নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ সফর ১৪৩৯
৭ মার্চের ভাষণের বিশ্বস্বীকৃতি বাঙালি জাতির জন্য এক বড় অর্জন
মিঞা মুজিবুর রহমান
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের কালজয়ী ভাষণকে ঐতিহাসিক প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। এ স্বীকৃতি বিশ্বের বুকে আরও গৌরবের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নিঃসন্দেহে আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। একইসঙ্গে 'মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে' (এমওডবিস্নউ) ভাষণটি সংরক্ষণের ফলে নিপীড়িত-মজলুমসহ সব মানুষ এ থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস ও প্রেরণা খুঁজে পাবে। ইউনেস্কোর এ স্বীকৃতিকে আমরা স্বাগত জানাই। একইসঙ্গে ৭ মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে ঘোষণার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমাদের অভিনন্দন।

জানা যায়, ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা গত ৩০ অক্টোবর প্যারিসে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণটিকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি ও সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত জানান। এটিই এমওডবিস্নউ'তে সংরক্ষিত বাংলাদেশের প্রথম ঐতিহাসিক কোনো দলিল। ফলে সারা বিশ্ব এখন আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার নেতৃত্বে পরিচালিত স্বাধীনতার সংগ্রাম ও বিজয় সম্পর্কে আরও বেশি করে জানতে পারবে। ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দেয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি যে কেবলই একটি ভাষণ নয়, এটি বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ, স্বাধীনতার পরোক্ষ ঘোষণা, ইউনেস্কোর স্বীকৃতির মাধ্যমে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলো।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে দেয়া বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণটি যে কোনো নিপীড়িত জাতির মুক্তির দিশা, স্বাধীনতা সংগ্রামের পথপ্রদর্শক, তা ভাষণটিতে চোখ বুলালেই বোঝা যায়। লাখ লাখ মানুষের পিনপতন নীরবতার মাঝে বঙ্গবন্ধু বলতে থাকেন- '...আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোকদের হত্যা করা হয়, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু, আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে'। পাকিস্তানি সেনাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, '... তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে ফিরে যাও, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। কিন্তু আর আমার বুকের ওপর গুলি চালাবার চেষ্টা করো না। সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবাতে পারবে না'।

স্বাধীনতার ঘোষণা শুনতে উদগ্রীব মুক্তিকামী জনতার উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দেন, 'তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো- এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম'। বলার অপেক্ষা রাখে না, এ ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়েই বাঙালি জাতি সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে। পাকিস্তানিরাও বুঝেছিল এটা চূড়ান্ত আলটিমেটাম। তাই ভাষণের পর থেকে তারা ঢাকায় অস্ত্র জমাতে শুরু করে।

জাতির পিতার মাত্র ১৮ মিনিটের সুবিন্যস্ত এ ভাষণকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটিকে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ৭৮টি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল, নথি ও বক্তৃতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। যার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অন্যতম।

স্মর্তব্য, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করার উদ্যোগ হিসেবে ইউনেস্কো 'মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড' বা বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের তালিকায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের তালিকায় ঠাঁই পেতে হলে পর্যাপ্ত গ্রহণযোগ্যতা ও ঐতিহাসিক প্রভাব থাকতে হয়, যা অনস্বীকার্য হিসেবে রয়েছে ৭ মার্চের ভাষণে। আন্তর্জাতিক অ্যাডভাইজরি কমিটি বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দিয়ে থাকে। তারা যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি বছর ২৪ থেকে ২৭ অক্টোবর এ নিয়ে বৈঠকে বসে কমিটি। সেখানেই ৭ মার্চের ভাষণ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত ভাষণ। গত ৪৬ বছর ধরে এ ভাষণ কয়েক লাখ বার বাজানো হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ৩৫ কোটি বাঙালিকে তা অনুপ্রাণিত করেছে। বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণ একটি নিরস্ত্র জাতিকে স্বাধীনতার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিল। ১৮ মিনিটের ঐ ভাষণ অলিখিত হলেও প্রতিটি শব্দ ছিলো সুবিন্যস্ত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ঐ ভাষণ দিয়েছিলেন।

একদিকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, অন্যদিকে তাকে যেনো বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে অভিহিত করা না হয় সে দিকেও ছিলো সতর্ক দৃষ্টি। তিনি পাকিস্তান ভাঙার দায়িত্ব নেননি। পাকিস্তানিরা মনে করেছিল, বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা দেবেন। এমনটি হলে সরাসরি জনসভায় হামলা চালানোর প্রস্তুতিও নেয় তারা। কিন্তু বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক প্রজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে পাকিস্তানিদের বোকা বানিয়ে দেন। স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামের ডাক দেয়া সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে দোষারোপ করার কোনো সুযোগ পায়নি তারা। দীর্ঘ ৪৬ বছর পর হলেও ৭ মার্চের ভাষণের বিশ্বস্বীকৃতি বাঙালি জাতির জন্য এক বড় অর্জন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রমনার রেসকোর্স ময়দানে দেয়া ঐতিহাসিক ভাষণকে 'মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড' এর স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। বিশ্ব ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার একটি আন্তর্জাতিক তালিকাই মূলত মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড। সোমবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে 'মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড' এর স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। এই স্বীকৃতির ফলে এ ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর মেমোরি অব দি ওয়ার্ল্ড (এমওডবিস্নউ) রেজিস্টারে নিবন্ধিত হলো। এমওডবিস্নউতে এটাই প্রথম কোনো বাংলাদেশি দলিল, যা আনুষ্ঠানিক ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হবে। এমওডবিস্নউ রেজিস্টারে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক মাইলফলক বঙ্গবন্ধুর ভাষণটির স্থান লাভ একটি অনন্য স্বীকৃতি এবং বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অশেষ গর্বের।

আজ থেকে ৪৬ বছর আগে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তখনকার রেসকোর্স ময়দান) স্বাধীনতাকামী ৭ কোটি মানুষকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, 'এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম'। উত্তাল জনসমুদ্র যখন স্বাধীনতার ঘোষণা শুনতে উদগ্রীব, তখনই বঙ্গবন্ধু উচ্চারণ করলেন তার চূড়ান্ত আদেশ- 'তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো- এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ'। ঐ ভাষণেই সামরিক আইন প্রত্যাহার, সৈন্যবাহিনীর ব্যারাকে প্রত্যাবর্তন, শহিদদের জন্য ক্ষতিপূরণ ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের চার দফা দাবি উত্থাপন করেন তিনি। তার ঐ ভাষণের ১৮ দিন পর পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি নিধনে নামলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। নয় মাসের সেই সশস্ত্র সংগ্রামের পর আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ৭ মার্চের ভাষণেই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার নিশানা পেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ এ ভূখ-ের মানুষকে নিজের দেশ, ভাষা ও অধিকার বোধ সম্পর্কে জাগ্রত করেছিলো, প্রস্তুত করেছিলো মরণপণ সংগ্রামের জন্য। মাত্র ১৯ মিনিটের যে বক্তৃতা বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন সেটাই সাড়ে সাত কোটি মানুষকে মনের বল নিয়ে শত্রুদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার উদ্দীপনা দিয়েছিলো। এর আগে আর কোনো নেতার কোনো ভাষণ তা পারেননি। এই ভাষণ বাংলার আপামর জনতার প্রেরণার জায়গা এবং এই ভাষণ আমাদের মুক্তি সংগ্রামের একটি অনন্য মাইলফলক। বিশ্ব ইতিহাসে যার দৃষ্টান্ত বিরল।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ একটি অবিস্মরণীয় ভাষণ যা শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, পৃথিবীর সব মুক্তিকামী মানুষ স্মরণে রাখার দাবি রাখে। যুগে যুগে এই ভাষণ মানুষকে তার অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীন সত্ত্বার পরিচয় সন্ধানে অনুপ্রাণিত করবে। বিশ্বের সব নিপীড়িত মানুষকে জাগিয়ে তুলবে। দেরিতে হলেও এ ভাষণ তার প্রাপ্য বিশ্ব স্বীকৃতি পেলো, যা বাঙালি জাতিকে তুলে দিলো অনন্য এক উচ্চতায়।

