নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ২২ নভেম্বর ২০২০, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ৬ রবিউস সানি ১৪৪২
এ সপ্তাহের গল্প
করোনা
সিরাজুল মুস্তফা
রাতের বেলা। মোমেনার মা চুপিচুপি ছেলে-মেয়েগুলোকে ঘুম পাড়িয়ে পুব দুয়ারে খিড়কি দিয়ে বেরিয়ে যায়। কখনো কাউকে না পেয়ে তাড়াতাড়ি ফেরে। কখনো ফিরতে ভোরের আজান। ছেলে-মেয়েগুলোর তখন জাগবার সময় হয়ে যায়। মোমেনার মা আর ঘুমোতে পারে না। সংসারের কাজে লেগে পড়ে। করোনার আগে তার ছিল মোটামুটির সংসার। মোমেনার বাপ একটা প্রাইভেট ব্যাংকের দাড়োয়ান। মাসিক মাইনে পেতো সতেরো হাজার। মাঝে মাঝে আবার বড় স্যারেদের কাছে মিলতো বকশিশ। ভালোই যেতো দিন তার। মোমেনার বড় ভাই সুজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন সুযোগ পেয়েছিল এ গ্রাম থেকে প্রথম, সবার কাছে কি নাম-ডাক। মানুষের ছেলেপেলে পড়িয়ে তার দিব্যি চলে যেত। মাঝেমাঝে বাড়িতে এলে এটা ওটা নিয়ে আসতো। মোমেনার ছিল এক পাল কবুতর। শখের ছিল। তাই সে খুব যতন করে লালন করত। এখন কিছুই নেই। মার্চ মাসে শুরু হলো করোনার প্রাদুর্ভাব। লকডাউন শুরু হলো। কি সোনার সংসার তিন মাসে ভেঙে চুরমার। প্রথমে গেল সুজনের বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে। স্কুল-কলেজ সবই বন্ধ। চারদিকে একের পর এক খারাপ খবর আসতে থাকে। কি বাংলাদেশ কি ভারত বিশ্বের কোনো দেশ রইল না আর বাকি। সবই হয়ে গেল বন্ধ। ছোঁয়াছে রোগ। মানুষ হয়ে গেল মানুষের শত্রু। কেউ কারো সংস্পর্শে এলেই বুঝি এ রোগ ছড়িয়ে যাচ্ছে। রোগের লক্ষণগুলো বড্ড স্বাভাবিক। জ্বর, সর্দি, কাশি এসব কখন হচ্ছে না এখানে! এগুলোই নাকি রোগের লক্ষণ। হাসপাতালগুলো ছেড়ে পালালেন বড় বড় ডাক্তার। অনেকে আবার নিজের জান বাজি রেখে মানুষের জন্য ছেড়ে দিলেন নিজের পরিবার-ঘর-বাড়ি. আত্মীয় স্বজন। বাসা বাড়ির মালিকেরা ডাক্তারদের বাসা থেকে বের করে দিতে থাকে, তাদের মাধ্যমে বিল্ডিং সংক্রমিত হবার শংকায়। বন্ধ হয়ে যায় দোকান-পাট, কল-কারখানা, সরকারি-বেসরকারি সব অফিস আদালত। মানুষ মানুষের মাংস খাবার জোগাড়। চারদিকে কি যে হাহাকার। কারো ঘরে খাবার নাই। অমানবিক মালিকেরা বাসা ভাড়ার জন্য চাপাচাপি করেই যাচ্ছে। ঢাকাই এক মেসের মালিক ভাড়া দিতে বিলম্ব হওয়ায় রুমের তালা ভেঙে তাদের সার্টিফিকেট ছিড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। তাদের ঘরে হরিলুট চালায়। এভাবে চারদিকে নানান খবর বেরোয়। আরো অনেক খবর আসে অসমর্থিত সূত্র ফেসবুকে। বহু নামকরা খবরের কাগজ বন্ধ হয়ে গেছে। সাংবাদিকেরা কেউ কেউ গ্রামে গিয়ে হাল চাষে নামে। কেউ মাটির কাজে নামে। সে কাজও পাওয়া দায়। এই দুর্দিনে কে কাটাবে মাটি। কে রোয়াবে জমিতে ধান মানুষ খাটিয়ে। বউ-ঝি নিয়ে নিজেই নেমে পড়ে যে যার জমিতে। কয়জনের আছে জমি। এভাবে করোনা