নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ৯ নভেম্বর ২০১৮, ২৫ কার্তিক ১৪২৫, ২৯ সফর ১৪৪০
পটুয়াখালীতে ফসলি জমি রক্ষায় হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ
জনতা ডেস্ক
'মাইনষের ধারে চাইয়া চিইন্না খাই। শ্যাষ যে কবে চুলা জ্বালাইছি হেইয়া মনে নাই। মাইয়া-পোলা থাহে দূরে। এ্যাহন থাহার মধ্যে আছে হুদা (শুধু) ঘরডাই। হুনছি ঘরডাও নাকি লইয়া যাইবে। বিদ্যুত কেন্দ্র বানাইবে। হ্যালে মুই এই বুড়া বয়সে কই যামু। কেডা আমারে দ্যাখবে।' -একথা বলেই কেঁদে ফেলে পাঁচজুনিয়া গ্রামের সত্তোরোর্ধ বৃদ্ধা সোনাবানু। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নের পাঁচজুনিয়া, ছৈলাবুনিয়া, নিশানবাড়িয়া ও চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামের এ বৃদ্ধার মতো হাজারো নারী-পুরুষ ও শিশুরা মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে তিন ফষলী জমি রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ নেয়। ধানখালী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সড়ক ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তায় শুইয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের পথ রোধ করে পৈত্রিক ভিটা ও বেঁচে থাকার শেষ সম্বল রক্ষার দাবি জানায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় গত ১৮ অক্টোবর পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবরে ধানখালী ও চম্পাপুর ইউনিয়নের চার গ্রামের মানুষ তিন ফষলী জমি রক্ষার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন। তারা দাবি করেন সেনাকল্যান সংস্থা ও আশুগঞ্জ কোম্পানি প্রায় এক হাজার একর জমি অধিগ্রহনের জন্য গ্রামবাসীদের তিন ও ছয় ধারা নোটিশ প্রদান করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চেীধুরী সরেজমিনে তথ্য যাচাইয়ের জন্য ধানখালী ইউনিয়নে আসলে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা এ জমি অধিগ্রহন বন্ধের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরে তিন ফষলী জমি রক্ষার দাবিতে অন্দোলনরত গ্রামবাসীদের সাথে দুপুরে ধানখালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মামুনুর রশিদ, কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আঃ মোতালেব তালুকদার, ধানখালী ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ তালুকদার,চম্পাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রিন্টু তালুকদার, শিক্ষানুরাগী আনসার উদ্দিন মোল্লা, সমাজকর্মী মো. আতাউর রহমান মিলন মিয়া, গ্রামবাসী মো. মোস্তফা মেহেদী, ফরিদ তালুকদার, আফজাল হোসেন ও আঃ মন্নান। সভায় মো. আতাউর রহমান মিলন মিয়া বলেন, জমি অধিগ্রহনের কথা শুনে বেঁচে থাকার শেষ সম্বল হারানোর শঙ্কায় ইতোমধ্যে বহু মানুষ ষ্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, ধানখালীতে দুটি বিদ্যুত কেন্দ্র হয়েছে। এখানে আর কতো্ বিদ্যুত কেন্দ্র হবে। বিভিন্ন চরে হাজার হাজার একর জমি অনাবাদি পড়ে আছে অথচ তিন ফষলী এ জমি নেয়ার জন্য তাদের চাপ দেয়া হচ্ছে। তারা রজীবন দিবেন তবুও এক ইঞ্চি জমি আর কোন বিদ্যুত কেন্দ্রকে দিবেন না। ফরিদ উদ্দিন তালুকদার বলেন, কৃষি নির্ভর ৮৫ ভাগ মানুষের বেঁচে থাকার শেষ সম্বল এ জমি অধিগ্রহন করা হলে ৯৫ ভাগ ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। মুজিবনগর খ্যাত ধানখালী ও চম্পাপুরের নৌকা পাগল মানুষকে ভিটেমাটি না ছাড়া করার দাবি জানান। কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আঃ মোতালেব তালুকদার বলেন, বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মান করতে এত জমি দরকার কিনা বিসয়টি ভাবা উচিত। কেননা এ দুই ইউনিয়নের মানুষ তিন ফষলী এই কৃষি জমির উপর নির্ভরশীল। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মামুনুর রশিদ বলেন, জমি অধিগ্রহনে জনগনের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সে বিসয়টি সরকারকে অবহিত করবেন। সভায় জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চেীধুরী বলেন, বর্তমান সরকার হলো কৃষি,শিল্প ও উন্নয়ন বান্ধব সরকার। তাই তিন ফষলী জমিতে যাতে আবার কোন বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মান না হয় এ বিসয়টি তিঁনি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে অবহিত করবেন এবং হাজারো গ্রামবাসীর দাবি তুলে ধরবেন। তিন ফষলী জমির ক্ষতি যাতে না হয় এ বিষয়টি তিঁনি দেখবেন বলে গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করেন।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৬
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৪সূর্যাস্ত - ০৫:১১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৭১৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.