একাত্তরের ৭ মার্চের বিকেলটা ছিলো অন্যরকম। এই দিনটির জন্য অপেক্ষায় ছিলো সমগ্র জাতি। এক পাতা ঝরা বসন্তের বিকেল এভাবে বদলে দিতে পারে ইতিহাসের মোড়, বিশ্বের ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল। সেদিন বেলা তিনটা ২০ মিনিটে দেয়া মাত্র ১৮ মিনিটের একটি ভাষণ একটি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে যেভাবে উজ্জীবিত করেছিলো, তার তুলনা আর কোনো কিছুর সঙ্গে হতে পারে না।

বঙ্গবন্ধু যখন রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হন, তখন লাখো মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ ময়দান। মুহূর্মুহ সস্নোগানে প্রকম্পিত চারদিক, পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা। সেদিন বঙ্গবন্ধু আমাদের যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন।

বিশ্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষণ। সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনকের ঐ ভাষণের দিকনির্দেশনাই ছিলো সে সময়ের বজ্রকঠিন জাতীয় ঐক্যের মূলমন্ত্র। তাই এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রতিটি বাংলাদেশির স্মরণ করা উচিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যার অনন্য সাধারণ নেতৃত্বে বাঙালি জাতি একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি'।

৭ মার্চের ভাষণের ভেতর দিয়ে ফুটে ওঠে এক দৃঢ়চেতা রাজনৈতিক নেতার পরিচয়। স্পষ্ট করেই তিনি বলেছিলেন, শহিদের রক্তের ওপর দিয়ে, পাড়া দিয়ে, আরটিসিতে মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারে না। অ্যাসেম্বলি কল করেছেন আমার দাবি মানতে হবে প্রথম। সামরিক আইন মার্শাল ল' উইথ ড্র করতে হবে। সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত নিতে হবে। যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করতে হবে। আর জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারপরে বিবেচনা করে দেখবো আমরা অ্যাসেম্বলিতে বসতে পারবো কী পারবো না। এর পূর্বে অ্যাসেম্বলিতে বসতে আমরা পারি না।

বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে বলেছিলেন, আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না। আমরা এ দেশের মানুষের অধিকার চাই। সেই অধিকার তিনি এনে দিয়ে ছিলেন এ দেশের মানুষকে।

আমরা মনে করি, বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণ কেবল আমাদের জন্য নয়, বিশ্বের সব প্রান্তের নিপীড়িত মানুষের মুক্তির প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। ইউনেস্কোর 'ঐতিহাসিক দলিল' স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে সে পথই উন্মুক্ত হলো। এমওডবিস্নউ'তে এখন ৪২৭টি ডকুমেন্ট-সংগ্রহের অন্যতম বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, যা জাতি হিসেবে আমাদের গৌরব বৃদ্ধি করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

মূলত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মধ্যেই পাওয়া যায় মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনা। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যে ক্ষমতা ছাড়তে চায়নি, সেটা তিনি বুঝে গিয়েছিলেন আগেই। বুঝে গিয়েছিলেন যে জাতির মুক্তির জন্য যুদ্ধ আসন্ন। আর সে যুদ্ধে তিনি উপস্থিত না-ও থাকতে পারেন, আবার গ্রেপ্তার করা হতে পারে তাকে, এটাও যেনো তার কাছে স্পষ্ট ছিলো। বোধহয় সে কারণেই তিনি স্পষ্ট করে বলে দেন, আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়, তোমাদের ওপর আমার অনুরোধ রইল: প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সব কিছু, আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি তোমরা বন্ধ করে দেবে। আমরা ভাতে মারবো। আমরা পানিতে মারবো।

৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে যেমন মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনি তেমনি আসন্ন সে যুদ্ধের জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বানও জানিয়েছিলেন। ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলো এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা : রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই অজেয় বজ্রকণ্ঠ আজও কাঁপন ধরায় বাঙালির রক্তে। আলোড়ন তোলা সেই আহ্বানের জন্যই যেনো বাঙালি জাতি অধীর অপেক্ষায় ছিলো। বিদ্যুৎ বেগে সেই আহ্বান সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিলো। 'বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো' সস্নোগানে স্বাধীনতার জন্য উন্মুখ জাতি বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলো। জাতির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন, এর পরেও কী আর কারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার অপেক্ষা রাখে?

মিঞা মুজিবুর রহমান : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ২৫
ফজর৫:০১
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩০
সূর্যোদয় - ৬:২০সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬৯৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.