দেখার বিষয়।

সর্বোপরি অনেকের ধারণা ও মোদ্দা কথা হচ্ছে, এদেশের রাজনৈতিক দল, মহাজোট, জোট, ফ্রন্ট, মোর্চা যাই হোক জনগণের সমর্থন ও ভোট নৌকা এবং ধানের শীষ প্রতীকের দুই শিবিরেই বিভক্ত। একদিকে যেমন আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক আছে তেমনি বিএনপিরও ভোট ব্যাংক রয়েছে। এ দুই দল ও জোটের সমর্থিতদের মধ্যেই নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে এখনই মাঠে ময়দানে এসবের আলামত কম পরিলক্ষিত হচ্ছে না। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসবে ততই এররূপ আরও বিকশিত হওয়ার ব্যাপারে অনেকের মন্তব্যকে একেবারে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

ইসি সচিব বারংবার বললেও এখন পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হওয়াতে অনেকের মনে অনেক আশঙ্কা ও প্রশ্ন যে, একেবারে দেখা যাচ্ছে না তা অমূলক নয়। যদিও এসব কিছু দেখার বা ড়নংবৎাধঃরড়হ এর সময় এখনই ফুড়িয়ে যায়নি। অনেকেই বলছে সাংবিধানিকভাবে আসন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠানের আর বেশি সময় নেই। যেহেতু এখনও বড় দুই দল ও অন্যান্য জোট সমঝোতায় আসতে পারেনি। সেহেতু সাংবিধানিকভাবে বেঁধে দেয়া ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন নাও হতে পারে। যদি নির্বাচন কমিশন ও সরকার যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা প্রচার করছে। দেশের মানুষ যেমন ১৫৩ জনের মতো বিনা ভোটের এমপি আর দেখতে চায় না তেমনি আমার ভোট আমি দিব, তোমার ভোটও আমি দিব ভোট অনুষ্ঠানের ঐ গড্ডালিকা সংস্কৃতি আর কামনা করে না। অনেকেই বলছে দোহাই ইসি ও সিইসি ভোট ছাড়া আর এমপি নয়। ভোটাধিকার ও সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠানে ইসি ও সিইসি শপথের মাধ্যমে জাতির কাছে অঙ্গীকারাবদ্ধ। এর অন্যথা জনতার আদালতে ইসি ও সিইসিরই জবাবদিহি করতে হবে। পরিশেষে বলতে হচ্ছে তোমার ভোটও আমি দিব এ প্রবণতা থেকে সরে না গেলে ইসি, সিইসির জনতার আদালতে জবাবদিহিতার কথা আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আগেভাগেই ভাবতে হবে। তবে একথা বলা যায় ভুক্তভোগী জনগণ আগের চেয়ে অনেক সচেতন ও গণতন্ত্রের দিশারী। তাছাড়া ভুক্তভোগী ন্যাড়া বারবার বেলতলায় যেতে চায় না।

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু : কলামিস্ট

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৬
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৪সূর্যাস্ত - ০৫:১১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৭১৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.