নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, সোমবার ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২
বিআইডব্লিউটিসির চরম অদূরদর্শিতা অদক্ষতা বিভিন্ন অনিয়ম
অসংখ্য নৌযান অল্পদিনেই বিনষ্ট
স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি * রাষ্ট্রের ক্ষতি অপরিমেয় * এসবের দায় কে নেবে!
স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর প্রকল্প গ্রহণে অদূরদর্শিতা, ঠিকাদারদের পরামর্শে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে অনিয়ম, অপারেশন ও মেরামতে অনিয়মের কারণে বিভিন্ন ধরনের জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি ১০ বছর আগে নির্মাণ করা জাহাজের অবস্থাও একই ধরনের। জাহাজগুলো বছরের পর বছর ডকইয়ার্ডগুলোয় নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। নির্মাণ ত্রুটির কারণে যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি বাঙালি ও মধুমতি লাভের মুখ দেখছে না। এ দুটি জাহাজের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। এ কারণে নতুন জাহাজ বেশিরভাগ সময় বসিয়ে রাখা হয়। পুরনো জাহাজে যাত্রীসেবা দিচ্ছে বিআইডব্লিউটিসি। এতে সংস্থার অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যয় বাড়ছে। অর্থ সংকটের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সংস্থার অর্থ সংকট তৈরি হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেয়া বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু সংস্থার কর্মকর্তাদের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। তারা রাজার হালেই চলছেন।

এদিকে, কেজি দরে বিক্রির অপেক্ষায় উপকূলীয় রুটে চলাচলকারী দুটি সি-ট্রাক। প্রতি কেজি মাত্র ২৫ টাকা। শিগগির জাহাজ দুটি (সি-ট্রাক) বিক্রির জন্য টেন্ডার আহ্বান করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই এ দুটি জাহাজ 'স্ক্র্যাপ' বা ভাঙাড়ি হিসেবে বিক্রির তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অথচ জাহাজ দুটির আয়ুষ্কাল ধরা আছে ২৫ বছর। শুধু এ দুটি জাহাজ নয়, স্ক্র্যাপ হিসেবে সব মিলিয়ে বিভিন্ন ধরনের ১৯টি জাহাজ চলতি বছরেই বিক্রির জন্য তালিকায় রেখেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে তেলবাহী জাহাজ ৫টি। ইতোমধ্যে ৫টি জাহাজ বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। জাহাজগুলো বিক্রিতে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা ও দর কোনোটিই পায়নি সংস্থাটি। বিক্রির কারণ হিসেবে 'পুরাতন, অকেজো ও অলাভজনক' আখ্যায়িত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, বিআইডব্লিউটিসির বিভিন্ন ডকইয়ার্ডে থাকা ৫৭টি নৌযানের তালিকা সমপ্রতি হালনাগাদ করা হয়েছে। তালিকায় দেখা গেছে, বছরের পর বছর ডকইয়ার্ডে বেশ কিছু নৌযান পড়ে আছে, যেগুলোর মধ্যে নতুন জাহাজও রয়েছে। এর একটি হচ্ছে সি-ট্রাক শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত। মাত্র ১০ বছর বয়সী এ জাহাজটি ২০১৭ সালের ২১ অক্টোবর থেকে ভারী মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জের পোতাঙ্গন ডকইয়ার্ডে রয়েছে। এ ছাড়া গত কয়েক মাস ধরে পড়ে আছে ফেরি কিষানি, রজনীগন্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ও বীরশ্রেষ্ঠ মো. রুহুল আমিন। ৫৭টির মধ্যে বেশ কিছু জাহাজ বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। অথচ একের পর এক প্রকল্প নিয়ে জাহাজ নির্মাণ করে যাচ্ছে সংস্থাটি।

