নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৫ রবিউস সানি ১৪৪১
রাজনীতির অতিথি পাখি
জহিরুল ইসলাম
রাজনীতি বুঝি না, বুঝতে চাইও না। তবে দেশের ক্ষতি করে এমন রাজনীতিবিদ চাই না। এমন রাজনীতিবিদদের দেখতেও চাই না। ছোট্ট বেলায় পড়েছিলাম রাজার নীতি মানে রাজনীতি। কিন্তু এখন দেখি তা ঠিক নয়। প্রাইমারি স্কুলে পড়ে এমন শিশুরাও রাজনীতি বুঝে। একজন দিনমজুর দিন আনে দিন খায় সেও রাজনীতি করে। রাজনীতি করাটা আমি খারাপ বলছি না। বন্ধুরা বলে রাজনীতি নাকি জনগণের সেবা করা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এমন রাজনীতি দেশের কজন করে। যে বুঝে সেও তর্ক করে। আবার অনেকে কিছু না বুঝেও রাজনীতির তর্ক যুদ্ধে লিপ্ত হয়। আর তখনই বাধে সংঘাত সংঘর্ষ। শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। অস্থিতিশীলতা তৈরি হয় গোটা দেশে।

রাজনীতির নামে বর্তমানের বেশির ভাগ নেতাই নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করেন। একজন অসৎ নেতা পাঁচ বছর রাজনীতি করেই কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান। এমনও দেখা গেছে একজন নেতার কোনো স্বীকৃত ব্যবসা বাণিজ্য বলতে তেমন কিছুই নেই। অথচ নেতা হওয়ার পর বা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর (সম্প্রতি প্রত্রিকায় প্রকাশিত কয়েকজন জনপ্রতিনিধি, নেতা) হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন। অর্থাৎ বিপুল অর্থবিত্তের মালিক বনে যান। তাহলে রাজনীতি কি কোনো ব্যবসা যা দ্বারা দ্রুত কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া যায়। অথবা কোনো আলাদীনের চেরাগ নাকি যে ছুঁয়ে দিলেই কোটিপতি!

এসব রাজনীতিবিদদের আবার কোনো দল নেই। তারা যে দল ক্ষমতায় আসে কোনো না কোনোভাবে তাদের হয়ে যায়। তারা হলো সরকারি দল। অনেকে এদের কাউয়্যাও বলে থাকেন। কেউ কেউ আবার তাদের বসন্তের কোকিল, কেউবা অনুপ্রবেশকারীও বলে থাকেন। তারা কোনো রাজনীতি করেন না। তারা যেকোনোভাবেই হোক নিজেদের আখেড় গোছাতেই ব্যস্ত থাকেন সর্বদা। এরা যেমন দলের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি দেশের জন্যও ক্ষতিকর। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেন এরা। এমন রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার দেরিতে হলেও অভিযান শুরু করেছেন। ধন্যবাদ সরকারকে। এ ক্ষতিকারক ক্যান্সার দেশ থেকে কেটে ছিঁড়ে ফেলতে হবে। তা না হলে আবার অন্য রাজনৈতিক দলে প্রবেশ করে আবারও দেশের ক্ষতি সাধন করবে।

শীত এলেই অতিথি পাখিদের কিচির-মিচির কুজনে গ্রামবাংলার হাওড়-বাঁওড় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এ দৃশ্য গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপই স্মরণ করিয়ে দেয়। অতিথি পাখিদের আগমনে ক্ষতির চেয়ে উপকারই বেশি হয়। পরিবেশের ভারসাম্যসহ অনেক উপকারই করে এই অতিথি পাখির দল। নির্বাচন এলেই রাজনীতিতে বসন্তের কোকিলদের মতো নতুন নতুন নেতারূপী অতিথি পাখিদের আনাগোনা বৃদ্ধি পায়। অতিথি পাখিদের আগমনে সরব হয়ে উঠে রাজনীতির ময়দান। এটা জাতীয় নির্বাচনই হোক আর স্থানীয় সরকারের অধীনে উপজেলা, পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনই হোক। সুসময়ে দলের বড় বড় পদের জন্য তদবির করে যেসব নেতারা দলের দুর্দিনে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। পার্টি অফিসের ধারেও আসেননি তারা। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে দেন-দরবার, তদবির করে তারাই নির্বাচনী টিকিট পেয়ে যান। আবার টাকার জোরে অনেক সময় নির্বাচনী বৈতরণীও পার হয়ে যান সহজে।

