নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ সফর ১৪৩৯
সিডরকন্যা এক মাসের ডলি এখন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী
আমতলী প্রতিনিধি
ঘূর্ণিঝড় সিডরের সাথে আট ঘন্টা যুদ্ধ করে বেঁচে যাওয়া এক মাস এগার দিনের ডলি এখন তালতলী কবিরাজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। লেখাপড়ার অদম্য বাসনা থাকলেও পারিবারিক দারিদ্রতাই প্রধান অন্তরায়। সেই ভয়াবহ দিনের স্মৃতি তার কাছে নতুন গল্প। পরিবারের ১১ জনকে হারিয়ে মূহ্যমান খলিল। স্বজন হারা বেধনা নিয়ে খলিল আজও কাঁদছে। বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে সিডরের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে যাওয়া এক মাস এগার দিনের কন্যা ডলিকে নিয়ে। সেই ভয়াবহ রাতের অজানা কথা বলে কাঁদলেন পরিবারের ১১ সদস্যকে হারিয়ে বেঁচে যাওয়া খলিল ও তার মেয়ে ডলি। ঘূর্ণিঝড় সিডরের সতর্কবানি সঙ্কেত উপেক্ষা করে তালতলীর আশার চরে বসবাস করেছিল প্রায় ১০ হাজার জেলে পরিবার। ১৮ সদস্য নিয়ে খলিল হাওলাদারের পরিবার তার মধ্যে একটি। তাদের প্রধান কাজ সাগরে মাছ ধরা। রাত নয়টার দিকে সিডর উপকূলে আঘাত হানে। এ আঘাতের দৃশ্য দেখার জন্য বড় ভাই জলিল ও ভগি্নপতি সোহরাফ বাসার বাহিরে বের হয়। এরমধ্যে বাতাসের গতি বৃদ্ধি পেয়ে সাগরের ঢেউ কিনারে আঘাত হানে। ঢেউয়ের আঘাতে বাসা ল-ভ- হয়ে যায়। ওই সময় বাসায় থাকা সবাই বিছিন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় খলিল তার বাবা খালেক হাওলাদার, মা নুরজাহান বেগম, স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও এক মাস এগার দিনের কন্যা ডলিকে আকরে ধরে। ঢেউয়ের তোরে প্রথমে বাবা খালেক হাওলাদার পরে মা নুরজাহান বেগম তার হাত থেকে ছুটে যায়। স্ত্রী আনোয়ারা ও শিশু কন্যা ডলিকে নিয়ে খলিল একটি রশি ধরে কতক্ষণ অবস্থান করে। কিছুক্ষন পরে স্ত্রী আনোয়ারা বেগম স্বামী খলিলকে ডেকে বলে তোমার কন্যাকে তুমি নেও আমি আর পারছি না। এই বলে কন্যাকে স্বামীর হাতে তুলে দিয়ে স্ত্রী আনোয়ারা ছুটে যায়। একা খলিল শিশু কন্যা ডলিকে নিয়ে সাগরে ভাসতে থাকে। কখনো শিশু কন্যাকে দু'হাতে উপরে তুলে রাখে, আবার কখনো মুখ দিয়ে সোয়েটার কামরে ধরে রাখে। তিনবার মৃত্যুভেবে শিশু কন্যাকে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করে আবার বেঁচে রয়েছে ভেবে আগলে ধরে। এভাবে আট ঘন্টা সাগরে ভাসতে থাকে শিশু কন্যা ডলিকে নিয়ে বাবা খলিল। সকাল সাড়ে চারটার দিকে একটি গাছের সাথে খলিল ও শিশু কন্যা ডলি আটকা পড়ে। ওই সময় স্থানীয় মানুষ খলিল ও কন্যা ডলিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। সিডরে ওই পরিবারের বাবা খালেক হাওলাদার, মা নুরজাহান বেগম, স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, বোন রেহেনা বেগম, ভাইয়ের ছেলে সোহাগ, ভাগি্ন শারমিন, খুকুমনি, সীমা, শিউলি, ভাইয়ের মেয়ে দুলিয়া ও বোনের নাতি সোনামনি এ ১১ জন মারা যায়। ১০ জনের লাশ পেলেও স্ত্রী আনোয়ারার লাশ পায়নি। পরিবারের ১১ জনকে হারানোর দুঃসহ বেদনা নিয়ে খলিল তার শিশু কন্যা ডলিকে আকড়ে ধরে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে। সিডরের পরে বাবা খালেক হাওলদারের রেখে যাওয়া ৩০ শতাংশ জমি বিক্রি করে খলিল কোন মতে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করছে।

খলিল হাওলাদার সিডরে আট ঘন্টা যুদ্ধ করে একমাস এগার দিনের শিশু কন্যা ডলিকে নিয়ে বেঁচে যাওয়ার ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আক্ষেপ করে বলেন আমার পরিবারের ১১ জন লোক সিডরে নিহত হয়েছে। ঐ সময় সরকারের পক্ষ থেকে দাফনের জন্য টাকা বরাদ্দ থাকলেও আমার কপালে জেটেনি। সিডরে সবকিছু হারিয়েছি আর সিডরের পরে বাবার রেখে যাওয়া ৩০ শতাংশ জমি হারিয়েছি। ঐ সময় থেকেই সাগরে মাছ ধরা বন্ধ করে দিনমজুরের কাজ করে সংসার পরিচালনা করছি। স্বপ্ন দেখছি শিশু কন্যা ডলিকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করে বেঁচে থাকার কিন্তু অভাবেব সংসার কতটুকু পারি জানি না।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ২৫
ফজর৫:০১
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩০
সূর্যোদয় - ৬:২০সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬৬০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.