এ বিষয় বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান খাজা মিয়া বলেন, বিক্রির তালিকায় থাকা জাহাজগুলোর অবস্থা এতই খারাপ যে, স্ক্র্যাপ হিসেবে ভেঙে বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই। এ কারণে আমরা বুক ভ্যালু (জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত খরচ ধরে হিসাব) নয়, স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করছি। তিনি বলেন, যে দর ধরা হয়েছে সেটিও সরকার নির্ধারণ করে দেয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অয়েল ট্যাংকারগুলো সিঙ্গেল বাটমের (নিচতলা এক স্তরবিশিষ্ট) হওয়ায় আইন অনুযায়ী সেগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ কারণে জলযানগুলো বিক্রি করতে হচ্ছে। সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, বিক্রির তালিকায় থাকা জাহাজের মধ্যে ইতোমধ্যে ৫টি বিক্রি হয়েছে। বাকি ১৪টি বিক্রির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। এর মধ্যে সি-ট্রাক রূপালীসহ তিনটি। তেলবাহী জাহাজের মধ্যে রয়েছে : টি-১০৫১, টি-১০৫২, টি-১০৫৫, টি-১০৫৭ ও টি-কালিন্দি। বাকিগুলো হলো : ফ্লাট ফেরি-থোবাল, টাগবোট এমভি-ইরান, ক্রেন বোট এমএল ব্রেসে, বিবি-১১২৬ ও অন্নতরী-২। বিক্রির তালিকায় থাকা জাহাজগুলোর মধ্যে কম বয়সী দুটি সি-ট্রাক রয়েছে। কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড ২০০১ সালের ডিসেম্বরে এ দুটি নির্মাণ করে। এ দুটি সি-ট্রাক নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। একাধিক কর্মকর্তা জানান, সাধারণত উপকূলীয় রুটে চলা জাহাজের আয়ুষ্কাল ২৫ বছর হলেও এ দুটি জাহাজ ১৫ বছর চলেছে। দুটি জাহাজই কম-বেশি ৫ বছর ধরে নষ্ট পড়ে আছে। এখন জাহাজগুলোকে ভাঙাড়ি (স্ক্র্যাপ) হিসেবে কেজি দরে বিক্রির জন্য তালিকায় রাখা হয়েছে। তারা বলেন, বিআইডবিস্নউটিসির প্রকৌশল বিভাগের অনিয়ম ও দুর্বলতার ফল এসব জাহাজ। একইভাবে টিপি-২ নামের জলযান ২০০০ সালে নির্মাণ করা হয়। বাণিজ্যিকভাবে চাহিদা না থাকার কারণ দেখিয়ে এ নৌযানটি পাঁচ বছর ধরে চট্টগ্রামে চড়াবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় হালের বিভিন্ন অংশ ক্ষয়ে গেছে। এ জাহাজটি কেএম মেরিন নামের একটি প্রতিষ্ঠান ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা সমপ্রতি কিনে নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, বিক্রির জন্য অপেক্ষায় থাকা পাঁচটি অয়েল ট্যাংকার টি-১০৫১, টি-১০৫২, টি-১০৫৫, টি-১০৫৭ ও টি-কালিন্দি ২০১৭ সালেও ভাড়ায় তেল বহন করত। এতে সংস্থা আর্থিকভাবে লাভবান হতো। এসব জাহাজের বয়স ৪০ বছরের বেশি ও সিঙ্গেল বটাম (জাহাজের নিচের অংশ এক স্তরবিশিষ্ট) হওয়ার কারণ দেখিয়ে পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন তেল দেয়া বন্ধ করে দেয়। ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসের মধ্যে পাঁচটি তেলবাহী জাহাজের সব কটি বিআইডব্লিউটিসির ডকইয়ার্ড বাংলা ঘাটে ফেরত আসে। তিন বছর ধরে ওই ডকইয়ার্ডে পড়ে আছে এসব তেলবাহী জাহাজ। এ ছাড়া বিক্রির জন্য থাকা ফ্ল্যাট ফেরি-থোবাল, টাগবোট এমভি-ইরান ও ক্রেন বোট এমএল ব্রেসে ৩০ বছর বা তার বেশি পুরনো। থোবাল, ব্রেসেসহ কয়েকটি জাহাজ নিমজ্জিত অবস্থায় আছে। এ কারণে নদীতে নাব্যতা সংকট তৈরি হচ্ছে জানিয়ে জাহাজগুলোকে অপসারণে বিআইডব্লিউটিসিকে চিঠিও দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। চলতি অর্থবছরের শুরুতে ৭টি নৌযান বিক্রির টেন্ডার করে বিআইডব্লিউটিসি। নৌযানগুলো হচ্ছে : অন্নতরী-২, অন্নতরী-৬, অন্নতরী-৯, বিবি-১১২৬, ফেরি-যশোর, এসটি মিতালি ও টিপি-২। এর মধ্যে ৪টি নৌযানের টেন্ডারে একটি করে ও একটি টেন্ডারের বিপরীতে তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সব কটি প্রতিষ্ঠানই স্ক্র্যাপের নির্ধারিত দরের সামান্য বেশি দর দিয়েছে। বাকি দুটি নৌযানের একটি অন্নতরী-২ নৌযান কেনার টেন্ডারে কেউ অংশ নেয়নি। বাকি একটি বিবি-১১২৬ নৌযানের টেন্ডারে একটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলেও নির্ধারিত দরের অনেক কম দর দেয়ায় সেটি বাতিল করা হয়।

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানায়, অন্নতরী-৬ নৌযানের সংরক্ষিত দাম ২৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৯০ টাকা নির্ধারিত ছিল। টেন্ডারে অংশ নেয়া একমাত্র প্রতিষ্ঠান কেএম মেরিন ২৭ লাখ টাকায় কিনে নিয়েছে ৩৬ বছরের পুরনো এ নৌযানটি। একইভাবে অন্নতরী-৯ জাহাজটির দর ২৫ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও সেটিও কেএম মেরিন ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা দরে কিনেছে। এসটি মিতালির দর ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৭৫ টাকা ধরা হলেও সেটি ৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজানুয়ারী - ২৭
ফজর৫:২২
যোহর১২:১২
আসর৪:০৬
মাগরিব৫:৪৫
এশা৭:০০
সূর্যোদয় - ৬:৪১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১০১৩১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.