নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন
পাহাড়ে এখনো থামেনি প্রাণঘাতী সংঘাত
শান্তিচুক্তির ২১ বর্ষপূর্তি উদযাপন
খাগড়াছড়ি থেকে নুরুল আলম
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২১ বছর পূর্তিকে ঘিরে পাহাড়ে চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে পার্বত্যবাসীদের মধ্যে এখনো নানা প্রশ্ন বিদ্যমান। ২ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে বর্তমান সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্যে দিয়ে এখানকার দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান ঘটানো হয়।

বাস্তবে ২১ বছর পূর্তিকালে এ রক্তপাত বন্ধ হয়েছে কিনা এ নিয়েও নানা প্রশ্ন পার্বত্যবাসীর মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে। ভ্রাতি্বঘাতী সংঘাত, চুক্তির পক্ষ-বিপক্ষ বিভক্ত হয়ে পাহাড়ে সন্ত্রাস চাঁদাবাজি জনজীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে। জনসংহতি সমাতি ভেঙে জেএসএস সংস্কার, ইউপিডিএফ ভেঙে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) আঞ্চলিক সংগঠনের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও পূর্বের পার্বত্য জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফতো আছে। এসব সংগঠনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে খুনাখুনি চলছে প্রতিনিয়ত। ফলে পার্বত্যবাসী নানা সংশয় ও সংকটে থাকে।

পার্বত্য শান্তিচুক্তির বাস্তবায়নের আলোকে বর্তমান সরকার পাহাড়ে ব্যাপক উন্নয়ন পরিবর্তন ঘটালেও তা পাহাড়ে যেন অমস্নান হয়েছে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত আর চলমান সহিংসতায়। পাহাড়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা চিকিৎসা, বিদ্যুৎ, কৃষি, যোগাযোগসহ নানা উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। চুক্তির পর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ গঠন, খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি-বান্দরবান তিন পার্বত্য জেলায় পরিষদ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদে ৩০টি বিভাগ, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদে ৩০টি বিভাগ, বান্দরবানে ২৮টি বিভাগ হস্তান্তর করা হয়।

এসব পরিষদে চেয়ারম্যান, সদস্য নিয়োগ দিয়ে দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ করে দেয়া হয়। যে সরকার ক্ষমতায় আসে সে সরকারের লোকজন এখানে মনোনীত হয়ে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নির্বাচিত হন। ফলে এসব পরিষদগুলোতে জবাবদিহিতা না থাকাতে এখন নানা অনিয়মে সঠিক উন্নয়নে ব্যাহত হচ্ছে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের।

এখানে চার হাজার পাড়া কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ ও রাঙ্গামাটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, বিদ্যুতের সঞ্চারণ লাইন সম্প্রসারণ ও সাব-স্টেশন স্থাপন, ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেঙ্ নির্মাণ, ভারত প্রত্যাগত উপজাতি শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও অভ্যন্ত্যরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ সংক্রান্ত টাস্কফোর্স গঠন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পতি কমিশন গঠনসহ নানবিধ উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে।

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষে খাগড়াছড়ি রিজিয়ন ও জেলা পরিষদ ব্যাপক অনুষ্ঠানমালার মধ্যে দিয়ে দিনটি পালিত হয়েছে। গত রোববার দিনটি পালনে সকাল সাড়ে ৮টায় পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ হতে এক বর্ণ্যঢ্য র‌্যালি বের হয়ে খাগড়াছড়ি টাউন হল প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হবে। টাউন হলে সকাল ১০টায় আলোচনা সভার আয়োজন। খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে বিকাল ৩টা থেকে শুরু হবে মনোজ্ঞ সম্প্রীতি কনসার্ট। এতে রাঙ্গামাটি ও স্থানীয় জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনা ছাড়াও ঢাকা থেকে আসা বিখ্যাত ব্যন্ড 'সোলস' এর পরিবেশনা ও থাকবে। এসব অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুল হক, এনএসডবিস্নউসি, পিএসসি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী।

১৯৯৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে জনসংহতি সমিতির সভাপতি বর্তমান আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে সন্তু লারমা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় স্বাক্ষর রাখেন।

এরই ধারাবাহিকতায় এই স্টেডিয়ামেই দিনটি পালনের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। এ আয়োজনকে ঘিরে খাগড়াছড়িতে মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বহু পর্যটক ও সমতল জেলার লোকজন শান্তিচুক্তির অনুষ্ঠানমালা উপভোগ করতে গত শনিবার থেকেই খাগড়াছড়িতে অবস্থান নিয়েছে।

এসবের পরও পার্বত্য চুক্তির ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও পাহাড়ের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ রক্তের হলিখেলা বন্ধ না হওয়ার অভিযোগ এনে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে ভিন্ন ভিন্নমত। জুম্ম গেরিলা যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসলেও বর্তমানে স্বশস্ত্র সংঘাতের ফলে পাহাড় আজো অস্থিতিশীল। ফলে পাহাড় আজো সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের জনপদ।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর সুন্দরবন হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি দাবি করে বর্তমান সরকার পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়নে আন্তরিক নয় বলে অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্য জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান বোধি প্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা। তিনি অভিযোগ করেন, 'শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে চরম দুর্নীতি, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি, দলীয়করণ, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের অসদিচ্ছা ও অনীহা, শাসকগোষ্ঠীর সৃষ্ট পার্বত্য চুক্তি ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী সশস্ত্র সংগঠনসমূহের অত্যাচার ও অনাচার, বেআইনি অনুপ্রবেশ ও ভূমিবেদখল, গ্রেফতার, তল্লাশি অভিযান, মিথ্যা মামলা, দমন পীড়নের ফলে আজ জুম্ম জনগণ গভীরভাবে শঙ্কিত ও শাসকগোষ্ঠীর উপর ক্ষুব্ধ।'

চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং মৌলিক বিষয়সমূহসহ দুই-তৃতীয়াংশ ধারা এখনো অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়েছে অভিযোগ করে সন্তু লারমা সরকারের মন্ত্রী, এমপিরা পার্বত্য চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন, চুক্তির ৮০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে, সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিক, এ সরকারের আমলেই চুক্তির অবশিষ্টাংশ সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে উল্লেখ করে আসলে সবই অপপ্রচার বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাহাড়ের চলমান বাস্তবতায় পাহাড়ে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া সম্ভব নয় বলেও সন্তু লারমা।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ১৪
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৫
মাগরিব৫:৩৭
এশা৬:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৫৫সূর্যাস্ত - ০৫:৩২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৭৩৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.