নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ সফর ১৪৩৯
হুমকির মুখে গোমতীর প্রতিরক্ষা বাঁধ
কুমিল্লা থেকে ময়নাল হোসেন
কুমিল্লার প্রধান নদী গোমতী। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে উৎপত্তি এই নদীটি কটকবাজার হয়ে কুমিল্লা প্রবেশ করে। পরে সদর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, দেবীদ্বার, মুরাদনগর, তিতাস, দাউদকান্দি উপজেলা হয়ে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। নদীর বিভিন্নস্থান থেকে বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলার একাধিক স্থান দিয়ে এক শ্রেণীর লোক অবাধে ভারী যানবাহনে করে প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে ক্ষতবিক্ষত গোমতীর দু'তীরের মূল বাঁধটি। পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো নজর নেই। আর এতে নষ্ট হচ্ছে বাঁধ। আর এই বাঁধ মেরামতে সরকার প্রতি বছর গচ্ছা দিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। সরেজমিন জেলার বিভিন্নস্থানে গোমতীর বাঁধ ঘুরে পাওয়া তথ্য ও চিত্রে দেখা গেছে জেলার প্রধান এই গোমতী নদীটি প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বালু ও পলিমাটি বহন করে নিয়ে আসে। সরকারি কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় নিয়মনীতি না মেনে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার কটকবাজার থেকে তিতাস উপজেলার বিভিন্নস্থানে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী লোক রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশদের ম্যানেজ করে অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে নিচ্ছে। আর এসকল মাটি ও বালু ভারী ভারী যানবাহন দিয়ে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে পরিবহণ করছে। এতেসত্ত্বেও উপজেলার বিবিরবাজার, টিক্কাচর, দূর্গাপুর, ময়নামতি, কংশনগর, কোম্পানীগঞ্জসহ কমপক্ষে ১৫ টি স্থানে নদীর দু'তীরের প্রতিরক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।

সম্প্রতি দু'দিনের টানা বৃষ্টিতে তিতাস উপজেলায় নদীর তীর ভেঙে পড়ে। এছাড়াও নদীটির দু'তীরের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক স্থানে একশ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় মাটি কেটে দিনরাত অবাধে প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে বহন করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের অসংখ্য স্থান ক্ষতবিক্ষত। আর নদীতীরের মানুষরা অজানা আশঙ্কায় থাকে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার। একাধিক নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কারো কোনো প্রতিবাদের সাহস নেই। কেউ যদি প্রতিবাদও করে তবে তার উপর হামলা মামলাসহ নানা অত্যাচার নেমে আসে। ড্রেজারের বিকট শব্দে নদী পাড়ের লোকজন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেও অসুবিধার মুখে পড়ছে। নদীর পাড় দিয়ে দিন-রাত ট্রাক্টর চলাচলে বাসা-বাড়ি ধুলায় নষ্ট যেমন হচ্ছে, তেমনি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। আর এভাবে ভারী ট্রাক, ট্রাক্টর দিয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধের ভেতর থেকে অবাধে বালু ও মাটি বহন করায় এতে চরম হুমকিতে প্রতিরক্ষা বাঁধ। আর এতো কিছু অনিয়ম গোমতীর মূল প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে প্রতিদিন হলেও কারো যেন বিষয়টির দিকে নজর নেই। নদী তীরের একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রভাবশালীরা নদীর বালু, মাটি প্রতিরক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে ভারী ভারী যানবাহনে পরিবহণ করে কোটি কোটি টাকা আয় করছে। তাদের ব্যবহৃত যানবাহনের কারণে গোমতীর দু'তীরের প্রতিরক্ষা বাঁধের বহু স্থান বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ।

আর এসকল ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের মেরামতে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। নদী তীরের বিভিন্ন এলাকার একাধিক লোক জানান, গোমতীর চরে চাষাবাদ করে আমাদের পরিবারের সদস্যরা বছরের পর বছর জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন আর সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। প্রভাবশালীরা তাদের ইচ্ছেমতো যে যখন যেখান থেকে পারছে কেউবা ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন কেউবা মাটি কেটে বিক্রি করছে। ফলে এখন আর আগের মতো গোমতীর চরাঞ্চলে চাষাবাদ হচ্ছে না। ফলে নদী তীরের অসংখ্য কৃষকদের চরম মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। এ বিষয়টি জানতে জেলা ও উপজেলার সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সবখানেই রাজনৈতিক পরিচয়ে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটছে প্রভাবশালীরা। আমাদের পক্ষে সেটা বাধা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাষ্ট্রের টাকায় বাঁধ মেরামতে সরকারের বিপুল টাকা খরচ হচ্ছে। আর প্রভাবশালীরা বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে ভারী যানবাহন দিয়ে সেগুলো পরিবহণ করায় সেই বাঁধ নষ্ট হচ্ছে। সরকার যদি নদীর এই বালু ও মাটি বিক্রি ইজারার মাধ্যমে দিয়ে টাকা নিজেরা আদায় করেেত পারতো তবে সেই টাকা দিয়েই নদীর তীর সংরক্ষণ করা যেত।

এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুজাহিদ জানান, গোমতীর আইলের সিটি কর্পোরেশন অংশে সবটুকু কার্পেটিং করা হচ্ছে। বাকি অংশগুলো পর্যাক্রমে পাকা করা হবে। এসকল অংশ দিয়ে অবৈধ বালু ও মাটিবাহী ট্রাক্টর চলাচলের উপর বেশ কয়েক বার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। প্রয়োজনে আবারো অবৈধ্য বালু উত্তোলন ও পরিবহণের উপর অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ২৫
ফজর৫:০১
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩০
সূর্যোদয় - ৬:২০সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬৭৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.