নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
প্রচারণায় নয়া কৌশল
এগিয়ে আছে আওয়ামী লীগ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আতঙ্কে বিএনপি
বিশেষ প্রতিনিধি
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় ঐতিহ্যগত ধারার চেয়ে এগিয়ে আছে ডিজিটাল নানা মাধ্যম। যার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ওয়েবসাইটসহ আরো অনেক নতুন নতুন কৌশল। এজন্য ইতোমধ্যে বিজ্ঞাপনী সংস্থা, বিজ্ঞাপন নির্মাতা এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে যারা কাজ করেন তারাও যুক্ত হয়েছেন। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে 'পোস্ট' দেয়ার জন্য ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ বানানো হচ্ছে। আছে আকর্ষণীয় 'স্টিল' বিজ্ঞাপনও। এসব বিজ্ঞাপনে সেলিব্রেটি ছাড়াও সাধারণ মানুষদের মডেল হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে। ডিজিটাল প্রচার-প্রচারণায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এগিয়ে থাকলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আতঙ্ক বিরাজ করছে বিরোধী শিবির বিএনপিতে।

নির্বাচন কমিশনের আইন ও নিয়ম অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হওয়ার কথা নির্বাচনী প্রচারণা। কিন্তু বাস্তবে অনলাইন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে আরো অনেক আগে।

প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন কেনার সময়ই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শুরু হয় কৌশলী প্রচারণা। দলীয় মনোনয়নপত্র কেনার পরই প্রার্থী বা তাদের সমর্থকরা তা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের নানা মাধ্যমে 'পোস্ট' করে তাদের মাঠে থাকার কথা জানান দিয়েছেন। এরপর দলীয় মনোনয়নপত্র চূড়ান্ত হওয়ার পর মনোনয়নের চিঠি হাতে পেয়ে আরেক দফা প্রচারণা চলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। যারা দলের মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে পেরেছেন, তাদের কেউ কেউ ফেসবুক লাইভে এসে মনোনয়ন পাওয়ার কথা জানিয়ে দোয়াও চেয়েছেন তার নির্বাচনী এলাকা ও দেশবাসীর কাছে।

জানা গেছে, এবার নির্বাচনী প্রচারণায় দলগুলো বিজ্ঞাপনী সংস্থা, বিজ্ঞাপন নির্মাতা এবং ডিজিটাল মার্কেটিং যারা করেন, তারাও যুক্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে 'পোস্ট' দেয়ার জন্য ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ বানানো হচ্ছে। আছে আকর্ষণীয় 'স্টিল' বিজ্ঞাপনও। এসব বিজ্ঞাপনে সেলিব্রেটি ছাড়াও সাধারণ মানুষদের মডেল হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে।

ডিজিটাল নির্বাচনী প্রচারণায় এগিয়ে আছে আওয়ামী লীগ। প্রার্থীরা এখনো আলাদাভাবে তেমন প্রচার-প্রচারণা শুরু না করলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নানা ধরনের 'ভিডিও ক্লিপ' তৈরি করা হয়েছে। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার সাথে সাথে আছে সব ধরনের ভোটারকে আকৃষ্ট করার নানা 'ভিডিও ক্লিপ' ও 'টেমপ্লেট'। সেখানে মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন ও উন্নয়ন-ভাবনা চুম্বক আকারে তুলে ধরা হচ্ছে। এমনকি সাংবাদিকদের কাজের সুবিধার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে 'গণমাধ্যম সহায়িকা' নামে ১০টি বুকলেটের একটি সেটও তৈরি করা হয়েছে। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক শাহ আলমগীরের সম্পাদনায় এসব বুকলেট তৈরিতে কাজ করেছেন দক্ষ পেশাজীবীরা। যা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে গণমাধ্যম সহায়িকাগুলো হলো- ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ বিকাশ, পরিবেশ সুরক্ষা, একটি বাড়ি একটি খামার ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, আশ্রয়ণ প্রকল্প ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি।

