নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ সফর ১৪৩৯
ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির জরিপ
নতুন করে আসছে ২ লাখ রোহিঙ্গা
হত্যা-ধর্ষণ-লুটতরাজের অভিযোগ অস্বীকার মায়ানমার সেনাবাহিনীর
হাবিবুর রহমান
নতুন করে আরো ২ লাখ রোহিঙ্গা মায়ানমার সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসছে। এমন তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও মানবিক সাহায্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি)।

সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশে এখন ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে। নতুন করে আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও ২ লাখ রোহিঙ্গা আগমনের ফলে মোট রোহিঙ্গা সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। তাদের মতে, রোহিঙ্গা আশ্রিত কঙ্বাজার এলাকার মানবিক সংকট এখন কল্পনাতীত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

আইআরসি বলছে, তাদের অংশীদার প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন কনট্রে লা ফেইমের (এসিএফ) নেতৃত্বে সম্প্রতি মানবিক সংস্থাগুলো কঙ্বাজার জেলায় আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ওপর জরিপ করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ঐ জনগোষ্ঠীর পুষ্টি নিয়েই মূলত জরিপটি হয়। জরিপে রোহিঙ্গা শিশুদের অপুষ্টির মাত্রা চরমে থাকা এবং তাদের অপুষ্টি যে সার্বিকভাবে জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়ঙ্কর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই তথ্য উঠে এসেছে। রাখাইনে সহিংসতা

বন্ধে চলতি মাসের শুরুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়েছে। গত কয়েক দিনে যারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কঙ্বাজারে এসেছেন তারা বলছেন, সহিংসতার মাত্রা কমলেও রাখাইনে থাকার মতো অবস্থা নেই। সেখানে চরম খাদ্য ও অর্থ সংকট বিরাজ করছে। তাছাড়া নির্যাতনের ভয়ও তাদের তাড়া করছে। তাদের নূ্যনতম নিরাপত্তা নেই।

নতুন যারা এসেছেন তারা বলছেন, তারা তাদের নিজেদের এবং প্রতিবেশীদের বাড়িঘর পুড়তে দেখেছেন। অনেককে চোখের সামনে হত্যা করা হয়েছে। অনেক নারী ধর্ষিত হয়েছেন, মারাও গেছেন। এ অবস্থায় তাদের রাখাইন ছেড়ে আসা ছাড়া ভিন্ন কোনো পথ নেই। অক্টোবরে বিধি নিষেধ কিছুটা শিথিল করতে রাজি হয় মায়ানমার কর্তৃপক্ষ। তারা ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামকে সেখানে খাবার দিতে যেতে দিয়েছে। কিন্তু সমালোচনা রয়েছে তারা যেখানে গেছে সেখান থেকে আক্রান্ত রোহিঙ্গাদের অবস্থান অনেক দূরে। ফলে তাদের অনেকের কাছেই খাবার পৌঁছানো যায়নি।

রাখাইনে আন্তর্জাতিক সংস্থা রেডক্রস বলছে, এখনও যেসব রোহিঙ্গা রাখাইনে রয়েছেন তাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। রেডক্রসের মায়ানমার ডেলিগেশনের প্রধান ফাবরিজ্জিও কারবনির মতে, রাখাইনের ভূ-প্রকৃতিই এর জন্য প্রধান অন্তরায়। সেখানে উঁচু পাহাড় রয়েছে। আছে নদী, জলাভূমি। আর মানুষগুলো (অর্থাৎ ভয়ার্ত রোহিঙ্গারা) রয়েছেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে।

উখিয়া (কঙ্বাজার) সংবাদদাতা জানান, উখিয়া-টেকনাফের ১২টি অস্থায়ী ক্যাম্পে 'রোহিঙ্গা এতিম শিশু সুরক্ষা প্রকল্পে' জরিপের প্রাথমিক কাজ শেষ করেছে সমাজসেবা অধিদফতর। জরিপে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩৭৩ জন এতিম শিশু শনাক্ত করা হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ জরিপের প্রাথমিক কাজ ১০ নভেম্বর শেষ হয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আল আমিন জামিলী। তিনি বলেন, জরিপ প্রাথমিক কাজ শেষ হলেও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকায় জরিপ চলমান থাকবে।

অপরদিকে, মায়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনের রোহিঙ্গাদের চালানো হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ ও লুটতরাজের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সেনাবাহিনীর আভ্যন্তরীণ 'তদন্তের' পরে দেশটির সেনাবাহিনী এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করলে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে 'হোয়াইট ওয়াশ' বলে অভিহিত করে।

মায়ানমারের সেনাবাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও জাতিসংঘ এই নিপীড়নকে পাঠ্যবইয়ে থাকা 'জাতিগত হত্যাযজ্ঞের বাস্তব উদাহরণ' হিসেবে অভিহিত করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল হাই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তোলা ছবিতে প্রদর্শন করেছে পুড়ে যাওয়া বিধ্বস্ত রোহিঙ্গা গ্রাম। বিবিসির দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া প্রতিনিধি জোনাথন হেডের চোখের সামনে সশস্ত্র পুলিশের সামনে উত্তেজিত বৌদ্ধ জনগণ রোহিঙ্গা গ্রামে আগুন দিয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শুরু করা অভিযানের নামে মায়ানমারের সেনাবাহিনীর নিপীড়নে ৬ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশে যে রোহিঙ্গারা পালিয়ে এসেছে তাদের অনেকের শরীরে বুলেটের আঘাত ছিল। তারা জানিয়েছে, বর্মি সেনা ও উগ্র বৌদ্ধ জনতা তাদের গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে এবং বেসামরিক ব্যক্তিদের হত্যা করেছে।

তবে ফেসবুকে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে মায়ানমার সেনাবাহিনী জানায়, তারা কোনো নির্দোষ বেসামরিক ব্যক্তিকে গুলি করেনি, কোনো ধরনের যৌন সহিংসতা বা ধর্ষণ করেনি, কোনো গ্রামবাসীকে হত্যা বা মারধর করা হয়নি, গ্রামবাসীদের সোনা, রূপা, যানবাহন, গবাদিপশু লুটতরাজ করেনি। এছাড়া মসজিদে আগুন দেয়া, গ্রামবাসীকে হুমকি দেয়া ও বাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগও তারা অস্বীকার করে।

সেই দায় তারা চাপিয়েছে রোহিঙ্গা কমিউনিটির অভ্যন্তরে থাকা 'সন্ত্রাসীদের' উপর যাদের তারা বাঙালি বলে অভিহিত করে। ৬ লক্ষাধিক মানুষ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের বিষয়ে সেনাবাহিনী বলে, তাদের সন্ত্রাসীরা এই নির্দেশ দিয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের ভয়ে তারা এটা করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই প্রতিবেদনকে হোয়াইট ওয়াশ অভিহিত করে রাখাইন অঞ্চলে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডারদের সেখানে যেতে দেয়ার আহ্বান জানায় মায়ানমার সরকারের প্রতি।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ২৫
ফজর৫:০১
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩০
সূর্যোদয় - ৬:২০সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৭৩০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.