নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ২২ নভেম্বর ২০২০, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ৬ রবিউস সানি ১৪৪২
শীতের আগমন
আদমদীঘির সাওইলে চাদর-কম্বলের বাজার এখন জমজমাট দামও বেশি
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
শীতের আগমনে আদমদীঘির প্রসিদ্ধ সাওইল বাজার এখন চাদর ও কম্বলের বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। তাঁতি পল্লীগুলোতে এখন চাদর. কম্বল ও শীতবস্ত্র তৈরিতে ধুম পড়েছে। এখন কারিগররা স্ব-পরিবারে এসব শীতবস্ত্র তৈরির কাজে রাতদিন ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে করোনা সংক্রমনে সুতার দাম ও শ্রমিক মজুরী বেশি হওয়ায় চাদর ও কম্বলের দামও বেশি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

বাংলাদেশের তাঁত শিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে চলেছে বগুড়ার আদমদীঘির সাওইল বাজার। স্বাধীনতা পূর্বকালে সাওইল বাজারের তাঁতি কারিগররা তাদের হস্তচালিত মেশিনে মাকু ছানা ব্যবহার করে গামছা ও মশারি তৈরি করে হাটবাজার ও গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করতো। সে সময় তাদেরকে জোলা নামে অবিহিত করা হতো। সমাজে তাদের মর্যাদা ছিল অনেকটাই নিম্নমানের। কালের আবর্তনে ওই সব জোলা কারিগরদের সাথে এখন যোগ হয়েছে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ বিত্তবানরা।

সাওইল বাজার থেকে তাঁতি পল্লী ছড়িয়ে পড়েছে কেশরতা, বিনাহালী, মঙ্গলপুর, মুরইল, দেলুঞ্জ, ছাতনী-ঢেকড়াসহ প্রায় ৭৫টি গ্রামে। যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে তাঁতিরা এখন মাকু ছানার হাত ও পা চালিত তাঁত মেশিনের পরিবর্তে ব্যবহার করছেন বৈদ্যুতিক তাঁত। এখন শুধু গামছা আর মশারিই তৈরি করেননা। তারা উন্নতমানের চাদর, কম্বল শাড়ি লুঙ্গি সুয়েটারসহ নানা ধরনের শীতবস্ত্র তৈরি করছেন। এখানকার তৈরি সামগ্রী শুধু দেশে নয় বিদেশেও রফতানি করা হয়ে থাকে। এখন আর জোলা কারিগর বলে কেউ ডাকেন না। যথেষ্ট সম্মান পার তারা।

আদমদীঘি উপজেলার মুরইল বাসস্ট্যান্ড থেকে উত্তরে অবস্থিত বিখ্যাত সাওইল চাদর ও কম্বল বাজার। এখানে প্রতি বুধবার ও রোববার বৃহৎ হাট বসে। হাটে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে তাদের পছন্দ মতো শীতবস্ত্র ক্রয় করে নিয়ে যান। সাওইল বাজারের এইসব শীতবস্ত্র খুব আকর্ষনীয় ও অল্পমূল্যে পাওয়া যায়। যার কারণে সরকারি, এনজিও প্রতিষ্ঠানসহ ব্যক্তি পর্যায়ে সারাদেশে দুস্থদের মাঝে যে কম্বল চাদরসহ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়, সেই সব শীতবস্ত্রও এখান থেকেই ক্রয় করা হয়ে থাকে। এই বৃহৎ সাওইল হাটবাজারে ব্যাপক বেচাকেনা চললেও নেই কোন সেডসহ উন্নয়ন, যোগাযোগের একমাত্র রাস্তাটির করুন দশা। বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দকে ভরপুর।

স্বাধীনতা পরপর এই শিল্পে এখন আদমদীঘি, আক্কেলপুর, দুপচাঁচিয়া, ক্ষেতলাল, কালাইসহ বিভিন্ন উপজেলার লক্ষাধিক নারী পুরুষ এই তাঁত শিল্প পেশায় জড়িয়ে তাদের কর্মসংস্থান খুঁজে পেয়েছেন। অনেকেই ঋণ গ্রহণ করে তাদের বাড়িতে বৈদ্যুতিক মেশিন স্থাপন করে তাঁত শিল্পের কাজ করছেন। গ্রামগঞ্জের অসংখ্য বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, দুস্থ ও গরিব নারীরা তাদের নিজ বাড়িতে বসে সাওইলের তাঁত শিল্পের উলের সুতা তুলে জীবিকা নির্বাহ করছে।

সাওইল বাজারের কম্বল ও সুতা ব্যবসায়ী আলহাজ এমএ হামিদ আব্বু, মাহফিজুর রহমান, গোলাম মোস্তফাসহ অনেকেই জানান, শীতের আগমনে চাদর ও কম্বল বাজার জমজমাট হলেও করোনা সংক্রমনে সুতা, রং ও শ্রমিক মজুরী বেশি হওয়ায় এবার চাদর ও কম্বলের দামও বেশি হয়েছে। গত শীত মৌসুমে সিঙ্গেল কম্বল ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে এবার তা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা। ডাবল কম্বল ২৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেই কম্বর এ বছর ২৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। চাদর বিক্রি হচ্ছে ২'শ টাকা জোড়া। এবার সরকারিভাবে টেন্ডারের মাধ্যমে কম্বল চাদরসহ শীতবস্ত্র কেনা না হলে অনেক ব্যবসায়ী পথে বসবে বলে তারা জানান।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ৩০
ফজর৫:০২
যোহর১১:৪৭
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২২সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৯৪২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.