অন্যদিকে বিএনপিও ডিজিটাল মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে-এমনটাই ইঙ্গিত দিলেন যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গিয়াস উদ্দিন মামুন। গতকাল বুধবার দৈনিক জনতা'র সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, অবস্থার দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে ডিজিটাল প্রচারণায় বিএনপি একটু পিছিয়ে তবে প্রচার-প্রচারণার প্রস্তুতির কাজ করে যাচ্ছে দলটি। এক প্রশ্নের জবাবে গিয়াস উদ্দিন মামুন বলেন, আমাদের দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বেশ কিছু বিষয় মাথায় রেখে তবেই কাজ করতে হয়। তার মধ্যে অন্যতম হলো-সদ্য পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। সরকারি দলের লোকেরা যা করতে পারে আমাদের পক্ষে তা করা সম্ভব নয়। কারণ দেশে একটি আইন বিদ্যমান রয়েছে। সরকারি দলের লোকেরা ঢালাওভাবে যা বলতে পারে আমরা তা পরছি না। মূলত এ কারণেই আমরা একটু সময় নিচ্ছি। তিনি বলেন, তবে আমাদের দলও ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমকে নির্বাচনী প্রচারণাকে গুরুত্ব দেবে। আমরা সেভাবেই কাজ করছি। আমাদের মূল 'ফোকাস' থাকবে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। বিএনপি কখনো ডিজিটালের দিক থেকে পিছিয়ে নেই উল্লেখ করে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির এই সদস্য বলেন এবার বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন লন্ডন থেকে স্কাইপে। যা বন্ধ করে দেয়ার পরও তিনি বিকল্প ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। ফেসবুক লাইভে এসে নেতাকর্মীদের নির্বাচনী দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্বাচনে এই পদ্ধতি তারেক রহমান অব্যাহত রাখবেন বলে জানান যুবদলের এই নেতা।

এদিকে বেসরকারি টিভি চ্যানেলের জন্য সরকারের পক্ষে বেশ কিছু ডকুমেন্টরির কাজ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। যা নির্বাচনের আগ মুহূর্তে প্রচারিত হবে-এমনটাই বলছিলেন নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশটা যে ডিজিটাল প্রযুক্তির দিকে যাচ্ছে, তার সুবিধা সবাই নিতে পারেন। এবার নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় ডিজিটাল প্রযুক্তিই এগিয়ে থাকবে। এই নির্মাতার মতে, এটা আমি প্রাণের তাগিদেই করছি। টাকা-পয়সা এখানে মূল কথা নয়। আরো অনেকগুলো কাজ করবো নির্বাচনের আগে। গানের ভিডিও-ও করবো। সেগুলো ইউটিউবেও যাবে। তিনি জানান, আমরা একদম 'মাস' লেভেলে গিয়ে ছোট ছোট ডকুমেন্টরির কাজ করছি। পদ্মা সেতু নিয়ে একটি কাজ করেছি পদ্মা সেতু এলাকায় গিয়ে। সেখানকার সাধারণ মানুষই কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্যও যাবে।

ইতোমধ্যে প্রার্থীদের এই প্রচারণায় সহায়তা দিতে আলাদা আলাদা গ্রুপ তৈরি হয়েছে। তারা শুধু ফেসবুক বা ফেসবুক পেজ নয়, ওয়েবসাইট খুলেও নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর সাথে জড়িত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং ডিজিটাল মার্কেটার সুমন জাহিদ জানান, এ গ্রুপগুলোতে ওয়েবপেজ ডেভেলপার, কন্টেন্ট প্রোভাইডার, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এঙ্পার্ট, ভিডিও এডিটর-সবই থাকছে। এ রকম অনেকগুলো গ্রুপ এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। এবার ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে আ'লীগ। তার মতে, এবার ফেসবুক ছাড়াও ইউটিউব, টুইটার ও ইন্সটাগ্রাম ব্যবহার হবে নির্বাচনী প্রচারণায়। তিনি বলেন, প্রচলিত ধারার মিছিল, মিটিং, শোভাযাত্রা, পোস্টার প্রচারপত্র তো থাকছেই। কিন্তু ডিজিটাল ও অনলাইন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে একটা 'ওয়েভ' তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে মূল 'ফোকাস' থাকবে উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে চমকপ্রদ সব ডিজিটাল প্রচার থাকবে। তার কথায়, নির্বাচন কমিশনের নীতি মেনে পোস্টার ব্যানার ও বিলবোর্ডেও আধুনিকতা আসছে। এখন সব প্রিন্টই জিজিটাল প্রিন্ট। মোবাইল, এসএমএস এবার নির্বাচনের প্রচারণায় বড় একটি জায়গা দখল করবে বলে মনে করা হচ্ছে। আর অল্প খরচে 'বাল্ক এসএমএস' দেয়ার জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। ঢাকাসহ শহর এলাকায় ভোটারদের ফোন নম্বর সরবরাহের প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে। টেলিফোন অপারেটররা সরাসরি সহায়তা করবেন না।

নির্বাচনী প্রচারণায় উভয় দলই অংশ নিচ্ছেন তারকা বা সেলিব্রেটিরা। এজন্য দু'দলই এলাকাভিত্তিক টিম এবং 'সিডিউল' তৈরি করছে। এবার নির্বাচনী ফ্যাশনেও আসতে শুরু করেছে পরিবর্তন। নৌকা মার্কার শাড়ি বা ধানের শীষের টি শার্টের বিজ্ঞাপন এরই মধ্যে চোখে পড়েছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৭
ফজর৫:১৩
যোহর১১:৫৫
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৮
এশা৬:৩৬
সূর্যোদয় - ৬:৩৪সূর্যাস্ত - ০৫:১৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫৩০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.