নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯
৭ জেলে অপহৃত ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি
সুন্দরবনে দস্যুবাহিনী ফের অপ্রতিরোধ্য জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক
খুলনা ব্যুরো থেকে বি এম রাকিব হাসান
কোনভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না মুক্তিপণের দাবিতে জলদস্যুদের অপহরণ বাণিজ্য। সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের তা-ব যেন মগের মুল্লুক। অভিযানের পর অভিযান আর দস্যুবাহিনীর দফায় দফায় অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ কোনটাই দস্যু নির্মূলে কাজে আসছে না। এক বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর গড়ে ওঠছে নতুন দস্যু বাহিনী। সর্বশেষ সুন্দরবনে আরও ৭ জেলে পূর্ব সুন্দরবনের হরমাল ও চরাপেটুয়া এলাকা থেকে গত রোববার ভোর রাতে ৭ জেলেকে দস্যুরা ধরে নিয়ে গেছে। এদের মধ্যে ২ জনের মুক্তিপণ বাবদ ১০ লাখ টাকা দাবি করেছে দস্যুরা। এর আগে শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে অপহৃত দুই জেলে গত রোববার সকালে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেয়েছে।

একের পর এক জেলে অপহরনের ঘটনায় বনসংলগ্ন এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বন বিভাগ ও জেলে মহাজন সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন ছাপড়াখালী এবং চাঁদপাই রেঞ্জের কলামূলা এলাকায় অবস্থানরত জেলে বহরে বনদস্যু সুমন বাহিনী ও ছোট্ট বাহিনী পরিচয়ে সশস্ত্র দস্যুরা পৃথক হামলা করে। এসময় তারা শরণখোলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জেলে সরোয়ার আকন (৩০), ছগির খান (৩৪) ও মানিক হাওলাদার (৩২)সহ ২০ জেলেকে জন প্রতি ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে। ঘটনার দু'দিন পরে অপহৃতদের মধ্যে উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের আঃ হক আকনের পুত্র সরোয়ার দস্যুদের ৩০ হাজার টাকা ও মোড়েলগঞ্জের গুলিশাখালী গ্রামের এক জেলে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে গত রোববার সকালে ফিরে এসেছে বলে উত্তর রাজাপুর এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী ও ইউপি সদস্য জাকির হোসেন জানিয়েছেন। তবে দস্যুরা তাদের বেদম মারধর করে আহত করেছে। এদিকে ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছে, গত রোববার ভোর রাতেও বনের হরমাল ও চরাপেটুয়া এলাকা থেকে শরণখোলার দক্ষিণ রাজাপুর মাঝেরচর গ্রামের নাছির তালুকদারসহ ৬/৭ জন জেলেকে দস্যুরা ধরে নিয়ে গেছে। দস্যুদের হাতে আটক ছগির ও মানিকের মুক্তিপণ বাবদ দস্যুরা ১০ লাখ টাকা দাবি করেছে বলে মানিকের পিতা হেমায়েত হোসেন জানিয়েছেন। তিনি জানান, গত পরশু দুপুরে মোবাইল ফোনে দস্যুদের সাথে তার কথা হয়েছে এবং দাবিকৃত টাকা না পেলে তাদেরকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। দস্যুদের হাতে জিম্মি অন্য জেলেদের বাড়ি বরগুনা ও পাথরঘাটাসহ বনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন গ্রামে বলে জেলেদের সূত্রে জানা যায়। কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন মংলা অপারেশন কর্মকর্তা লেঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, জেলে অপহরণের বিষয়টি তাদের জানা নেই, তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি। এছাড়া জেলেদের নিরাপত্তার জন্য তাদের টহল ব্যবস্থা সর্বদা জোরদার রয়েছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত