নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২
মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে কড়াকড়ি
মায়ানমারের বিচ্ছিন্নবাদীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হার্ডলাইনে সরকার
দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য প্রবেশ করছে
স্টাফ রিপোর্টার
মায়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপগুলোর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অরক্ষিত সীমান্ত অথবা সমুদ্রপথে বাংলাদেশে ঢুকে তারা নাশকতা চালাতে পারে- এমন আশঙ্কার মধ্যে সতর্কতামূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে করা হয়েছে কঠোর কড়াকড়ি। মায়ানমারের আরাকান আর্মি ও আরাকান লিবারেশন পার্টির (এএলপি) মতো গ্রুপগুলো বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের সাথে যাতে যোগাযোগ না করতে পারে সে ব্যাপারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পাশাপাশি মায়ানমারের নতুন সরকারের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কাজ শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে আস্থা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবেও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সরকার উদ্যোগী। আরাকান আর্মি মায়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী হলেও তারা মুসলিম সংখ্যালঘু জাতি রোহিঙ্গাদের বিরোধী। তাদের নেতার ভাষ্য তারা রোহিঙ্গাদের পক্ষাবলম্বন করে কোনো ফাঁদে পা দেবে না। তাই তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশের অবস্থান কঠোর।

মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের ২৮৮ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এ সীমান্ত দুগর্ম হওয়ার কারণে অনেক স্থান অরক্ষিত অবস্থায় থাকে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সীমান্তসংলগ্ন বাংলাদেশ অংশে ১০৩৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এ সড়কে সীমান্তে টহল বাড়ানো যাবে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হচ্ছে। মায়ানমার সীমান্ত খুবই অপরাধপ্রবণ। ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সীমান্তে টহল বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে এসব অপরাধ কমে আসবে বলে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন। মায়ানমারের দায়িত্বহীন আচরণে বাংলাদেশ খুবই অসন্তুষ্ট। সমপ্রতি মায়ানমার সীমান্তে বেশ কিছু মাইন পাওয়া গেছে। গত ১৫ মার্চ বান্দরবান সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় মনিরুল্লাহ নামে এক রোহিঙ্গা নিহত হন। গত জুলাই মাসে বান্দরবান সীমান্তে দুটি তাজা মাইন পাওয়ার পর তা ধ্বংস করা হয়। অন্যদিকে এএলপি মায়ানমারের সরকারের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছে। এখন তাদের মাঠপর্যায়ের অস্ত্রধারীরা পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র গ্রুপগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে অস্ত্রপাচারের চেষ্টা করছে। তাই তাদের প্রতিরোধ করতে মায়ানমার সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টহল জোরদার করছে। পাহাড়ে বিজিবির তিন ব্যাটালিয়ন সেনা বাড়ানো হচ্ছে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, মায়ানমার সামরিক বাহিনী এসব মাইন পুঁতে রাখছে। কারণ যেসব মাইন উদ্ধার করা হচ্ছে তা এন্টি পার্সোনাল। সামরিক বাহিনী ছাড়া এসব মাইন কেউ তৈরি করতে পারবে না। এ বিষয়ে মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী যতবার বৈঠক করতে চেয়েছে, ততবার তারা বৈঠকে আসেননি। বৈঠক বাতিল করেছেন।

এছাড়া ইয়াবা পাচারে রোহিঙ্গাদের মায়ানমার সীমান্ত রক্ষীরা বাধা দেয় না। এমনিতে রোহিঙ্গারা রাখাইন রাজ্যে ঢুকতে চাইলে তাদের গুলি করা হয়। কিন্তু ইয়াবা পাচারকারী রোহিঙ্গারা রাজধানী নেইপিদো পর্যন্ত চলে যায়।

অপর একটি সূত্র জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো কোনো সশস্ত্র গ্রুপের সদস্য ধরা পড়ার পর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে, তারা মায়ানমার ও ভারতের মিজোরামে আশ্রয় পেয়ে থাকেন। মায়ানমারের সাথে আস্থা বাড়াতে বাণিজ্য বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করেছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। মায়ানমার সীমান্তে একটি স্থলবন্দর স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ স্থলবন্দরটি হলে চোরাচালান কমবে। মায়ানমার থেকে বার্মিজ কাপড়, পেঁয়াজ, ছোলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক কিছু আমদানি হয়ে থাকে। চোরাচালান ছাড়া বৈধপথে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এগুলো আমদানিতে খরচ বেশি হয়। স্থলবন্দর হলে মায়ানমারের সঙ্গে বৈধ বাণিজ্য বাড়বে। এটি দু'দেশের সম্পর্কে আস্থা বৃদ্ধি করবে, যা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি করবে। ফলে এখনই স্থলবন্দরের কাজ শুরু করা উচিত বলে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মনে করছেন। মায়ানমারে ভোটে সু চির এনএলডি জয়ী হয়েছে। অবশ্য রাখাইন রাজ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে নয়টি টাউনশিপে এখনো ভোট হয়নি। আটটি টাউনশিপে ভোট হয়েছে। এতে আঞ্চলিক দলগুলো ভালো করেছে।

মায়ানমারের সাথে ভারত সম্পর্ক জোরদার করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ও সেনাপ্রধান একসঙ্গে মায়ানমার সফর করেছেন। তার পর ভারত ও মায়ানমার যৌথভাবে কাজ করছে। মায়ানমারের ওপর দিয়ে ভারত, মায়ানমার, থাইল্যান্ড ত্রিদেশীয় সড়ক নির্মাণ করছে। সড়কটি ইস্ট ওয়েস্ট করিডোরে যুক্ত হয়ে লাওস, ভিয়েতনাম পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করবে।

মায়ানমারের কালাদান নদী দিয়ে মিজোরামকে ভারতের অপর অংশে সংযোগ স্থাপন করছে। ভারত এত কিছু করলেও বাংলাদেশ মায়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে পারছে না।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজানুয়ারী - ২৭
ফজর৫:২২
যোহর১২:১২
আসর৪:০৬
মাগরিব৫:৪৫
এশা৭:০০
সূর্যোদয় - ৬:৪১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১০১৪০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.