অথচ দলের দুর্দিনে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে জেল-জুলুম নির্যাতন সহ্য করে দলকে টিকিয়ে রেখেছেন। সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। বিপদে অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারাই বসন্তের কোকিলদের কাছে আজ পরাজিত হচ্ছেন। তারা টিকিট না পেয়ে হয়ে যাচ্ছে বিদ্রোহী। তৈরি হচ্ছে নতুন আরেকটা দল উপদল। তৈরি হয় নতুন কোন্দল। এই কোন্দল পুরো রাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে। কারো সংসারেও ভাঙন ধরিয়েছে এই কোন্দল।

এসব নামসর্বস্ব দলের জন্য নির্বাচন কমিশনের খরচ বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপতে হাজার হাজার কোটি টাকা গুণতে হচ্ছে কমিশনকে। নির্বাচনে অনেকেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তারপরও তারা রাজনৈতিক দলের নেতা। অনেক দলের উপজেলা পর্যায়ে কোনো অফিসের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় না। তবুও তারা রাজনৈতিক দল। এই অতিথি পাখিদের নির্বাচনী খরচ মিটাতে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্ছা দিতে হচ্ছে। এই টাকার ভার অবশেষে জনগণের কাঁধেই এসে পড়ে। এই রাজনৈতিক অতিথি পাখিদের অথবা বসন্তের কোকিলদের ব্যাপারে ভাববার সময় কি এখনও হয়নি? জনগণকে আর কত কষ্ট দিবেন? রাজনীতিবিদরা একটু ভাবুন। অন্যদিকে উড়ে এসে জুড়ে বসা নেতারা রাজনীতিতে দাবড়াচ্ছে পাগলা গোড়ার মতো। এসব সুবিধাবাদী বসন্তের কোকিলরা ভ্রষ্ট নীতি ধারণ করে পুরো সমাজ, দেশ, জাতিকে করছে কলঙ্কিত কলুষিত। তাদের সঙ্গ নিচ্ছে সমাজের বিপথগামী কিছু যুবক। নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্যে যুব সমাজসহ ছাত্রদের হাতে তুলে দিচ্ছে মরণাস্ত্রসহ মরণব্যাধি মাদক।

বিপথগামী এসব ছাত্রনেতাদের দিয়ে হত্যা, গুম, খুন করছে মেধাবী রাজনীতিবিদদের। গুম করছে বুদ্ধিজীবীদের। হত্যা করছে সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষদের। লোভের কারণে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার নেশাই অতি আগ্রহী হয়ে বিভিন্ন রকমের অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছে খুব সহজেই।

রাজনীতির চেহারা-চরিত্র বদলে গেছে। আগের মতো ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশ বা স্বার্থের কথা ভুলে মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য কেউ রাজনীতি করতে আসে না। আসে নিজের স্বার্থে এবং সম্পদের পাহাড় গড়তে। এদের একটা বড় অংশই বসন্তের কোকিল। তাদের নিজেদের কোনো দল বা আদর্শ নেই, যখন যে দল ক্ষমতায় সে দলের ছত্রচ্ছায়ায় গিয়ে ভিড় জমায়। তার কিছু নমুনা উঠে এসেছে সাম্প্রতিক ক্যাসিনো ও মাদকবিরোধী অভিযানে। প্রশ্ন উঠেছে, এমন রাজনীতি দেশকে কী দেবে বা দিতে পারবে? তাই প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশে শুরু হওয়া বর্তমান অভিযান অব্যাহত রাখা ও আরো জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছে দেশের মানুষ।

