নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ৯ নভেম্বর ২০১৮, ২৫ কার্তিক ১৪২৫, ২৯ সফর ১৪৪০
মৌসুমী শিকারিরা পাখি শিকারে মেতে উঠেছে
খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন জলাশয় এখন অতিথি পাখির আগমনে মুখরিত
খুলনা থেকে বি এম রাকিব হাসান
শীত আসতে শুরু করায় প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছে অতিথি পাখিরা। খালে বিলে পাখি আসতে শুরু করার সাথে সাথে মৌসুমী শিকারীরা পাখি শিকারে মেতে উঠেছে। সুন্দরবনের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা বৃহত্তর খুলনাঞ্চলের বিভিন্ন জলাশয় এখন অতিথি পাখির আগমনে মুখরিত। শীত এলেই হাজার হাজার মাইল থেকে উড়ে আসে এই অতিথি পাখিরা। আর এই অতিথিদের নির্দয়ভাবে সুযোগ সন্ধানীরা শিকার করে কেউ আর্থিকভাবে লাভবান হয় আবার কেউ রসনার তৃপ্তি মিটায়।

সম্প্রতি পাইকগাছায় অতিথি পাখি শিকার করার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে। গত রোববার সকালে থানার এসআই শরীফ আল-মামুন ও

এএসআই পলাশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার প্রতাপকাটী গ্রামের মৃত কৃষ্ণপদ মন্ডলের ছেলে প্রশান্ত ম-ল (৩৬) ও বিপুল ম-লের ছেলে এঞ্জেল ম-লকে (২৫) ৪টি অতিথি পাখি (ডঙ্কু)সহ নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। পরে বিকালে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না আটক দুই ব্যক্তিকে ১ হাজার টাকা করে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং শিকার করা অতিথি পাখি অবমুক্ত করে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পেশকার দিপংকর ম-ল ও সাকিরুল ইসলাম। সুন্দরবন বিভাগের বন্যপ্রাণী দফতরের সূত্র জানায়, প্রতি বছরের নভেম্বর থেকে পরবর্তী বছরের মার্চ পর্যন্ত ধানসহ অন্যান্য ফসলও উত্তোলন শেষ এবং পানি কমে যাওয়ায় বিলগুলোতে অতিথি পাখির বিচরণ বেশি থাকে। এ সুযোগে চোরা শিকারীরা তৎপর হয়ে ওঠে। তারা পাখিদের বিচরণ ক্ষেত্র এবং স্থানগুলোতে ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে। পরে তা প্রকাশ্য ও গোপনে মোটা অঙ্কের অর্থে বিক্রি করা হয়।

সূত্রমতে, প্রতিদিন শিকারীদের সংখ্যা বাড়ছে। পাখি ধরার নিত্য নতুন কৌশলও উদ্ভাবন হচ্ছে। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, তালা, পাইকগাছা, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, রূপসা, তেরখাদা, মোড়লগঞ্জ, কচুয়া কয়রা এবং কালিগঞ্জ, কুশলিয়া, শ্যামনগর, আশাশুনি, তালা প্রভৃতি উপজেলার পাখি শিকারীরা এখন তৎপর। নৌকা জাল বঁড়শী বিভিন্ন ফাঁদ বন্দুক অচেতন ওষুধসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে পাখি শিকারে। শহর থেকে গ্রামে সর্বত্র চুপিসারে বিকিকিনি হচ্ছে অতিথি পাখি। অভিনব কৌশলে শিকারীরা পাখি বিক্রি করছে খোদ শহরেও। এমনকি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা সাংবাদিক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা গোপনে কিনছে পাখি। বৃহত্তর খুলনাঅঞ্চলের ঘের ধানক্ষেত খাল বিল নদী নালাসহ বিভিন্ন জলাশয়ে সুদুর সাইবেরিয়া, কাজাকাস্থান হিমালয়সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে অতিথি পাখি এসে থাকে। প্রকৃতির ভারসম্য ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় অতিথি পাখির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। পাখি প্রেমিরা অতিথি পাখি আগমনের অধির অপেক্ষায় থাকেন। অথচ এক শ্রেণীর মানুষ অতিথি পাখিদের হত্যা করছে। যা সভ্য সমাজের জন্য কাম্য নয়। আমাদের দেশে রাজহংস, চখাচখি, মানিকজোড়, বিভিন্ন জাতের হাসপাখি, কাচিচোরা, নানান প্রজাতির বাটান, ধলবগনি, শেতকাক, পেলিকেন, পানকৌড়ি, কাদা খোচা , বালিহাস বক সহ প্রায় দেড়শত প্রজাতির হাজার হাজার পাখির আগমন ঘটে। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এদের শিকার ও হত্যা করা হচ্ছে। ফলে পরিবেশ বান্ধব এসব পাখির সংখ্যা হরাস পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এসব অতিথি পাখি বার্ডফ্লুতে আক্রান্ত হতে পারে। আর এসব রোগাক্রান্ত পাখি খেয়ে মানব দেহে বার্ডফ্লু ছড়িয়ে পড়তে পারে। যদিও পাখি রান্না করে খেলে বয়েলের কারণে বার্ডফ্লু ছড়ায় না। পাখি শিকার ও নিধন বন্ধের আইন থাকলেও এর কার্যকরী ভূমিকা না থাকায় পাখি শিকারীদের তৎপরতা বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে সাধারণ মানুষদের অভিযোগ।

বাগেরহাটের ফকিরহাট, মোল্লা হাট, খুলনার রূপসা, ডুমুরিয়ার চুকনগর ও খর্নিয়ায় এবং তালায় রীতিমত নির্দিষ্ট দিনে সকাল সন্ধ্যায় পাখির হাট বসে। এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাখি বিক্রেতারা বিভিন্ন কৌশলে লুকিয়ে পাখি এনে শহরে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিস আদালতে চড়া দামে বিক্রি করছে। বেসরকারি সংস্থা কেএমএসএস এর এক বিশেষ জরিপ থেকে জানা যায়, বৃহত্তর খুলনাঅঞ্চলের মৎস্য ঘেরগুলো মূলত পাখি বিচরণের বিশেষ ক্ষেত্র। এ অঞ্চলে রয়েছে হাজার হাজার মাছের ঘের। যেখানে নতুন পানি তুললে পাখির আনাগোনা বাড়ে। আর শীতের শুরুতেই বিদেশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসে। এছাড়া এ অঞ্চলের মরা নদীগুলো এবং বিভিন্ন নদীর জেগে ওঠা চরে প্রতি বছর এ রকম সময় পাখি আসে। আর চোরা শিকারীদের হাতে শত শত হাজার পাখি ধরা পড়ে। পাখি শিকার বন্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও কোন ভূমিকা রাখছে না। রাজনৈতিক নেতারা খবর রাখে না। প্রশাসন দেখেও দেখে না। বরং সমাজের এই বিবেকরাই সুযোগ পেলে পাখি কিনে রসনার তৃপ্তি মেটায়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন নেতা অধ্যাপক এনায়েত আলী বিশ্বাস জানান, জনসচেতনতা ছাড়া অতিথি পাখি নিধন রোধ করা সম্ভব নয়। এছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও তা প্রয়োগ করছে না। তিনি এ ব্যাপরে সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৬
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৪সূর্যাস্ত - ০৫:১১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬৮৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.