নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২
নারী নির্যাতনের দৌরাত্ম্য ও আমাদের করণীয়
মো. শাকিবুল হাসান
সৃষ্টির প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত মানব সভ্যতার যে বিকাশ সাধিত হয়েছে তা নারী-পুরুষ উভয়েরই যৌথ প্রচেষ্টার ফল। সমাজের বা জাতির উন্নতির জন্য পুরুষের পাশাপাশি নারীরও যে বিরাট ভূমিকা রয়েছে তা অনস্বীকার্য। যে সমাজের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা নারী সে সমাজে নারীকে উপেক্ষা করে কোনো প্রকার উন্নতি সাধন করা সম্ভব নয়। ইসলাম ধর্ম সমাজে নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে এবং শিক্ষার অধিকারসহ সকল অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সারা বিশ্বে পুরুষের পাশাপাশি নারীকেও কঠিন কর্তব্য সম্পাদন ও দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ঘরে ও বাইরে তারা কর্মমুখর জীবনের স্বাদ লাভ করছে। পারিবারিক জীবনে তারা সুখ-শান্তির মাধ্যমে পুরুষের জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করে তোলে। এতে পুরুষের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় জীবনে উন্নতির পথ প্রশস্ততর হয়। কিন্তু বর্তমান সমাজে এই নারী জাতিই বেশি নির্যাতিত, অপমানিত, লাঞ্ছিত, অবহেলিত। আজকের সমাজে তাদের শুধুই ভোগের পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতিদিন খবরের কাগজ, টেলিভিশনসহ সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোখ রাখলেই দিনের পর দিন নির্যাতিত নারীদের তালিকা চোখে পড়ছে। সমাজে যেন নারী নির্যাতনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চলতি বছরের ছয় মাসের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংখ্যাগত প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে দেশে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬০১ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে একক নির্যাতনের শিকার ৪৬২ জন এবং দলবদ্ধ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৩৪ জন। নির্যাতিতদের মধ্যে ৪০ জনের বয়স ৬ বছর এবং ১০৩ জনের বয়স ১২ বছরের মধ্যে। এ ছাড়া নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৭ জন নারীকে। আর নির্যাতনের পর আত্মহত্যা করেছেন সাতজন নারী। এছাড়াও পারিবারিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ২৫৩ জন নারী। এর মধ্যে স্বামী ও তার পরিবারের দ্বারা হত্যার শিকার হয়েছে ১৬৩ জন নারী। পারিবারিক নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ৪০ জন নারী। গত ছয় মাসে যৌন হয়রানি ও সহিংসতা, যৌন নির্যাতন ও হত্যা, পারিবারিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, গৃহকর্মী নির্যাতনসহ নারী নির্যাতনের অনেক ঘটনা ঘটেছে এবং প্রতি নিয়ত এসব ঘটনা সচল রয়েছে। একজন শিক্ষার্থী আজকে স্কুল-কলেজ থেকে সুস্থ স্বাভাবিকভাবে বাসায় ফিরবে তার নিশ্চয়তা নেই। একজন নারী চিকিৎসক, গার্মেন্টস কর্মী, শিক্ষিকা বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রতি নিয়ত আতঙ্কের মধ্যে থাকছে। তাদের বাড়ির লোকজন তাদের নিয়ে এক অসম্ভব পরিস্থিতির আশঙ্কায় মুহূর্ত গুনছে। এসব কারণে বর্তমান সমাজে নারীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এটি সমাজে অপরাধমূলক কর্মকা-, সমাজের ভারসাম্য নষ্ট ইত্যাদি আরো অনেক বিশৃঙ্খলামূলক কর্মকা-ের সূচনা করছে, যার শেষ পরিণতি অনেক ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে। সুতরাং এটা সহজেই অনুমেয় যে সমাজে নারী নির্যাতন নামক নিকৃষ্ট এই কর্মকা-টি প্রকট আকার ধারণ করেছে। আর একজন মানুষের মনুষ্যত্ব, বিবেকবোধ কতটা লোপ পেলে সে এমন জঘন্যতম কাজে লিপ্ত হয়! গোটা জাতির জন্য এটা কতটা কলঙ্কজনক। এতে আমাদের সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক হুমকিতে রয়েছে। আমাদের সমাজের জন্য এটি চরম অবক্ষয়ও বটে। অতিদ্রুত যদি এর লাগাম ধরা না হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের জন্য আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। যৌন নিপীড়নের আরেকটি অন্যতম কারণ হলো নারীদের সচেতনতার অভাব। তারা একটি ছেলের মনমানসিকতা, অসৎ উদ্দেশ্য খেয়াল না করে শুধু মুখের মিষ্টি কথায় আবেগের বশবর্তী হয়ে তার সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্নভাবে প্ররোচিত হয়ে সহজেই নিজেকে পরপুরুষের হাতে শপে দেয় বা তার সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে যখন ছেলেটার অসৎ উদ্দেশ্য সামনে আসে তখন সে নির্যাতিত বলে আত্মপ্রকাশ করে এবং বিচারের দাবিতে হন্যে হয়ে ওঠে। যা মোটেই কাম্য নয়। আর সমাজে এরকম অসংখ্য ঘটনা প্রতি নিয়ত ঘটে চলেছে। যা যৌন নির্যাতনের পথকে প্রশস্ত করছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রচুর জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সেই সাথে প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। আর এক্ষেত্রে প্রশাসনের গাফলতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর মতো। তাই নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন, প্রয়োগ এবং যথাযোগ্য শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুশাসন বৃদ্ধি করতে হবে। সব কর্মক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। নারী সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য মানসিকভাবে সাহস যুগিয়ে তাদের মনোবল বৃদ্ধি করতে হবে। এইভাবে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করে উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একদিন আমরা সুস্থ, সুন্দর ও বসবাসযোগ্য রাষ্ট্র গঠনের সার্থকতা অর্জন করতে পারবো।

মো. শাকিবুল হাসান : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজানুয়ারী - ২৭
ফজর৫:২২
যোহর১২:১২
আসর৪:০৬
মাগরিব৫:৪৫
এশা৭:০০
সূর্যোদয় - ৬:৪১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১০১৪৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.