রাজনীতিকে অনেকে আজকাল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। অপকর্ম করে নিজের দোষ ঢাকতেও অনেকে রাজনীতির পরিচয় ব্যবহার করেন। সম্প্রতি কিছু রাজনৈতিক নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। তারা রাজনীতির রা-তেও ছিলেন না। বিভিন্ন অপকর্ম করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন। রাজনীতির পদ-পদবিটা ছায়া হিসেবে ব্যবহার করেন। কিছু ছাত্র নেতারাও এমন অপকর্ম করে বেড়ান। যাদের সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমাদের দেশে কিছু শিক্ষক আছেন যারা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে রাজনীতিটাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতিতে জড়িয়ে থাকেন। এমনটা কারোরই করা উচিৎ নয়। পত্রিকান্তে খবর পড়ে বিস্মিত হয়ে গেলাম। ওয়ার্ড কমিশনার গ্রেফতার। তার হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ। অথচ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার আগে ও পরে তাদের কোনো রকম স্বীকৃত ব্যবসা নেই বলে জানা যায়।

রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে চলমান শুদ্ধি অভিযানে প্রতিদিনই উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য। অনেকেই 'আলাদিনের চেরাগ' হাতে পেয়ে কুঁড়েঘর থেকে এক লাফে রাজপ্রাসাদে উঠে এসেছে। জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কৃষক লীগ নেতা নজরুল ইসলাম বিশ্বাস কিভাবে বিশ্বাস বিল্ডার্সের মালিক হলেন, কিভাবে কুঁড়েঘর থেকে হ্যালিপ্যাডসংবলিত রাজপ্রাসাদ বানালেন, কিভাবে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়ে গেলেন। র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জু।

টিকাটুলির রাজধানী সুপারমার্কেট ও নিউ রাজধানী সুপারমার্কেটে চাঁদাবাজিসহ আশপাশের এলাকায় অবৈধ দখলদারি ও মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ পর্যন্ত চার শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক সেসব হিসাবের তথ্য চেয়েছে, যা তারা তদন্ত করে দেখবে। বাংলাদেশ ফিন্যানসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা ইউনিটও অবৈধ আয় ও তার উৎস অনুসন্ধান করছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, শুদ্ধি অভিযান বেশ জোরেশোরেই এগিয়ে চলেছে।

রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন অনেক আগেই শুরু হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে এক ধরনের অনীহা তৈরি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে রাজনীতি সম্পর্কেই মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। এমন শুদ্ধি অভিযান আরো আগেই শুরু করা উচিত ছিল। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, তা হয়নি। বর্তমান শুদ্ধি অভিযান দীর্ঘদিনের জনপ্রত্যাশারই প্রতিফলন। একে এগিয়ে নিতে হবে এবং আরো জোরদার করতে হবে।

দেশের রাজনীতির একটা নিয়ম করা দরকার। কোনো রাজনীতিবিদ দল পরিবর্তন করতে পারবে না। বিশ্বের অনেক দেশেই এমনটা দেখা যায় না। এক দল থেকে বাদ পড়লে অন্যদল তাকে লুফে নিতেও দেখা যায় এখানে। যা কাম্য নয়। নিজ দল থেকে বাদ পড়া রাজনীতিবিদরা অনুপ্রবেশ করে যে অন্য দলের ক্ষতি করবে না এমন গ্যারান্টি কি তারা দেন। অনুপ্রবেশকারী শুধু ক্ষতিকরই নয় বরং ভয়ঙ্করও বটে। যা আমরা বর্তমান শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে লক্ষ্য করেছি। তৃণমূল থেকে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাজনীতিবিদ নির্বাচন করা হোক। শিক্ষিত, সৎ, মেধাবীদের রাজনীতিতে সুযোগ করে দেয়া হোক। রাজনীতিবিদরা জনগণের সত্যিকার অর্থে সেবকে পরিণত হোক। পেট পূজার রাজনীতি নয়, আমাদের সত্যিকারের আদর্শ রাজনীতিবিদ, দেশপ্রেমিক খুবই দরকার। সত্যবাদী, আদর্শ, শিক্ষিত, নীরহঙ্কারী, দেশপ্রেমিক ও মেধাবী রাজনীতিবিদরাই দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

জহিরুল ইসলাম : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ৯
ফজর৫:০৮
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৯সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৯৭৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.