নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২
আবারো উত্তপ্ত রাজনীতির অঙ্গন
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিতর্কে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বললেন-মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয় চরমোনাই পীর-মামুনুল হককে গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের
সফিকুল ইসলাম
দীর্ঘদিন বিরতির পর আবারো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য বিতর্কে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে দেশের রাজনীতির অঙ্গন। সরকারের সদ্য নিয়োগ পাওয়া ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বললেন-মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়। এরইমধ্যে রাজধানীর শাহবাগ অবরোধ করে চরমোনাই পীর-মামুনুল হককে গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামে একটি সংগঠন।

সম্প্রতি রাজধানীর ধোলাইপাড় (চৌরাস্তায়) মোড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেয় রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে। এই (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে সমপ্রতি হেফাজতে ইসলামসহ ৭টি সমমনা ইসলামি দল বিরোধিতা শুরু করে। ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধের দাবি নিয়ে এখনো সোচ্চার তারা। শুরুর দিকে বিষয়টি নিয়ে সরকারি দলের নেতারা চুপ থাকলেও হেফাজতের আমির বাবুনগরীর বক্তব্যের পর এখন তারা চড়া সুরে কথা বলছেন। তবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে একটি গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে বলে মনে করছে সরকার ও আওয়ামী লীগ। তাই এ নিয়ে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নেয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গত শুক্রবার চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আয়োজিত এক মাহফিলে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, আমি কোনো পার্টির নাম বলছি না, কোনো নেতার নাম বলছি না। কেউ যদি আমার আব্বার ভাস্কর্য স্থাপন করে, সর্বপ্রথম আমিই তা টেনে-হিঁচড়ে ফেলে দেব। এ বক্তব্যের পর পরই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, বাংলাদেশের স্থপতির ভাস্কর্য টেনে হিঁচড়ে নামাবে বলে কোনো কোনো ধর্মীয় নেতা ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য রাখছেন, তাদের এমন রুচি এবং ভাষা ব্যবহার দেখে তাদের ধর্মচর্চা ও ইসলামি রুচিবোধ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একইসাথে তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, সরকারের সরলতাকে দুর্বলতা ভাববেন না। জনগণের শান্তি বিনষ্টের যে কোনো অপচেষ্টা করলে জনগণই রুখে দাঁড়াবে। অন্য কোনো পথ না পেয়ে ধর্মীয় ইস্যুকে সামনে এনে ধর্মীয় সহনশীলতা বিনষ্টের যে কোনো অপচেষ্টা সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে।

এ বিষয়টি নিয়ে ইসলামী দলগুলোর কড়া (হেফাজত-চরমোনাই) সমালোচনা করেছেন সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ শীর্ষপর্যায়ের নেতারা। তারা বলছেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য ও বিরোধিতা মানে শিল্প, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যলেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া। এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা সরকার সহ্য করবে না। এর বিরুদ্ধে যে কোনো তৎপরতা সরকার কঠোরভাবে দমন করবে। গত ২৬ নভেম্বর জামেয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসায় আলেমদের এক জরুরি সভায় হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমী মানবমূর্তি নির্মাণ বন্ধের দাবি জানান। গত ১৩ নভেম্বর চরমোনাইয়ের পীর ও ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম ভাস্কর্য নির্মাণের স্থল ঢাকার ধোলাইপাড় এলাকায় এক সমাবেশে বলেন, ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপনের চক্রান্ত তৌহিদি জনতা রুখে দেবে। রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে মূর্তি স্থাপনের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে ফিরে আসতে হবে। সরে না এলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। একই দিনে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হক ঢাকার বিএমএ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে বলেন, বঙ্গবন্ধুর মূর্তি স্থাপন, তার আত্মার সাথে গাদ্দারি করার শামিল। যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন করে, তারা বঙ্গবন্ধুর সুসন্তান হতে পারে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন মুসলিম হিসেবে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। তার মূর্তি তৈরি করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে স্থাপন করা হলে তা হবে বঙ্গবন্ধুর আত্মার সঙ্গে বেইমানি। এ ধরনের বক্তব্যের পরও সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ছিল না। বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন। এরপর গত ১৭ নভেম্বর সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগৈর সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চান। এ সময় কাদের বলেন, বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এর পর দল বা সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো কথা বলা হয়নি। শনিবারই (২৮ নভেম্বর) প্রথম দলের পক্ষে থেকে ওবায়দুল কাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

সরকার ও আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, কৌশলগত কারণে সরকার ও দল এতো দিন চুপ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। যেহেতু ওই গোষ্ঠীটি এখনো অবস্থান থেকে সরে আসেনি, তাই সরকার ও আওয়ামী লীগও অবস্থান স্পষ্ট করবে। বিষয়টি নিয়ে ওই গোষ্ঠী অগ্রসর হওয়ার চেষ্ট করলে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মূর্তি আর ভাস্কর্য এক জিনিস নয়, এটা তাদের বুঝতে হবে। টাকায়ও তো ছবি ব্যবহার করা হয়, আমরা করছি। তারা অনেক কথাই বলছে আমরা শুনছি, দেখছি। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, তারা যেটা বলছে, এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ সব কথা বলছে। এটাকে ইস্যু করে তারা একটা অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়। গণবিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী যে কোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করার ক্ষমতা সরকারের আছে। একইসুরে কথা বলেছেন নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, শিল্প, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিষয়ে কোনো আপস নেই, আওয়ামী লীগ কখনো আপস করেনি। বঙ্গবন্ধু হত্যর বিচার আমরা করেছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করায় হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর চরমোনাই পীর সৈয়দ ফয়জুল করীমকে গ্রেফতারসহ সাত দফা দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ একাংশের (বুলবুল-মামুন) নেতাকর্মীরা। গত ২৮ নভেম্বর বিকেল ৪টায় তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে সংগঠনটি। মহানবী (সা.)-এর অবমাননাকারী ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতাকারী ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল হক ও ফয়জুল করীমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যানারে ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করা হয়। পরে শাহবাগ মোড়ে এসে অবরোধ শুরু হয়। এতে রাস্তা অবরোধ করে রাখায় রাজধানীর শাহবাগমুখী রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সমাবেশে নেতাকর্মীরা মামুনুল হক ও ফয়জুল করীমকে গ্রেফতারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয় : নবনিযুক্ত ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেছেন, মূর্তি আর ভাস্কর্য নিয়ে আমাদের নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি আছে। মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয় এই জিনিসটা যখন আমরা বোঝাতে সক্ষম হব তখন সবকিছুর একটা সমাধান পেয়ে যাব। গতকাল রোববার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে যোগ দিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজানুয়ারী - ২৭
ফজর৫:২২
যোহর১২:১২
আসর৪:০৬
মাগরিব৫:৪৫
এশা৭:০০
সূর্যোদয় - ৬:৪১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১০১১২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.