নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৫ রবিউস সানি ১৪৪১
মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট : আরবের ভূমিকা ও প্রেমিকা কাহন
মোমিন মেহেদী
বিশ্ব রাজনীতিতে সৌদি আরবের তেমন কোনো ভূমিকা নেই। ভূমিকা আছে ছলাকলার মধ্য দিয়ে অসংখ্য নারীর জীবন ধ্বংস করায়। বিশেষ করে একাধিক বিয়ে, পত্নী-উপপত্নী-প্রেমিকা নিয়ে অন্ধকারে জীবনযাপন আর নির্যাতন-নিষ্পেষণের রাজত্ব হিসেবে ব্যাপক পরিচিত হতেও তাদের জুড়ি নেই। যদিও আরব বিশ্ব অস্থিতিশীল করে তোলা এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদে মদদ দেয়ার অভিযোগে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে উপসাগরীয় ছয় প্রতিবেশী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ইয়েমেন, লিবিয়া ও মিসর। পরে এ তালিকায় যোগ দিয়ে মালদ্বীপও কাতারের সঙ্গে তাদের ৩৩ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছেদ করার ঘোষণা দিয়েছে। কাতারের সঙ্গে সীমান্ত আটকে দিয়ে স্থল, নৌ ও আকাশপথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করেছে রিয়াদ। উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের নাগরিকদের কাতারে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছে এবং ১৪ দিনের মধ্যে কাতারের নাগরিকদের দেশ ছেড়ে যেতে বলেছে। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে আরব অঞ্চলে একঘরে কাতার। এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের বড় সঙ্কট হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সঙ্কটের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা মুসলিম দুনিয়া নয়, এর বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজনৈতিক এই সঙ্কটের অনিবার্য প্রভাব পড়ছে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও। কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন, তাদের ভাগ্য বিবেচনায়ও এই সঙ্কট আমাদের জন্য বিশেষভাবে দুর্ভাবনার। সম্পর্ক নির্মাণ বা উন্নয়ন করতে না পারলেও মুসলমানরা এখন নিজেদের ভাগ্যকে কোনো কোনোভাবে বাস্তববিমুখ করে তুলছে। যে কারণে আজ যন্ত্রণা কাতরতায় ডুবে যাচ্ছে।

ইতিহাসের আয়নায় চোখ রাখলে দেখা যায়- প্যালেস্টাইনসহ কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। সমপ্রতি তার পুনরাবৃত্তি ঘটল আরেকবার জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের মাধ্যমে। ইরাক ও সিরিয়ার তথাকথিত গৃহযুদ্ধ ও রক্তপাতের আড়ালে প্যালেস্টাইনে নির্যাতন, নিপীড়ন ও রক্তপাত কখনো বন্ধ হয়নি। ইসরাইলিদের প্যালেস্টাইনে ভূমি দখল এখন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। হত্যা রক্তপাত প্রতিদিন রুটিন কর্মসূচি হিসেবে ইসরাইলিরা ঘটিয়ে চলেছে। যে বিশ্ব সবসময় প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার জন্য সোচ্চার ছিল আজ জরুরি হয়ে পড়েছে তাকে আবার জাগ্রত করা। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি বিশ্বের সব নিপীড়িত জনগণের সঙ্গে থাকার আদর্শে বিশ্বাস করে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বমানবতার সমর্থন আমরা পেয়েছি। এ ঋণ আমাদের পরিশোধ করতে হবে প্রতি মুহূর্তে।

৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত চলে আসছে, তার অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে মানা হয় যুক্তরাষ্ট্রকে। একমাত্র যে দেশ ইসরাইলের ওপর সরাসরি প্রভাব বিস্তারে সক্ষম, সে হলো এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ দুই দেশ কৌশলগত মৈত্রীতে আবদ্ধ। এ দুই দেশে সরকার বদল হয়, নতুন নেতা আসেন, কিন্তু তাদের কৌশলগত আঁতাতের কোনো পরিবর্তন হয় না। যুক্তরাষ্ট্র বরাবর নিজেকে মধ্যপ্রাচ্য সমস্যার নিরপেক্ষ 'সমঝোতাকারী' হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে থাকে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নিরপেক্ষতার অর্থ আগে ইসরাইলের স্বার্থ, তারপর অন্য কথা। অনেকেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ একপেশে নীতি তার নিজের জাতীয় স্বার্থবিরোধী। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বব গেইটস সরাসরিই বলেছেন, বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ভিতর যে মার্কিনবিরোধী মনোভাব তার পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যনীতি। তা সত্ত্বেও ইসরাইল প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তিত হওয়ার লক্ষণ নেই। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের দোকানদারি করে বেড়ানো এ রাষ্ট্রটির অবস্থানও সবসময় এ ইস্যুতে স্ববিরোধী। ট্রাম্প মুখে বলছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল ফিলিস্তিনের মধ্যে মহান শান্তিচুক্তি করাতে চায়। অথচ কাজটা ঠিক উল্টো। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি সেই বিপরীত মনোভাব স্পষ্ট করে। যদিও ট্রাম্পের এ সমর্থনে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্রের সায় নেই। ইইউ, রাশিয়া, চীন, ইরান তো নয়ই, এমনকি সম্প্রতি ভারতও একে সমর্থন করেনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার আমলে গাজায় গণহত্যাকে সমর্থনযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে ইসরাইলের এ আগ্রাসনকে তাদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে সাফাইও গাওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইসরাইলকে প্রতি বছর তিন বিলিয়ন ডলার সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য দিয়ে থাকে। ইসরাইলের বিরুদ্ধে যে কোনো মুভমেন্ট ঠেকাতেও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সহায়তা করেছে এমন অভিযোগ পুরনো।