আর থামে না। জুলাই আগস্ট পেরিয়ে নভেম্বর- তাও থামবার কোনো লক্ষণ নেই। পৃথিবী আর কখনো স্বাভাবিক হবে কিনা এ নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। মোমেনার বাবার চাকরিটাও চলে যায়। মোমেনার মার যত গয়নাগাটি ছিল সস্তায় বিকিয়ে দিয়ে ঘর সংসার চলে কিছুদিন। গরিবের আর কতই বা গয়না থাকে! মোমেনার শখের কবুতরের ঝাঁক আয়েশার মুরগির পাল কিছুই অবশিষ্ট নেই। মোমেনার মায়ের উনুনে দুই দিন হাড়ি চড়ে না। কি যে করবে। বাধ্য হয়ে মোমেনার বাপ নেমে পড়ে ঘর চুরিতে। মোমেনার মা নেমে পড়ে বেশ্যা গিরিতে। এই করে চাল খুদ জোগাড় করে। কেউ না জানার ভান করে। মেম্বার বাড়ির গোয়াল ঘরে তাসের আড্ডা। অমরন্ড মেম্বার। এর মতন খারাপ মানুষ এ পাড়ায় আর দ্বিতীয় কেউ নেই। তার তাসের ঘরে মোমেনার মা পাছা তুলে নাচে। কোমড় দুলিয়ে নেচে তাদের মন মাতায়। কখনো কখনো শরীর ছোঁয়ায়। নিজেকে নিজের ঘেন্না ধরে যায়। কখনো তার এই পৃথিবীটা বড্ড রুক্ষ্ন লাগে। বেঁচে থাকার মানে সে খোঁজে। আত্মহত্যা মহাপাপ। নয়তো কবেই যে সে মরে ফুরিয়ে যেত। বড় আফসোস লাগে তার। বিয়ের পর থেকে মোমেনার বাপ তাকে কখনো এক চামচ নুনের জন্য কখনো কারো বাড়ি পাঠায়নি। এ কথাটি বলতে তার অনেক গরব ছিল। বড় মুখ করে সবাইকে বলতো। কথাটা কি ঈশ্বরের বড্ড লেগেছে। নয়তো তার এমন হলো কেন! সরকারি কিছু রিলিফের মাল পাবার আশায় তাকে একটা বেজাতের লোকের সাথে...ছি! মুখে আনাও যে পাপ। দোজখের আগুন তাকে নেবে তো! মোমেনারাও বসে নেই। সারা বিল সাফ হয়ে গেছে। অনাহারে অর্ধাহারে মানুষ বিলের একটা শাক-লতা রাখেনি। যে যা পেয়েছে সিদ্ধ করে পেটে ঢুকিয়ে কোনো রকম বাঁচার চেষ্টায় নিমগ্ন। অমরন্ড মেম্বারের বাঁদি হওয়ায় কপাল খুলেছে মোমেনার মার। এখন আর উপোস থাকতে হয় না। যত রিলিফ আসে সবই সে পায়। কোনো রকম দিন তার কেটে যাচ্ছিল এমন করে। একদিন ভোর বেলা অমরন্ড মেম্বারের বিছানায় শোয় সে। দাড়োয়ান এসে ডাকে, 'কোটে আছেন কি ঘরোত! মোমেনার বাপক চুরিত ধরা পড়িছে। নোয়াগাঁর লোকজন বাদি মারিছে। ব্যাটা বোধহয় আর বাঁচিবে নাকো।'

মেডিকেলে নেওয়া হলো। মোমেনার মা অমরন্ড মেম্বারের পায়ে পড়ে স্বামীকে বাঁচাতে। কোনো লাভ হয়নি। মেডিকেলের কোনো ডাক্তার দেখেনি করোনার ভয়ে। মেডিকেলের মেঝেতেই লুটিয়ে পড়ে সে। মোমেনার মার কি-যে কাান্না। তবে অমরন্ড মেম্বার মনে মনে খুশি হয়। এখন থেকে মোমেনার মা আর তাকে বলবে না, 'বাবু হামি বড় পাপ করিছি। আমার সোয়ামি জীবিত থুয়ে আমি কি করিছি এসব।' নেশার ঘোরে থাকলেও অমরন্ডর মাথায় ঠিকই এসব ঢুকতো।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ৩০
ফজর৫:০২
যোহর১১:৪৭
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২২সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৯২৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.