নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৫ রবিউস সানি ১৪৪১
নারীকর্মীরা যতদিন সৌদিতে থাকবেন তার দায়-দায়িত্ব রিক্রুটিং এজেন্সির
স্টাফ রিপোর্টার
অতীতে নারীকর্মী সৌদি আরব যাওয়ার পর তিন মাস পর্যন্ত দায় বহন করতো রিক্রুটিং এজেন্সি। এখন থেকে নারীকর্মীরা যতদিন সৌদি আরব থাকবেন তার দায়-দায়িত্ব সৌদি ও বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিকে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা। সমপ্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানান তিনি।

গতকাল সোমবার সকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির বৈঠক নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। গত ২৭ নভেম্বর সৌদি আরবের রিয়াদে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সৌদির শ্রম ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে তৃতীয় জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা এবং সৌদির পক্ষে শ্রম ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি অ্যাসিসটেন্ট মন্ত্রী জাবের আবদুর রহমান আল মাহমুদ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। সৌদি প্রতিনিধি দলে শ্রম মন্ত্রণালয় ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও শ্রম সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে রিয়াদে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির সভায় নেওয়া আরও সিদ্ধান্তের মধ্যে আছে- নারী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এ-সংক্রান্ত আইটি প্ল্যাটফর্ম মোসানেদে কর্মীর বিস্তারিত ঠিকানা, সৌদি ও বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি এবং নিয়োগকর্তার পূর্ণ যোগাযোগের ঠিকানা, নারীকর্মীর নিয়োগকর্তা পরিবর্তন সংক্রান্ত তথ্যাদি, নারীকর্মীর আগমনের তারিখ এবং নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তরের তারিখ, প্রত্যাবর্তনকারী গৃহকর্মীর 'এঙ্টি' সংক্রান্ত তথ্যাদি সনি্নবেশিত করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে নিয়োগকর্তা পরিবর্তন, নতুন চুক্তি নবায়ন ও এঙ্টি সংক্রান্ত তথ্যাদি ছাড়া অন্যান্য তথ্যাদি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট তথ্যাদি হালনাগাদের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান সচিব। এ ছাড়া সৌদি কর্তৃপক্ষ মোসানেদ সিস্টেমে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি 'অ্যাপ্রুভাল উইন্ডো' স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, যেসব নারীকর্মী কাজ ছেড়ে পলাতক রয়েছেন তাদেরকে পুলিশ কোনোভাবেই নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তর করবে না। নারীকর্মী যতদিন কর্মরত থাকবেন ততদিন তার দায়-দায়িত্ব বাংলাদেশ ও সৌদি রিক্রুটিং এজেন্সি বহন করবে। যেসব নারীকর্মী প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছে তারা প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত তাদের আবাসন ও অন্যান্য দায়িত্ব রিক্রুটিং এজেন্সি বহন করবে। নারীকর্মীরা কর্মকাল পূর্ণ করলে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট এজেন্সি বহন করবে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবে। যদি নারীকর্মী মেয়াদ শেষে কাজ করতে চান তাহলে অবশ্যই চুক্তি নবায়ন করতে হবে এবং এ নবায়ন বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। চুক্তি নবায়নের পর সংশ্লিষ্ট এজেন্সি এ-সংক্রান্ত তথ্যাদি মোসানেদে আপলোড করবে। এছাড়া, কোনও বিপদগ্রস্ত নারীকর্মীর সুরক্ষার বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠলে সৌদি ডিপার্টমেন্ট অব প্রোটেকশন অ্যান্ড সাপোর্ট দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। সংশ্লিষ্ট শ্রম কল্যাণ উইং বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনবেন। বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি সাধারণ চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি আলোচিত হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানান, এ বিষয়টি এখনও পরীক্ষাধীন রয়েছে এবং আগামী জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হবে। আদালতে মামলা করার পদ্ধতি আরও সহজ করার বিষয়ে দু-পক্ষ একমত হয়। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোকে শিগগিরই জানাবে। সব কর্মী যাতে চুক্তির কপি পেতে পারেন এ লক্ষ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের বিদ্যমান স্বাস্থ্য বীমা পর্যাপ্ত নয়। অসুস্থ কর্মীদের চিকিৎসা নিশ্চিতের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্বাস্থ্য বীমা করার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ কোম্পানি/নিয়োগকর্তাদের বাধ্য করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়। সৌদি আরবের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো যাতে বাংলাদেশের কাছে দায়বদ্ধ থাকে সেজন্য একটি নির্দেশনা জারি করা হবে বলে জানান সচিব। সেলিম রেজা বলেন, সৌদি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো যাতে আমাদের দূতাবাসের কাছে দায়বদ্ধ থাকে, সে ব্যাপারে একটি নির্দেশনা জারি করতে যাচ্ছি। আমাদের দেশ থেকে এখন যে নারীকর্মীরা যাচ্ছে, তাতে দূতাবাসের কোনও অ্যাপ্রুভাল সিস্টেম বর্তমানে নেই। কিন্তু আমরা মিটিংয়ে বলেছি, 'মোসানেদ' সিস্টেমে দূতাবাসকেও একটা অ্যাপ্রুভাল উইন্ডো দিতে হবে। সৌদি কর্তৃপক্ষ নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে। তবে যেহেতু এটা একটি টেকনিক্যাল ব্যাপার, তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি রাস্তা বের করবে বলে জানিয়েছে। সেলিম রেজা আরও বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং আমরা যার যার সাইড থেকে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা আলোচনা করেছি। আমাদের এখন যে নীতিমালা আছে, তা সংশোধন করছি। তাতে রিক্রুটমেন্ট সিস্টেমে আমরা একটি বড় ধরনের পরিবর্তন করবো। এটা আমরা শিগগিরই করবো, সৌদি কর্তৃপক্ষও তাদের সিস্টেম রিফর্ম করবে যাতে আরও সুসঙ্গত হয়। এছাড়া ভিসা ট্রেডিংয়ের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান সচিব। তিনি বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে তাদের সাইড থেকেও ভিসা ট্রেডিংয়ের মতো কাজ হয়। আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের রাষ্ট্রদূত এবং আমি বিষয়টি তুলে ধরেছি। তারা বলেছে তাদের পক্ষ থেকে এটা বন্ধে পদক্ষেপ নেবে। এই বিষয়ে আমরা যৌথভাবে কাজ করবো। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, অতিরিক্ত সচিব মো. নাজীবুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব সাবিহা পারভীন, যুগ্ম সচিব জাহিদ হোসেন, যুগ্ম সচিব মো. সারোয়ার আলমসহ অনেকে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১০
ফজর৫:০৮
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৯সূর্যাস্ত - ০৫:১১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪১৬৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.