১৯৮৮ সালের ঘোষণার সময়ে কোনো অঞ্চলেই পিএলওর নিয়ন্ত্রণ ছিল না, তারা যে অঞ্চলগুলো প্যালেস্টাইনের বলে দাবি করেছিল বাস্তবে সেগুলো ইসরাইলের দখলে ছিল। আরবরা দাবি করেছিল, ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ দ্বারা প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। যে প্রস্তাবে ইসরাইলের পাশাপাশি গাজা ভূখ- ও ওয়েস্ট ব্যাংক এবং অন্যান্য ভূখ- নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা ছিল এবং জেরুজালেমকে ঘোষিত রাষ্ট্রের রাজধানী আখ্যা দেয়া হয়েছিল। জাতিসংঘ এখনো প্যালেস্টাইনকে প্রতীকী ও ভবিষ্যতের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে। ১৯৭৪ সালে আরবলিগ শীর্ষ বৈঠকে স্থির হয়েছিল, পিএলও ফিলিস্তিনের জনগণের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি এবং ও তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছিল। ২২ নভেম্বর ১৯৭৪, থেকে প্যালেস্টাইন ও পিএলওকে 'রাষ্ট্রহীন-সত্তা' রূপে পর্যবেক্ষক অবস্থায় রাখা হয়েছে। যারা কেবল জাতিসংঘে তাদের বক্তব্য রাখতে পারেন, কিন্তু ভোট দেয়ার কোনো ক্ষমতা নেই। দল ছিল ফাতাহ ও হামাস। কিন্তু রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে ও ক্ষমতা নিয়ে হামাস ও ফাতাহর মধ্যে বিরোধ হয়। যার ফলে ফিলিস্তিনের প্রধান দুই অংশ ওয়েস্ট ব্যাংক ফাতাহ সরকারের অধীনে চলে যায়। আর অন্যদিকে গাজা ভূখ-ে হামাস সরকার গঠন করে। হামাসকে ঘিরেই গাজায় সঙ্কট তৈরি করে ইসরাইল। ইয়াসির আরাফাত চরম সঙ্কটময় অবস্থায় ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। চেষ্টা করেন দেশটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য। ১৯৯১, ১৯৯৩ ও ২০০০ সালে আরাফাত ইসরাইলের সঙ্গে শান্তিচুক্তির মাধ্যমে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটানোর প্রয়াস নেন। যদিও রাজনৈতিক দল হামাস শুরু থেকে তার এ শান্তিপূর্ণ মনোভাবের বিরোধিতা করে। ২০০৪ সালে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দ্বারা গৃহবন্দি অবস্থায় ইয়াসির আরাফাতের রহস্যময় মৃত্যু ঘটে। বলা হয়, তাকে রাসায়নিক বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পুনঃতদন্ত শুরু হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ প্রভাবে তাদের অন্যতম মিত্র ফ্রান্স তা মাঝপথে বন্ধ করে দেয়। এমন অসংখ্য ঘাত-প্রতিঘাতময় আরব্য এলাকায় অবশ্য সম্পর্কোচ্ছেদকারী দেশগুলোর অভিযোগ, আইএস, আলকায়েদা, মুসলিম ব্রাদারহুডসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনকে নিয়মিত অর্থ এবং অস্ত্র সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে দোহা। পাশাপাশি উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের পক্ষে অব্যাহত প্রোপাগা-া ও প্রচারণায় লিপ্ত রয়েছে তাদের রাষ্ট্রীয় সহায়তা লালিত টেলিভিশন আল জাজিরা। প্রতিবেশীদের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় কাতার বলেছে, যেসব অভিযোগ তুলে প্রতিবেশীরা ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ভিত্তিহীন। কাতারকে কব্জায় নিতেই এই উদ্যোগ।

বাংলাদেশের রাজনীতি সচেতন নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে বলবো- দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। সামপ্রতিক এই ঘটনা অস্থিরতাকে আরো বাড়িয়ে তুলবে। যেহেতু দেশগুলো শুধু প্রতিবেশীই নয়, একই অর্থনৈতিক অঞ্চলের, তাই তাদের মধ্যে সৃষ্ট টানাপড়েনে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর প্রভাব পড়বে অন্য দেশগুলোর ওপরও। ক্ষতিগ্রস্ত হবে মুসলিম বিশ্ব। এমন ধারণা পর্যবেক্ষক মহলের। জাতিসংঘের হিসাবে মানবসম্পদ উন্নয়নে আরব দুনিয়ায় সবার ওপরে কাতার। প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তেলের সম্ভারে বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে কাতার। সেই সঙ্গে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী দেশ কাতার। কাতারের প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত বড়সড় কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কূটনৈতিক সঙ্কটের অর্থনৈতিক ফল অবিলম্বেই পড়ছে। কূটনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত পরিবর্তনের পরিণতিতে ইতোমধ্যেই ধস নেমেছে কাতারের স্টকমার্কেটে। কাতারে খাদ্য সঙ্কট সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাতারের তথা মধ্যপ্রাচ্যের এই সঙ্কট আমাদের জন্য যে কারণে বিশেষভাবে উদ্বেগের তাহলো, বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য একটি শ্রমশক্তি নিয়োজিত রয়েছেন কাতারে। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশিরা নানারকমভাবে সঙ্কটাপন্ন হতে পারেন। কাজেই মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটে বিচক্ষণতার সঙ্গে আমাদের অবস্থান ব্যক্ত করা প্রয়োজন। কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের অবস্থার প্রতি বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের। এমন পরিস্থিতিতে একজন মানুষ হিসেবে, মুসলমান হিসেবে, সর্বোপরি বাংলাদেশের মতো দ্বিতীয় বৃহত্তর মুসলিম দেশের রাজনীতি-শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি-অর্থনীতি ও কূটনৈতিক কর্মী হিসেবে মনে করি- মধ্যপ্রাচ্য এই সঙ্কট থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসবে, সেক্ষেত্রে সৌদি আরবের রাজপরিবারকে নারী লিপ্সুতা থেকে বেরিয়ে এসে ধর্ম-মানুষ-রাষ্ট্রর কথা ভেবে আলোচনায় বসে প্রতিবেশী দেশগুলোর দ্রুত মতপার্থক্যের অবসান ঘটানোই হবে উত্তম কাজ।

একই সাথে বলে রাখি আশার খবর- বছর দুয়েক আগে গ্যাস সমৃদ্ধ উপসাগরীয় ছোট্ট দেশটির বিরুদ্ধে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবরোধ আরোপ করে সৌদি আরব। এরপর এ সম্মেলনে কাতারের অংশগ্রহণকে দুই দেশের সম্পর্কের বড় বিনির্মাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দোহার বিরুদ্ধে রিয়াদের অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সহায়তার মাধ্যমে সৌদি আরবের প্রভাব ক্ষুণ্ন করতে চাচ্ছে কাতার। আরব আমিরাত উপকূলে তেল ট্যাংকারে ও সৌদি তেল পাম্পিং স্টেশনে হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের ভূমিকা নিয়ে উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার জরুরি বৈঠক ডেকেছে সৌদি আরব। এতে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। এমন একটা পরিস্থিতিতে গত দুই বছরের মধ্যে এই প্রথম লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দর নগরীতে দোহার কূটনীতিকদের মধ্যে একজনকে বহন করে নিয়ে যাওয়া বিমান অবতরণের অনুমতি দিয়েছে সৌদি আরব। একইসাথে গত দুই বছর ধরে কাতারের সব ফ্লাইটের জন্য সৌদি আকাশ যেমন বন্ধ ছিল, তেমন নারাখার ব্যাপারেও ভাবছে বলে ভালোও লাগছে। যদিও সৌদি আরব, বাহরাইন ও আরব আমিরাতের সঙ্গে ভিন্ন মত পোষণ করে ইরানি পরমাণু চুক্তিতে নিজের সমর্থন অক্ষুণ্ন রেখেছে কাতার। কাতার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের চেষ্টা করলেও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি প্রভাব কাটছাটে তেহরানের ওপর মার্কিন চাপ প্রত্যাখ্যান করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চটাতে চায়নি। কাতারের গ্যাস ও তেল স্থাপনা যাতে ইরানি ছায়া বাহিনীর হামলার শিকার না হয়, অর্থনৈতিক স্বার্থে সেটা নিশ্চিত করতে চাচ্ছে দেশটি। অবশ্য গণমাধ্যম বলছে- উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি কাতারে অবস্থিত। পাম্পিং স্টেশনে ড্রোন হামলার নির্দেশ দিয়েছে ইরান বলে অভিযোগ করে আসছে সৌদি আরব। ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাওয়া হুতি বিদ্রোহীরা। ইরান ওই হামলার দায় অস্বীকার করেছে এবং দেশটির রাজনীতিবিদরা বলছেন, তারা কোনো সামরিক সংঘাতে জড়াতে চান না। যদি তাই হয়, তাহলে কেন এত সংশয় আর দ্বন্দ্ব? বন্ধ হোক কালোর উন্মাদনা আরবের পক্ষ থেকে, বেরিয়ে আসুক কালোপ্রেমের বেড়াজাল থেকে ধর্ম-দেশ ও মানুষের জন্য নিবেদিত হতে...

মোমিন মেহেদী : সাংবাদিক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১০
ফজর৫:০৮
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৯সূর্যাস্ত - ০৫:১১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪১৪৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.